যেসব অভ্যাস আপনাকে ধীরে ধীরে অযোগ্য করে তুলছে!

Share This
Tags

যখন আমরা কোনো চাকরির জন্য ইন্টারভিউর সম্মুখীন হই কিংবা কর্মক্ষেত্রে উপরস্থ কারো সঙ্গে কথা বলি, তখন স্নায়ুবিক দুর্বলতার কারণে নিজের অজান্তেই আমাদের আচরণে লক্ষণীয় কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। এসব আচরণ বা কার্যকলাপের জন্য অন্যদের মনে হতে পারে আপনি হয়তো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অপারগ। মেনে নেয়া কঠিন হলেও এসব আচরণ আপনার ভেতর থেকেই যেন চিৎকার করে উঠে- ‘আমি প্রস্তুত নই!’ মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সতর্কতাই এসব বেফাঁস বা দৃষ্টিকটুআচরণ দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়।

নখ কামড়ানো: নখ কামড়ানো হল সবচেয়ে প্রচলিত একটি দৃষ্টিকটু বদভ্যাস। ক্যারিয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ অ্যামান্ডা অগাস্টিন বিজনেস ইনসাইডার-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি শুধু আপনার নখ আর বহিঃত্বকেরই ক্ষতিসাধন করে না, পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিত্বেরও হ্রাস ঘটায়।’  অবিরাম মোবাইল ফোন চালানো: ‘আমার মতে যে মানুষটা তার মোবাইল ফোন বা ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে থাকতে পারে না, সে আসলে তার অনাগ্রহী মনোভাবকে প্রকাশ করে।’- ভিকি অলিভার, লেখক, ৩১০ স্মার্ট আনসার্স টু টাফ ইন্টারভিউ কোশ্চেনস এবং ৩১০ স্মার্ট আনসার্স টু টাফ বিজনেস এথিক কোশ্চেনস।  কথা বলার সময় চোখের দিকে না তাকানো: ইন্টারভিউয়ের সময়ে সরাসরি প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে না তাকিয়ে অর্থাৎ ‘আই কন্ট্যাক্ট’ না করে উত্তর দেয়াটা তাদের মনে আপনার সম্পর্কে এক ধরনের বিরূপ এবং নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অগাস্টিনের মতে, ‘সরাসরি চোখের দিকে না তাকানোর ব্যাপারটা নিজেকে অপ্রস্তুত, অনাগ্রহী, অন্তঃসারশূণ্য এমনকি অহংকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।’  কথা বলার সময়ের অন্তত অর্ধেকটা যদি আপনি ‘আই কন্ট্যাক্ট’ করতে পারেন তাহলে সেটা আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য, নিঃসংশয় এবং কর্মদক্ষ হিসেবে তুলে ধরবে।  হাত মোচড়ানো কিংবা হাতের তালু উরুতে ঘষা: শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ এবং লেখিকা রোজালিনা ওরোপেজা র‌্যান্ডাল এ সম্পর্কে বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, ‘এই ধরনের আচরণের ভয়ংকর রকম বাজে প্রভাব রয়েছে, এতে করে প্রশ্নকর্তাদের মনযোগ আপনার বক্তব্য থেকে সরে যেতে পারে এবং এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারে।’ অগাস্টিনের মতে, ‘এই অভ্যাস পরিহার করতে চাইলে আপনি আপনার হাত দুটো হাঁটুর ওপরে রাখার পরিবর্তে আপনার সামনের টেবিলের ওপরে বা চেয়ারের হাতলে ভাঁজ করে রাখতে পারেন।’

‘হ্যাঁ, ভালো প্রশ্ন’ মন্তব্য করা : ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই এই প্রত্ত্যুতরটি করা প্রমাণ করে যে, আপনি কতটা বাছবিচারহীন! পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে উপরস্থ পদের কারো সঙ্গে প্রত্যেকটি কথায় ‘ভালো বলেছেন’ মন্তব্য করা প্রমাণ করে আপনি নিজস্ব মতামত দিতে অপারগ একজন মানুষ।  সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন আচরণ করা : একজন বিশেষজ্ঞের মতে, ‘গুরুগম্ভীর মুহূর্তগুলোতে হঠাৎ হো হো করে হেসে ওঠা বা হায়েনার মত গগনবিদারী শব্দে হাসা কলিগদের মধ্যে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়।’  ভ্রু কোঁচকানো: ভ্রুকুটি করা বা ভ্রু কোঁচকানোর ফলে শুধুমাত্র আপনার অসন্তোষই প্রকাশ পায় না, পাশাপাশি এটা আপনাকে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হিসেবে উপস্থাপন করে। চুল মোচড়ানো: অন্যের সামনে নিজের চুল মোচড়ানো একটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু বদভ্যাস। চুল মোচড়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে চাইলে আপনি কিছু হেয়ার স্টাইল যেমন- ফ্রেঞ্চ ট্যুইস্ট, বান অথবা স্মার্ট পনি টেলের আশ্রয় নিতে পারেন।  ‘হুমম’, ‘আচ্ছা’ শব্দগুলোর রিপিট করা: মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন জানিয়েছেন, ‘বারবার হুমম, আচ্ছা কিংবা লাইক শব্দগুলোর রিপিট করা আপনাকে অপরিপক্ক এবং অগোছালো হিসেবে উপস্থাপন করে।’  দাঁতে দাঁত ঘষা: অগাস্টিন বলেন, ‘আপনি যদি রাতের বেলা দাঁতে দাঁত ঘষেন তবে প্রচন্ড চাপের মুহূর্তগুলোকে এই অভ্যাসটির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।’ এই বদভ্যাসটি রাগান্বিত হওয়া, উদ্ধত এমনকি উদ্বিগ্নতার বহিঃপ্রকাশ। আপনার যখন দাঁতে দাঁত ঘষার প্রবল ইচ্ছা জাগবে তখন গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে মুখের পেশীগুলোকে হালকা বিশ্রাম দিন, ধীরে ধীরে এর থেকে মুক্তি পাবেন।  দ্রুত কথা বলা: ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রশ্নকর্তার সামনে নিজেকে দুর্বোধ্য প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি হড়বড় করে দ্রুত কথা বলার মাধ্যমে আপনি নিজেকে ধৈর্য্যহীন এবং নিয়ন্ত্রণ অক্ষম হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। তার চেয়ে বরং প্রশ্নকর্তার কথা মাত্রা এবং দ্রুততার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কথা বলে আপনি নিজেকে একজন যথার্থ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।

নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবেন কীভাবে? আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাহলে আপনার ক্লায়েন্টের প্রয়োজন, কারণ তিনিই আপনাকে কাজের জন্য হায়ার করবেন। কিন্তু একজন ক্লায়েন্ট আপনাকে তখনই বিশ্বাস করবে, যখন আপনি অন্য কোনো ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে পারবেন। সাধারণত একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন জবে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একটার পর একটা বিড করতে থাকেন এবং একসময়ে কাজ না পেয়ে হতাশায় ভোগেন। এর ফলে তাঁদের কাজের গতিও কমতে থাকে। কিন্তু এসব কিছুর মধ্য দিয়েই আপনাদের শুরু করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং জগতে পা রাখার প্রথম শর্তই হচ্ছে সময় এবং ধৈর্য। আপনি ভুল করবেন, এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি এই ভুলগুলো সংশোধন করে অগ্রসর হবেন। নিচে আমি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করছি, যেগুলো অনুসরণ করলে আপনি খুব দ্রুত নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্স প্রফেশনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>