বিয়ের পর মেয়েদের ওজন বৃদ্ধির কারণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

শিরিনের নতুন বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে সে ভালোই শুকনা ছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যে দেখছে সেই বলছে সে হঠাৎ করে মুটিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া খুবই দ্রুত। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরে শিরিন। টেনশনে পরে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন শিরিন। কিন্তু তাতে হিতে-বিপরীত হতে থাকে। কারণ না খেয়ে, টেনশনে না ঘুমিয়ে শিরিন দিন দিন আরো মোটা হতে শুরু করে। এই ঘটনা শুধু শিরিনের ক্ষেত্রে সব নারীরাই বিয়ের পরপরই মোটা হতে থাকেন। কেন, কিভাবে মোটা হচ্ছে না বুঝেই অনিয়ম করে শরীর আরো ভারি করে ফেলেন। খাওয়াদাওয়া এবং ব্যায়ামের ব্যাপারে অনিয়ম করা ইত্যাদি অনেক কারণ রয়েছে বিয়ের পর ওজন বেড়ে যাওয়ার। এই অতিরিক্ত ওজন মেয়েরা আর সহজে কমাতে পারে না। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লাইফস্টাইল-বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে বিয়ের পর মেয়েদের ওজন বেড়ে যাওয়ার কিছু কারণের কথা।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানা: বিয়ের আগে আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারী হতে অনেক মেয়ে কঠিন ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে। চর্বিযুক্ত খাবার, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড সব কিছুতেই তখন তাদের ‘না’ থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময়ই একটা তাগিদ থাকে। তবে অনেকেই বিয়ের পর এই খাদ্যাভ্যাস আর ঠিকমতো মেনে চলতে পারে না। ভাজা খাবার এবং তেল জাতীয় খাবার খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। তবে দেখা যায়, বিয়ের পর বিভিন্ন দাওয়াতে গিয়ে বা বাড়িতে অতিথি এলে এ ধরনের খাবারগুলোই বেশি খাওয়া হয়। এ কারণে ওজন দ্রুত বেড়ে যায়। আবার অনেক মেয়েই নতুন নতুন রেসিপি রান্না করে পরিবারের লোকজনকে খাওয়াতে ভালোবাসেন। এটিও ওজন বাড়ার একটি বড় কারণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিবারের সবাইকে ভালো ভালো খাবার খাওয়াতে ভালোই লাগে, তবে এর মানে এই নয় যে, আপনাকেও সে সব খাবার চেখে দেখতে হবে!  নিজের জন্য সময় নেই: বিয়ের পর নতুন সম্পর্ক, নতুন মানুষজন, সব কিছুর ভিড়ে নিজের জন্য সময় বের করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তখন গুরুত্ব বদলে যায় বা অগ্রাধিকার বদলে যায়, ফলে নিজের প্রতি আর নজর দেওয়া হয় না, ব্যায়াম তো দূরের বিষয়। বিয়ের পর মুটিয়ে যাওয়া এটি একটি বড় কারণ। আগে হয়তো ব্যায়ামের জন্য বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পালনের জন্য সময় বের করতেন, তবে বিয়ের পর এগুলো আর হয়ে ওঠে না। পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে গিয়ে বা সংসারের কাজের ঝামেলায় নিজের জন্য আর সময়ই পাওয়া যায় না। মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা ভেবে তাই নিজের জন্য সময় বের করুন। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করুন।  বাইরের খাবার: বিয়ের পর মেয়েদের ওজন বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ রান্না এড়িয়ে যাওয়া এবং বাইরের খাবার খাওয়া। অনেকেই বিয়ের পর রান্নার ক্ষেত্রে অতটা পটু থাকেন না, তখন বাইরের খাবার হয় ভরসা। বাইরের খাবার বা হোটেলের খাবারে প্রচুর তেল দেওয়া হয়। এই অস্বাস্থ্যকর খাবার ওজন বাড়িয়ে দেয়।  গর্ভধারণের জন্য: গর্ভধারণের কারণে অধিকাংশ নারী ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন এই সময়টায় বেড়ে যায়।  জন্মনিয়ন্ত্রক পদ্ধতি: জন্মনিয়ন্ত্রক পদ্ধতি গ্রহণ যেমন পিল বা ইনজেকশন এসব গ্রহণের কারণেও বিয়ের পর মেয়েরা মোটা হয়ে যায়।  নিজেদের কাছে বেশি সময় থাকতে চায়: অনেক স্বামীই রয়েছেন, যাঁরা বেশি সময় ধরে স্ত্রীর সঙ্গ পছন্দ করেন। যার জন্য হয়তো স্ত্রীর আর ব্যায়াম করা হয়ে ওঠে না। পরস্পরের বোঝাপড়ার জন্য এটি অবশ্যই ভালো। তবে স্বাস্থ্যকেও তো গুরুত্ব দিতে হবে। তাই স্বামীকেও উদ্বুদ্ধ করুন আপনার সঙ্গে ব্যায়াম করতে। অথবা দুজনে একত্রে কোনো জিমে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন।  আলস্য: অলস লোকেরা শুধু খায় আর ঘুমায়। শরীরকে ফিট এবং কর্মক্ষম রাখার জন্য আর কোনো কাজ করে না। বিয়ের পর অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আবার অনেকে নিজের প্রতি এতই অবহেলা দেখায় যে শরীরের যত্ন নেয় না। বিয়ের পর ওজন বাড়ার বড় কারণ এই আলস্য।  বিয়ের পর ওজন কমানোর ডায়েট প্ল্যান: বিয়ের পর অনেক মেয়েরই ওজন বেড়ে যায়। এটা একটা প্রচলিত সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের পর সাধারণত মেয়েদের ওজন বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে বিয়ের পর মেয়েদের ওজন বাড়ে। এ ছাড়া বিয়ের পরপরই হয়তো মেয়েরা নিজের দিকে তাকানোর সময় কম পায়। এবং ব্যায়ামের জন্যও সময় কম দেয়। তবে কিছু পরামর্শ মেনে চললে বিয়ের পর এই ওজনাধিক্যের সমস্যা কিছুটা কমানো সম্ভব। লাইফস্টাইল-বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই বাতলে দিয়েছে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ।

ভাত এড়িয়ে চলুন:  ভাত হচ্ছে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। বিশেষত যখন আপনি কায়িক শ্রম করছেন না তখন। এর বদলে আপনি হাতে তৈরি রুটি, সয়া, সিদ্ধ মটরশুটি, ছোলা ইত্যাদি খেতে পারেন।  গমের পাউরুটি, ওটমিল ও সিদ্ধ আলু :  পরিশোধিত এবং দ্রুত শর্করা, যেমন, সাদা রুটির পরিবর্তে জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন গমের রুটি, ওটমিল বা বাদামি ভাত এসব খান। এর মধ্যে আছে আঁশ, যা ভরা পেটের অনুভূতি দিয়ে আপনাকে ঠান্ডা রাখবে। এই পদ্ধতি আপনার ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।  ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড:  আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখবেন। এ জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন : টুনামাছ, কাঠবাদাম, জলপাইয়ের তেল, ফ্লেক্সিড তেল ইত্যাদি। এটা ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং স্বাস্থ্যও ভালো রাখবে।  জাংক ফুড বাদ দিন: জাংক ফুড বা ফাস্ট ফুডজাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। এ ধরনের খাবার শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটা পরিপাকক্ষমতা কমায়। এর মধ্যে রয়েছে বাজে চর্বি, যা ওজন বাড়ায়। এটা হচ্ছে সবচেয়ে ভালো ওজন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি।  বেশি খাবার বাদ দিন: প্রাণিজ প্রোটিন বেশি খেলে হাড়ের ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। এটা ওজন বাড়িয়ে দেয়। লাল মাংসের (গরু, খাসি) পরিবর্তে লো ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার, শিম, বাদাম, শাকসবজি খান।  কফি পান কমিয়ে দিন: কফি বেশি পান করলে ওজন বেড়ে যায় এবং কফি হাড়ের স্বাস্থ্য খারাপ করে দিতে পারে। বেশি কফি পান করলে খাদ্যের পুষ্টি শরীর গ্রহণ করতে পারে না। এটা হরমোনের মাত্রাকে প্রভাবিত করে।  সকালের নাশতা বাদ দেবেন না: সকালের নাশতা কখনোই বাদ দেবেন না। সকালের নাশতা বাদ দেওয়া মানে সারা দিনের জন্য পরিপাককে ধীরগতির করে ফেলা।  আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার : আপনি যদি ওজন কমাতে চান তবে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন : পুঁইশাক, কচু, লতি ইত্যাদি। এটা ওজন কমানোর একটি গোপন উপায়।  ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার : খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার রাখতে কখনো ভুলবেন না। আপনি যখন ওজন কমাতে চাইবেন তখন দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ ইত্যাদি খান।  উদ্ভিদজাতীয় খাবার খান: শাকসবজি বেশি করে খান। খাবার আগে ফল ও সবজি খেয়ে নিন। অল্প অল্প করে দিনে অন্তত ছয়বার খাবার খান।  নিজেকে প্ররোচিত করুন: আপনি যদি বিয়ের আগের ছবিগুলো দেখেন, তবে নিজের বর্তমান অবস্থা দেখে আফসোস লাগতে পারে। এটা

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>