যে ৭টি কারণে ইফতারে সুমিষ্ট পেঁপে অবশ্যই রাখবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া কমিয়ে বেশি বেশি ফল রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কাঁচা বা পাকা—সব পেঁপেই উপকারী। পেঁপে এর স্বাদ ও গুনাগুণের জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফলের মধ্যে একটি। পেঁপেতে আছে প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে পুষ্টি, ভিটামিন এ, সি, কে, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, প্রোটিন। অত্যন্ত সহজলভ্য এই ফলটি যাদের ডায়াবেটিকস আছে তারাও খেতে পারেন। তাই ইফতারিতে সহজপাচ্য পাকা পেঁপে কিংবা পেঁপের জুস খেতে পারেন, এতে পুষ্টির চাহিদা বেশ মিটবে। আসুন জেনে নেই ইফতারে পেঁপে খেলে আরো কি কি উপকার মিলবে।

১. সংক্রমণ প্রতিরোধ: দেহের ভেতরে কোনো পরজীবী থাকলে তা বের করে দেয় পেঁপে। যেকোনো সংক্রমণ এবং এসংক্রান্ত জটিলতাও সামাল দিতে কার্যকর এই ফল।

২. দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে: পেঁপের বোঁটা এবং মূল থেকে বানানো পেস্ট দাঁত ও মাড়িতে লাগালে ব্যথায় স্বস্তি মেলে। পুরনো এই টোটকাকে সমর্থন করে বিজ্ঞান।

৩. অ্যান্টিক্যান্সার উপাদান: বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে স্তন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারসহ বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সারে উপকারী পেঁপে। গবেষণাগারে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষে পেঁপের উপাদান প্রয়োগের পর দেখা যায়, ওই কোষের বৃদ্ধি কমে এসেছে। পশ্চিমা চিকিৎসায় অ্যান্টিক্যান্সার ক্ষমতাধর হিসেবে পেঁপে বেছে নেওয়া হয়।

৪. ত্বকের যত্ন: ত্বকে যেন নতুন প্রাণ দিতে পারে পেঁপে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রসাধনে এর ব্যবহার ঘটে। পেঁপেতে রয়েছে নিরাময়ক এনজাইম। এগুলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ফুসকুড়ি ওঠা ত্বকে লাগালে আরাম মেলে। দেহে থেকে যাওয়া বিষাক্ত উপাদানগুলোকে বিদায় দিতে কাজ করে পেঁপে। বেশির ভাগ সময়টা যাঁরা বাইরে কাটান তাঁদের ত্বকের যত্ন নিতে পটু এক ফল পেঁপে। মুখ ও হাতের ত্বকে পেঁপে লাগিয়ে দেখুন, তাত্ক্ষণিকভাবেই মসৃণ হয়ে গেছে। একজিমাসহ ত্বকের অন্যান্য সমস্যায়ও পেঁপে কার্যকর।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে: যেসব স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ওজন কমানোর চিন্তায় আছেন, তাঁরা পেঁপের ওপর ভরসা আনতে পারেন। ইফতারে তো বটেই, অন্যান্য সময় বিকেলে বা সন্ধ্যায় বড় এক বাটি পেঁপে খেলে পেটও ভরবে, আবার ওজনও আসবে নিয়ন্ত্রণ।৬. মেকুলার ডিজেনারেশন:

৬. এটা চোখের এক রোগ। এতে আক্রান্ত হলে অকুলার কোষগুলোর শক্তিমত্তা কমে আসে। এতে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়। সাধারণত বয়সের কারণে এ রোগ দেখা দেয়। মেকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি হ্রাস করে পেঁপে। পাশাপাশি বিটা ক্যারোটিন উল্টো দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে দেয়।

৭. আর্থ্রাইটিস: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস সামলাতে পেঁপে ভূমিকা রাখে। এই ফলে রয়েছে এক বিশেষ উেসচক, যার নাম কেমোপাপাইন। এই এনজাইম জটিল রোগের পথ্য হয়ে ওঠে। সাবধানতা: গর্ভবতী নারীদের জন্য পেঁপে খাওয়ার সীমা বেঁধে দেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া এটি একটি গরম ফল হিসেবে বিবেচিত। কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপের কষ জরায়ুতে সংকোচন ঘটায়, যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। এর কালো বিচিতে রয়েছে কারপাইন নামের এক ধরনের উৎসেচক। ইন্টারন্যাশনাল বায়োপার্ক ফাউন্ডেশনের ইনফরমেশন অ্যাবাউট মেডিসিনাল প্লান্টস অব দ্য পেরুভিয়ান আমাজন বিভাগের গবেষণায় বলা হয়, কারপাইন প্যারালাইসিস বা কার্ডিয়াক ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *