все займы на карту

ক্যানসারের ঝুকি বাড়ায় এমন ১৩টি খাবার খাবেন না

আপনার ডায়েট শুধুমাত্র আপনার শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এর কারণে আপনার বিভিন্ন রোগও হতে পারে- তেমন একটি রোগ হচ্ছে ক্যানসার। কিছু খাবার নিয়মিত ভোজন আপনার ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

১. উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার  আমরা জানি যে অত্যধিক চিনি, সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও রাসায়নিক উপাদানসমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো শারীরিক দশার কারণ হতে পারে। কিন্তু ক্যানসার? ফ্রেঞ্চ ও ব্রাজিলিয়ান গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণা অনুসারে, অত্যধিক উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার ভোজনে সবধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ১১ শতাংশ। কোন খাবারগুলো অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার হিসেবে বিবেচিত হবে? মাস-প্রডিউসড ব্রেড, বেকড ফুড, সোডা, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও স্যূপ, সল্টি ও সুইট স্ন্যাকস এবং চিকেন নাগেটের মতো খাবারগুলো এ তালিকায় পড়ে। পাস্তা, ক্যানড ভেজিটেবল এবং ফ্রেশলি বেকড ব্রেডের মতো কম-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।  ২. মচমচে আলু  গাঢ় করে ভাজা মচমচে আলু সম্ভবত পারফেক্ট খাবার নয়, এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (এফএসএ) একটি গবেষণা অনুসারে, এজন্য দোষী হচ্ছে অ্যাক্রিলামাইড, উচ্চ তাপমাত্রায় শ্বেতসারবহুল (স্টার্চ) খাবার রান্না করলে এটি উৎপন্ন হয়। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নাকৃত বাদামী রঙের আলু ভাজাও ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং এটি সম্ভবত নার্ভাস ও রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পোড়া বা ব্ল্যাকেনড স্টার্চে সর্বোচ্চ পরিমাণে টক্সিন থাকে এবং ডার্কলি টোস্টেড ব্রেডও একটি সমস্যা। অ্যাক্রিলামাইড উৎপাদন ও ভোজন সীমিত করতে এফএসএ স্টার্চকে গাঢ় বাদামী করে ভাজার পরিবর্তে হালকা-সোনালী রঙের হওয়া পর্যন্ত রান্না করার পরামর্শ দিচ্ছে।  ৩. অ্যালকোহল  দিনে কেবলমাত্র একটি অ্যালকোহলিক ড্রিংক আপনার স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ৫ শতাংশ, গলার ক্যানসারের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ এবং খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারে। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (এএসসিও) অনুসারে, আপনি যত বেশি অ্যালকোহলিক ড্রিংক করবেন, আপনার ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঝুঁকির হার তত বেশি বেড়ে যাবে। যারা দিনে চার ড্রিংকের বেশি পান করে তাদের বিভিন্ন ধরনের গলার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। এ সংস্থা আরো উল্লেখ করে যে, বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৫ শতাংশ নতুন ক্যানসার এবং ক্যানসারে মৃত্যুর ৬ শতাংশের সঙ্গে অ্যালকোহল সেবনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে।  ৪. বেকন  হ্যাঁ, বেকন সুস্বাদু, কিন্তু এটি অত্যধিক ভোজন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন- হট ডগস, সসেজ, হ্যাম ও ডেলি মিটের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য। ৮০০ বৈজ্ঞানিক গবেষণার রিভিউ শেষে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সল্টেড, কিউরড, ফারমেন্টেড বা স্মোকড মাংসকে ক্যানসারের ঝুঁকি হিসেবে শ্রেনীভুক্ত করেছে। ৫০ গ্রাম অথবা সমপরিমাণে চার স্ট্রিপ বেকন বা একটি হট ডগ প্রতিদিন কোনো ব্যক্তির কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে। আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ এবং ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ডের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, বেকনের সঙ্গে নিম্ন পাকস্থলীতে ক্যানসার হওয়ার সমপরিমাণ ঝুঁকির সংযোগ রয়েছে। যদি আপনি প্রক্রিয়াজাত মাংসের খাবার খেতেই চান, তাহলে মাঝেমাঝে খেতে পারেন, তবে নিশ্চিত হোন যে মাঝেমাঝেই খাচ্ছেন।

৫. পোড়া মাংস  বারবিকিউ আপনার প্রিয় হতে পারে, কিন্তু গ্রিলড মিট প্রকৃতপক্ষে আপনার ডিএনএ ড্যামেজ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট অনুসারে, কোনো ওপেন ফ্লেইম বা প্যান-ফ্রাইংয়ের ওপর উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস রান্না করলে দুই ধরনের কেমিক্যাল (যথা- হিটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনস) সৃষ্টি হয়, যা আপনার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কেবলমাত্র রেড মিট নয়, এ প্রক্রিয়ায় রান্নাকৃত মুরগির মাংসও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকি কত বড়? একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, ঘনঘন পোড়া মাংস ভোজন আপনার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে, অন্য একটি গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, এটি পোস্টমেনোপজাল নারীদের স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ করে।  ৬. লাল মাংস  আপনি যেমনভাবেই রেড মিট বা লাল মাংস রান্না করেন না কেন, এটি ভোজন আপনার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। লাল মাংস ভোজনের সঙ্গে অগ্ন্যাশয়, কোলরেক্টাল ও পাকস্থলীর ক্যানসারের সংযোগ পাওয়া গেছে এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন একে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইউনিভার্সিটি অব লিডসের গবেষকরা ১৭ বছর ধরে ৩২ হাজার নারীর ওপর গবেষণা চালিয়ে পেয়েছেন যে, যারা নিয়মিত লাল মাংস খেয়েছিল তাদের যারা লাল-মাংস-মুক্ত ডায়েট অনুসরণ করেছেন তাদের তুলনায় উচ্চ হারে ডিস্টাল কোলন ক্যানসার (যে স্থানে মল জমা হয়) ছিল। এ গবেষণায় এর কারণ অন্বেষণ করা হয়নি। অন্য গবেষকরা বেশি করে মাংস খাওয়া পুরুষ ও নারীদের মল পর্যবেক্ষণ করে উচ্চ মাত্রায় এন-নাইট্রোসো কম্পাউন্ডের সন্ধান পেয়েছেন, যা সম্ভাব্য ক্যানসার-সৃষ্টিকারক কেমিক্যাল।  ৭. ব্যাগেল, সাদা পাউরুটি ও সাদা চাল  ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টার অনুসারে, আপনি কখনো ধূমপান না করলেও কিছু উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খাবার সমৃদ্ধ ডায়েট অনুসরণে আপনার ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গবেষকদের মতে, উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার দ্রুত আপনার রক্ত শর্করা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ফুসফুস ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইনসুলিনের মতো গ্রোথ ফ্যাক্টরও বাড়াতে পারে। আপনার সকল ধরনের কার্বোহাইড্রেট পরিহার করা উচিত নয়। নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অপশন বেছে নিন, যেমন- ১০০ শতাংশ স্টোন-গ্রাউন্ড হোল হুইট ব্রেড এবং রোলড বা স্টিল-কাট ওটস।

৮. খুব গরম কফি  ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসারের বিজ্ঞানীদের মতে, কফি নিজে নিজে কার্সিনোজেনিক নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেন: খুব উচ্চ তাপমাত্রার কফি (অথবা চা) পান খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মানে এই নয় যে, উচ্চ তাপমাত্রা কিছু কার্সিনোজেনিক কম্পাউন্ডকে অ্যাক্টিভেট করে বরঞ্চ খুব গরম পানীয় পানে আপনার গলা পুড়ে যাওয়ায় টিউমার বিকশিত হওয়ার দিকে ধাবিত করতে পারে। অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, খুব গরম পানীয় পানে আপনার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি পাঁচ গুণ বাড়তে পারে। তাই পানের পূর্বে আপনার পানীয়কে পরিমিত পরিমাণে ঠান্ডা করুন।  ৯. মিষ্টি  ডায়েটারি চিনি বর্জন আপনার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব নারী সর্বোচ্চ পরিমাণে মিষ্টি খেয়েছেন তাদের স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ২৭ শতাংশ বেড়েছে। যেহেতু গ্লুকোজ ও ইনসুলিন বৃদ্ধি পায়, সেহেতু তারা ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়াতে পারে- যা সম্ভবত স্তন ক্যানসারের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, চিনি টিউমার বিকাশে প্ররোচিত করে। ক্যানসার কোষের বিকাশের জন্য দ্রুত প্রচুর শক্তি প্রয়োজন, যা সাধারণ কোষের তুলনায় অনেক বেশি। চিনি বেশি খাওয়া ক্যানসার কোষকে খাবার দেওয়ার সমতুল্য।  ১০. দুগ্ধজাত খাবার  এটি বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: অত্যধিক দুগ্ধজাত খাবার আপনার প্রোস্টেট ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দুধ সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হলেও আইসক্রিম, পনির এবং দুগ্ধজাত খাবারও সমস্যার কারণ হতে পারে। হেলথলাইন অনুসারে, কিছু গবেষক ধারণা করছেন যে দুধের চর্বি, ক্যালসিয়াম ও হরমোন কন্টেন্টের কারণে দুধ গ্রহণ ও প্রোস্টেট ক্যানসার বিকাশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকতে পারে, যেখানে অন্যদের থিওরি হচ্ছে: দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ ভিটামিন ডি ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণা দুগ্ধজাত খাবার ও ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে কোনো মীমাংসা দিতে পারেনি; কিন্তু যদি আপনি প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকেন অথবা ইতোমধ্যে এটি হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে আপনার ডায়েট নিয়ে কথা বলুন।  ১১. মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন  সমস্যা পপকর্নে নয়, সমস্যা হচ্ছে পপকর্ন ব্যাগে- যার ভেতরে একটি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা কার্নেলকে ব্যাগের সঙ্গে লেগে যাওয়া থেকে বিরত রাখে। ব্যাগে তাপ দিলে আবরণ গলে গিয়ে পারফ্লুরুকট্যানিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়, যার সঙ্গে লিভার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই কেমিক্যাল এড়াতে নিজে নিজে পপকর্ন তৈরি করুন।  ১২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট  অতীতের গবেষণাগুলোতে ডায়েটারি কোলেস্টেরল ও কোলন ক্যানসারের মধ্যে সংযোগ পাওয়া গেলেও গবেষকরা এখনো এর পেছনে প্রকৃত মেকানিজম কি তা বোধগম্য হতে পারেননি। ইউসিএলএ’র গবেষকরা ইঁদুরের মধ্যে কোলেস্টেরল নিয়ে গবেষণা করে পেয়েছেন যে, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল ইন্টেস্টাইনাল স্টেম কোষের রেপ্লিকেশন বৃদ্ধি করেছে, যা টিউমার কোষের বিকাশ ১০০ গুণ দ্রুত করেছে। হ্যাঁ, আপনি ঠিক পড়ছেন: ১০০ গুণ দ্রুত করেছে। অতীতের গবেষণাগুলো ধারণা দিয়েছে যে, উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ ডায়েটের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার যেমন- ফুসফুস ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে। অতি সাম্প্রতিক ধারণা হচ্ছে, আপনার ডায়েটারি ফ্যাটের উৎস সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে।  ১৩. সোডা  অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের মতে, প্রতিদিন শুধুমাত্র একটি সফট ড্রিংক নানা রকম ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যেমন- যকৃত ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, ডিম্বাশয় ক্যানসার ও পিত্তকোষ ক্যানসার। মনে করবেন না যে, আপনি নিরাপদ ডায়েট সোডা নির্বাচন করেছেন: অতীতের গবেষণায় কৃত্রিম সুইটেনারের সঙ্গে স্থূলতা, স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও ক্যানসারের সংযোগ পাওয়া গেছে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Washington Redskins Womens Jersey