শরীর বিষমুক্ত রাখুন এই ৭টি উপায়ে

দৈনন্দিন জীবন যাপনে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে জমতে থাকে নানারকম বিষাক্ত পদার্থ। কিছু পদার্থ রেচন প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কিছু ঘামের সঙ্গে বের হয়। একটা অংশ শরীরে জমা হয়। এই বিষ জমতে জমতে একসময় ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত গোসল করে যেমন শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, তেমনি শরীরের ভিতরটাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। একে বলে ডিটক্সিফিকেশন৷ অর্থাৎ, শরীর বিষমুক্তকরণ। প্রতিটি মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য তার শরীর বিষমুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন। নিয়মিত সহজলভ্য কিছু খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীর থেকে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো দূর করতে পারি।

১. তিতা খাবার: তিতা খাবার আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিরতার পানি অথবা করলা কিংবা নিমপাতার রসের জুড়ি নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতে নিমপাতা পরিচিত একটি ঔষধি উপাদান। চর্মরোগসহ নানা রোগ সারাতে নিমের তুলনা নেই। এখন তো বিভিন্ন জায়গায় নিমের চা কিনতে পাওয়া যায়। পানিতে নিমপাতা সিদ্ধ করে খেলে ত্বক ভালো থাকে। ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে বলে নিমের চা লিভারের জন্য উপকারী।

২. লেবু: লেবুতে আছে একগুচ্ছ ডিটক্স ডাইট যা টক্সিন নামক বিশেষ প্রকার জৈব, যা বিষ নির্মূলে সহায়তা করে। এছাড়া লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা দাঁত ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। তাছাড়া লেবুর ক্ষারীয় প্রভাব আপনার শরীরে অম্লতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। প্রতিদিন এক ফালি লেবুর সাথে গরম পানি আপনার শরীর থেকে বিষ নির্মূল করবে।

৩. রসুন: আমরা সবাই জানি হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে উপকারী খাদ্য রসুন। এতে রয়েছে এলিসিন নামক রাসায়নিক উপদান যা রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন ও টক্সিন নির্মূলে সাহায্য করে। রসুন কাচা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। মেক্সিকো ও স্পেনে কাশি ও ঠাণ্ডাজ্বরের দাওয়াই হিসেবে রসুন চা খাওয়া হয়। রসুনের চায়ে যে সালফার থাকে, তা শরীর ডিটক্সিফাই করে।

৪. গ্রিন টি: এখনকার সময়ে সচেতন এমন কোনো ঘর নেই, যেখানে গ্রিন টি পাওয়া যাবে না। শরীর বিষমুক্ত করতে গ্রিন টি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তাই গ্রিন টি শরীরের টক্সিন দূর করে ও রোগ সারিয়ে তোলে। ওজন কমানোর ডায়েটে গ্রিন টি থাকবে সবার উপরে। তাছাড়া এটি হূদরোগ, ডায়াবেটিস ও আলজেইমার্স হওয়ার ঝুঁকি দূর করে।

৫. টাটকা ফল: তাজা ফলে আছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও কম ক্যালোরি যা শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানগুলো নির্মূলে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে চোখ ও ত্বককে উজ্বল করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়।

৬. কাঁচা হলুদ: শরীর ও ত্বক দুটোরই টক্সিন দূর করে কাঁচা হলুদ। পানিতে কাঁচা হলুদ কুচি ১৫ মিনিট সিদ্ধ করুন। ছেঁকে গ্লাসে রেখে দিন সহনীয় মাত্রায় ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত। কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক রক্ত পরিষ্কারক। এটি পিত্তরস তৈরি করে ও লিভারের টক্সিন দূর করে।

৭. গরম পানি: বিষ নিষ্ক্রিয় করতে গরম পানি পানের বিকল্প নাই। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা দিন ধরে বারবার অল্প অল্প করে গরম পানি পানে শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যাতে রোগ নামক সব ভিলেনরা একে একে কুপোকাত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *