Published On: Fri, Sep 8th, 2017

পুলিশকে ঘুষ না দেয়ায় স্ত্রী আটক, তারপর ঘটলো ভয়ানক ঘটনা–

একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা তার মোটরসাইকেলের তেল কেনার টাকা চেয়েছিলেন এক গৃহবধূর কাছে। তবে দাবি মোতাবেক টাকা না দেয়ায় ওই গৃহবধূকে টেনে হেঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যান ওই কর্মকর্তা।

অপরদিকে, স্ত্রীকে নির্যাতন করে থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘরের ভেতরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান গৃহবধূর স্বামী। পরে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে স্ত্রীকে থানা থেকে ছেড়ে দেন ওই কর্মকর্তা। গেল ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কাটাখালী গ্রামে মর্মান্তিক ওই ঘটনা ঘটেছে।

মৃত্যুর শিকার ওই ব্যক্তির নাম শানু হাওলাদার (৭০)। তিনি নলছিটি উপজেলার কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রীর নাম সালেহা বেগম। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম জসিম। তিনি নলছিটি থানায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, শানু হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদারের নামে তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন নলছিটি থানায়। অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে নলছিটি থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে গেল ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে এএসআই জসিম শানু হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুমন হাওলাদারকে খুঁজতে থাকেন। তবে তাকে না পেয়ে ওই কর্মকর্তা তার মোটরসাইকেলের তেল খরচ বাবদ সুমনের মা সালেহা বেগমের কাছে এক হাজার টাকা চান। টাকা দিতে না পারায় ওই কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। বলেন, আপনার বিরুদ্ধেও পুত্রবধূ নির্যাতনের অভিযোগ আছে। আপনাকে আটক করলে ছেলেকেও পাওয়া যাবে।

এক পর্যায়ে বৃদ্ধ শানু হাওলাদারের সামনেই স্ত্রী সালেহা বেগমকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে টেনেহেঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যান ওই কর্মকর্তা। এদিকে, স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া দেখে শানু হাওলাদার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।

এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ আধাঘণ্টা পর সালেহা বেগমকে ছেড়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে শানু হাওলাদারের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সালেহা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ এসেছিল আমার ছেলেকে ধরতে। তাকে না পেয়ে পুলিশ গালাগাল শুরু করে। আমার কাছে তেল খরচের এক হাজার টাকা চায়। টাকা দিতে না পারায় আমাকে আটক করে পুলিশ। এ খবর শুনে আমার স্বামী হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সুলতান মাহামুদ বলেন, সুমনের স্ত্রীর দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়েছিলেন এএসআই জসিম উদ্দিন সিকদার। তিনি সবাইকে ডেকে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছিলেন।

ওসি বলেন, সেখানে আটকের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে জসিম ওই বাড়ি থেকে চলে আসার পরে গৃহকর্তা শানু হাওলাদার মারা যান। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। এখানে কারো হাত নেই।

তবে এ ব্যাপারে নলছিটি থানার এএসআই জসিম উদ্দিন সিকদারের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরিচয় দিয়ে এ প্রতিবেদক একটি ম্যাসেজ পাঠালেও তার উত্তর দেননি।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>