আসলেই কি ডিম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

কেউ কেউ বলেন উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ডিম খাওয়া উচিত নয়, কেউ বলেন ডিমে আছে চর্বি। প্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো না মন্দ—এ নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন, বিভ্রান্তি। একসময় বিশেষ করে যাঁদের বয়স একটু বেশি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত বা যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বা অন্যান্য চর্বির পরিমাণ বেশি, তাঁদের ডিম খেতে নিষেধ বা সম্পূর্ণ বর্জন করতে বলা হতো। অনেকেই আবার ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশটুকু খেয়ে থাকেন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, এত দিনের এসব ধারণা আসলে পুরোপুরি সত্যি নয়, খানিকটা বানোয়াটও। তাই ডিমের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৯ অক্টোবর ২০তম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালিত হলো আমাদের দেশেও।

প্রথম কথা হলো—ডিম খেলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ততটা বৃদ্ধি পায় না, যতটা এত দিন ধারণা করা হতো। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারবেন। আর একটি ডিমে রয়েছে মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এখন তাদের খাদ্যের নির্দেশিকায় ডিম খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করছে না। ডিমের সাদা অংশ খেলে সমস্যা তো হবেই না, এমনকি কুসুমসহ সম্পূর্ণ ডিম খেলেও উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অতটা নেই।

সকালের নাশতায় একটি ডিম কোলেস্টেরল মাত্রার ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না, যতটা প্রভাব ফেলে মিষ্টি বা চর্বিজাতীয় খাবার। তাই দৈনিক খাবার থেকে বরং ছেঁটে ফেলুন লাল মাংস, মাখন, চিনির তৈরি খাবার যেমন বেকারি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার; ডিমকে দুষিয়ে লাভ নেই। কেননা ডিমে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লোবিন, ফলেট ও ভিটামিন ডি রয়েছে। তবে কিডনি অকেজো রোগী, অ্যালার্জি-জাতীয় সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাবেন।

ডিমের ১০ বিষয়: ডিম কিনতে যাচ্ছেন? ডিম সম্পর্কে সবকিছু জানা আছে তো? অনেকে প্রোটিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ ডিম সম্পর্কে ভালো জানেন, আবার অনেকের তেমন ধারণা নেই। ডিম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিতে পারেন। প্রতিদিনের নাশতায় ডিম অনেকই ডিম পোচ বা সেদ্ধ রাখেন। কেউবা দুপুরে খান ডিমের ঝোল, ওমলেট বা ভাজি। তরকারির বিকল্প হিসেবে ভর্তা করেও অনেককে খেতে হয়। অনেকের ডিম অত্যন্ত প্রিয়। অতি পরিচিত এই ডিম সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জেনে রাখা ভালো।

১. ডিম ঘুরিয়ে দেখুন: ডিম কাঁচা নাকি সেদ্ধ—কীভাবে বুঝবেন? ডিমটি একটু ঘুরান। যদি সহজে ঘোরে, তবে তা ভালোমতো সেদ্ধ। আর যদি তা না হয়, তবে তা কাঁচা।  ২. প্রোটিনের শক্তি: মানুষের টিস্যু তৈরিতে যে পরিমাণ অ্যামিনো অ্যাসিড দরকার পড়ে, এর সঠিক মিশ্রণ আছে ডিমের প্রোটিনে। মানুষের পুষ্টির জন্য মায়ের দুধের পরপরই ডিমকে রাখা হয়।  ৩. ভালো করে ধুতে হবে: ফ্রিজে ডিম রাখার আগে অবশ্যই তা ভালোমতো ধুয়ে নিতে হবে। ডিমের খোসার বাইরের দিকে প্রচুর ময়লা, ব্যাকটেরিয়া থাকে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  ৪. ডিমের রঙের পার্থক্য: ডিমের কুসুমের রং নির্ভর করে মুরগির খাবারের ওপর। যদি কুসুমের রং গাঢ় হলুদ হয়, তবে মুরগি যথেষ্ট সবুজ শাক-সবজি ও খাবার খেয়েছ। হালকা হলুদ হলে মুরগি শস্য খেয়েছে বেশি।  ৫. ফ্রিজে রাখা ভালো: ফ্রিজে ডিম রাখা হলে খোসায় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ করে না। এতে দীর্ঘদিন ডিম ভালো থাকে।  ৬. কম ক্যালরি: একটি ডিমে ৭০ ক্যালরি ও ৫ গ্রাম চর্বি থাকে। তাই কোনো সমস্যা না থাকলে ডিম খাওয়া যায়।  ৭. ভিটামিন ডি: ডিমের প্রোটিন ও কুসুমের ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লোবিন, ফোলেট ও ভিটামিন ডি পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে।  ৮. রঙ গুরুত্বপূর্ণ নয়: ডিমের রং সাদা না বাদামি, সেটা কোনো ব্যাপার নয়। কারণ পুষ্টিগুণ দুয়েরই সমান। তবে দেশি মুরগির ডিমের স্বাদ বেশি, উপকারিতাও হয়তো বেশি, কারণ এদের খাবারে হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিকের রেশ থাকার আশঙ্কা নেই।  ৯. ডিমের সাদা অংশ: ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশটুকু খাওয়া চলে। এটা ভালো প্রোটিন।  ১০. কোলস্টেরল কম: একজন পূর্ণ বয়স্ক সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। আর একটি ডিমে রয়েছে মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>