ঘুমানোর আগে নিয়মিত মধু খেলে দেহে যা ঘটতে শুরু করে!

প্রায় ৪ হাজার বছর আগে থেকেই থেকেই ওষুধ ও রূপচর্চার উপাদান হিসেবে মধু একটি জনপ্রিয় উপাদান। প্রাচীন কালে মিশরে মধু ব্যবহৃত হতো ব্যথা ও ক্ষত সারাতে। গ্রীকরা বিশ্বাস করতো যে মধু দীর্ঘ জীবন লাভ করতে সহায়তা করে। খাবার হিসেবেও এর জুড়ি নেই। এসবের পাশাপাশি ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা করা বা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য মধুর বহুল ব্যবহারের কথা আমরা জানি, কিন্তু আমাদের এমন কিছু বিষয় জানা নেই যেসব কারণে বিজ্ঞানীরা একে সুপার ফুড হিসাবে আখ্যায়িত করেন। বিভিন্ন খাবারের সাথে মধু মেশালে খাবার যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ১ চা চামচ মধু খলে এবং সারা রাত ধরে এর উপকারগুলো দেহকে নিতে দেওয়ার মাধ্যমে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনার দেহে এর আশ্চর্যজনক ফলাফল পাবেন। এই সুপার ফুডটি রাতে আমাদের দেহে কিভাবে কাজ করে তার কিছু বিষয় আমরা আপনার জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি।

১. একটি শুভরাত্রি: মধুতে ট্রিপ্টোফ্যান নামক একটি উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে, যা আমাদের শরীরকে প্রশান্ত করে ঘুমের রাজ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি করে। ট্রিপ্টোফ্যান এক ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড যা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এটি আমাদের দেহে উৎপন্ন হয় না। তাই মধুর মত যেসব খাবারে ট্রিপ্টোফ্যান রয়েছে সেসব খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এর অভাব পূরণ করতে হয়। অনেক সময় আমরা মাঝ রাতে জেগে উঠি। এর পেছনে কারণ হলো, ঘুমের মধ্যে আমাদের মস্তিষ্কের গ্লাইকোজেন নামক একটি রাসায়নিকের চাহিদা বেড়ে যায়, যা পাওয়ার জন্য কিডনিতে অবস্থিত অ্যাডরিনালিন গ্রন্থিকে অ্যাডরিনালিন এবং কর্টিসোল নিঃসরণের জন্য জাগিয়ে তোলে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। খুশির খবর হলো মধুতে গ্লাইকোজেন আছে, তাই রাতে ঘুমানোর আগে মধু খেলে ঘুমের মধ্যে অ্যাডরিনালিন গ্রন্থির কর্মতৎপরতা রোধ করা যায়।

২. রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে: উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড-প্রেশারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কেননা, অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব সহজে ধরা যায় না। আবার ধরা পড়ার পর এর সঠিক চিকিৎসা না হলে বা প্রেশার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো রাতে ঘুমনোর আগে মধু খাওয়া। মধুতে রয়েছে অলিগোস্যাকারাইড নামের একধরণের কার্বোহাইড্রেট। এটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রক্তনালীকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড, যা সিস্টোলিক ব্লাড-প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে শুরু করবে: রক্তে ক্ষতিকর চর্বি কোলেস্টেরল নিয়ে অনেকে সচেতন থাকেন। কিন্তু ট্রাইগ্লিসারাইড সম্পর্কে সবাই হয়তবা অতটা জানেন না। রক্তে চর্বি নানান রূপে উপস্থিত থাকে, সেগুলোরই একটির নাম ট্রাইগ্লিসারাইড। ট্রাইগ্লিসারাইড মূলত একধরনের চর্বি। খাদ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট বাড়তি ক্যালরিকে মানুষের শরীর ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে মেদকোষে শক্তি হিসেবে জমা রাখে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী এই ট্রাইগ্লিসারাইড বেরিয়ে এসে শরীরে শক্তির চাহিদা মেটায়। কিন্তু নানা কারণে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বা পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সৌভাগ্যবশত মধু আমাদের শরীর থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড দূর করতে পারে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে শুরু করবে: বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যকটেরিয়াল উপাদানের উপস্থিতির কারণে মধু ব্যাকটেরিয়ার মত জীবাণুদের বিরুদ্ধ লড়ায়ের জন্য আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে। প্রতিরাতে ১ চা চামচ পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস আমাদের দেহের সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫. দ্রুত মেদ ঝরাতে শুরু করবে: সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, মাত্র তিন সপ্তাহেই আপনি আপনার বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে পারবেন এই মধু খেয়েই। কোনো জটিলতর চিকিৎসাপদ্ধতির সাহায্যে নয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত স্রেফ বিশুদ্ধ মধু খেয়েই। গবেষণায় এই মধু খাওয়ার বিষয়টিকে হানি বা মধু ডায়েট হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। হানি ডায়েটের প্রবক্তা মাইক দেখেছেন, যেসব অ্যাথলেট ফ্রুকটোজসমৃদ্ধ খাবার—যেমন মধু খান, তাঁরা প্রচুর মেদ ঝরাতে সক্ষম হন। পাশাপাশি তাঁদের কর্মক্ষমতা বা কর্ম-স্পৃহাও বাড়ে অনেক। এর কারণ হিসেবে মাইক বলেছেন, মধু খেলে পাকস্থলী থেকে বাড়তি গ্লুকোজ তৈরি হয়। আর এর কারণে মস্তিষ্কের সুগার লেভেল বেড়ে যায়, যা মেদ কমানোর হরমোন নিঃসরণের জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করে। কাজে কাজেই মেদ কমার সুযোগ তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *