কম বয়সে বুড়িয়ে যাচ্ছেন? জেনে নিন কারণগুলো !

বয়সের সাথে সাথে মুখে ও ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু জীবনধারণের ধরণ ও অভ্যাসের কারণে কম বয়সে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে অনেকের। ত্রিশের কোঠায় ঢুকতেই ত্বকের লাবণ্য কমতে শুরু করে। কি কারণে খুব কম বয়সে ত্বক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে বুড়িয়ে যাচ্ছে এটি জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন এই কারণগুলো-

১. শরীর ফিট রাখার জন্য অনেকেই ব্যায়াম করে থাকে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়।  ২. কর্মস্থলে কাজের চাপ শরীরিক ও মানসিকভাবে আপনার বুড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।  ৩. বাড়িতে হোক বা কর্মস্থলে, অনেককেই দিনভর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দীর্ঘক্ষণ কাটাতে হয়। যা ত্বকে শুষ্ক করে দেয় এবং তার ফলে কমবয়সেই ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে।  ৪. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থাকলে, বিশেষ করে বাইরের খাবার বেশি খেলে ত্বকে তার খারাপ প্রভাব পড়ে খুব কম বয়সেই। তৈলাক্ত খাবার ত্বকের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।  ৫. ধূমপান ও মদ্যপানের নেশা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে নানাভাবে। দুটোই ত্বককে অল্প বয়সে বুড়িয়ে দেয়।  ৬. রোদে বের হলে সানগ্লাস পরা অবশ্যই উচিত। যদি এই অভ্যাস আপনার না থাকে তাহলে চোখের নিচের ত্বক খারাপ হতে শুরু করে, চোখের নিচে কালি পড়ে।  ৭. বাইরে কোনও ধরনের পানীয় নেওয়ার সময়ে তা আমরা স্ট্র দিয়ে পান করি। এমনটা নিয়মিত করতে শুরু করলে ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে। নিয়মিত এই অভ্যাস থাকলে সেই দাগ স্থায়ী হয়ে যায়।

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রুখতে ১২টি নিয়ম: যৌবন ধরে রাখতে আমরা সবাই চাই৷ কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় আসা পরিবর্তনগুলোকে আটকানো তো মুখের কথা নয়৷ তার জন্য প্রয়োজন নিয়ম মেনে কিছু রুটিন ফলো করা৷ তাহলে ৪০-এ আপনাকে হয়তো কুড়ির মতো লাগবে না, তবে অকালে বুড়িয়ে যাওয়াও আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না৷

১. যৌবন ধরে রাখার মূল মন্ত্রই হল সুস্থ, নির্মেদ শরীর৷ আর এর জন্য হাঁটার কোনও বিকল্প নেই৷ প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা করে হাঁটুন৷ মোবাইলে গান শুনতে শুনতে হাঁটা নয়, ঘড়ি ধরে একেবারে ব্রিস্ক ওয়াকিং৷ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে, হার্ট ভালো থাকবে৷ নিয়ন্ত্রণে থাকবে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিজ, কোলেস্টেরল, প্রেশারের মতো সমস্যা৷ ফলে আপনাকেও লাগবে ঝরঝরে৷  ২. প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তত একটা করে মরসুমী ফল রাখুন৷ তবে রোজ যদি আম, কলা, আনারস, কাঁঠাল খেতে থাকেন, তাহলে ওজন বেড়ে আপনাকে বয়সের থেকে আরও দশবছর বেশি বয়স্ক লাগবে৷ তাছাড়া ফল পুষ্টিগুণেও ভরপুর৷ ফলে থাকা ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর আপনাকে রাখে তরতাজা৷  ৩. দৈনন্দিন ডায়েট থেকে সবুজ শাকসব্জি বাদ দিলে কিন্তু চলবে না৷ সবজি খেলে মানসিক উন্নতিসহ শারীরিক উন্নতিও হয়। মানুষ আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মোটের ওপর সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷  ৪. ওজন কমাতে গিয়ে বা স্রেফ ইচ্ছে করছে না বলে ব্রেকফাস্ট কখনওই বাদ দেবেন না৷ তাহলে কিন্তু শরীরের মেটাবলিজম সিস্টেমের গোলমাল হয়ে বেশি করে খিদে পেতে থাকে৷ আর বারে বারে খেতে খেতে আখেড়ে আমরা নিজের ক্ষতিই ডেকে আনি৷  ৫. যৌবন ধরে রাখতে হলে মিষ্টি জাতীয় খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। চকোলেট, পেস্ট্রি, ব্রাউনি, আইসক্রেমর মতো খাবারে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট থাকে যা শরীরে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এগুলি যতটা সম্ভব কম খান৷ তা বলে ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি ছেঁটে ফেলবেন না৷ অল্প হলেও নিয়মিত খান৷ তাহলে শরীরের এনার্জি লেভেল ঠিক থাকবে৷ শরীর-মন জুড়ে স্বতস্ফূর্ততার অনুভূতি থাকবে৷

৬. বয়স বাড়ার প্রথম লক্ষণটাই দেখা যায় আমাদের ত্বকে৷ রিংকল্স, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, নির্জীব হওয়ার মতো ত্বকের সমস্যাগুলো শুরু হয় ৩৫-এর পর থেকেই৷তাই বয়স তিরিশ হলেই নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিন৷ ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং রোজ করুন নিয়ম করে৷আর মধ্য তিরিশের পর থেকে ব্যবহার করুন অ্যান্টি এজিং ক্রিম৷ মাসে অন্তত দুবার ফেস ম্যাসাজ করান৷ তবে খুব প্রয়োজন না হলে ফেসিয়াল করবেন না৷ দিনের বেলা সূর্যের আলো যেন সরাসরি ত্বকে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন৷ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করার জন্য এসপিএফ ৩০ বা এর বেশি উপাদান সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা জরুরি।  ৭. শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত ওজন খুব দ্রুত মানুষকে বুড়িয়ে দেয়৷ এমনকি কমিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাসও৷ নিয়মিত ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেললে যৌবন ধরে রাখা সম্ভব৷ তা বলে একেবারে খাওয়া বন্ধ করেল কিন্তু হিতে বিপরীত হবে৷ শরীরের যাবতীয় গ্ল্যামার শেষ হয়ে, আপনার চেহারায় নেমে আসবে অকাল বার্ধক্য৷  ৮. সুস্থ দীর্ঘ জীবন পেতে এবং যৌবন ধরে রাখতে সকালে খানিকক্ষণ সূর্যালোকে থাকুন। সূর্যের আলোতে আছে ভিটামিন ডি যা হাড়কে মজবুত করে। এবং সঙ্গে মানসিক চাপ ও অবসন্নতাও কমিয়ে দেয়৷  ৯. চেষ্টা করুন প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোতে৷ সঙ্গে হাল্কা ব্যায়ামের অভ্যেস রাখতে পারলে উপকৃত হবেন আপনিই৷  ১০. অ্যালকোহল, সিগারেট বা কোনও নেশার দ্রব্য বর্জন করুন৷  ১১. এড়িয়ে চলুন স্ট্রেস৷ স্ট্রেসও খুব তাড়াতাড়ি চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলে৷  ১২. প্রয়োজন আনুন মানসিকতায়৷ বয়স যে আদতে বাড়ছে, এই সত্যিটা মেনে নিন৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পাল্টান৷ যা আপনার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, তা নিয়েই খুশি থাকার চেষ্টা করুন৷ অতিরিক্ত উচ্চাক্ঙ্খাকে জীবন থেকে একেবারে ছঁটে ফেলুন৷ আপনি ভালো থাকবেন, চারপাশের সবাইকে ভালো রাখতে পারবে।

 

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>