মৃত্যুঝুঁকি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমায় যে ভিটামিন !

মানুষ দীর্ঘজীবী হতে চায়। আদতে তাই ঘটবে যদি কমানো যায় অকালে মৃত্যুঝুঁকি। আর একটি ভিটামিনই এ কাজে সবচেয়ে পারদর্শী। গবেষণায় বলা হয়েছে, যে মানুষরা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসে ভোগেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। আর ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে এ মৃত্যুঝুঁকি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে। নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বার্গেনের বিশেষজ্ঞ জুট্টা ডায়ার্কেস বলেন, আমরা দেখেছি, সঠিক পরিমাণ ভিটামিন ডি মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে। তারা ৪ হাজার রোগীর ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এরা সবাই অন্তত ২০০০ সাল থেকে কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত। রোগীদের গড় বয়স ৬২ বছর। জার্নাল অব ক্রিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ প্রকাশিত গবেষণাকর্মটি। সেখানে দেখানো হয়েছে, মানবদেহে ব্লাড ভ্যালু প্রতি লিটারে ৪২-১০০ ন্যানোমোল থাকা উচিত। যদি এর চেয়ে কম বা বেশি ভ্যালু থাকে, তবে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তবে একেক মানুষের দেহে এই পরিমাপে ভিন্নতা রয়েছে। কাজেই কার কতটুকু ভিটামিন ডি থাকা দরকার তা নির্ধারণ করা কঠিন বিষয়। কাজেই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের পরিমাণ একেক মানুষের জন্যে একেক ধরনের হবে। এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় থাকেন এবং কী ধরনের খাবার খান তার ওপর। তা ছাড়া রোদ্র গায়ে লাগানোর সুবিধা তো আছেই।

যে লক্ষণ গুলো মিলিয়ে বুঝবেন আপনার শরীরে রয়েছে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি
১. মাংসপেশীর দূর্বলতা: মাংসপেশীর দূর্বলতার অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের ভিটামিন ডি এর অভাব। বিশেষ করে মাংসপেশী বেড়ে যাওয়া এবং মাংসপেশী কাঁপার মতো সমস্যাগুলো সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবেই হয়ে থাকে। ২. বিষণ্ণতা: ভিটামিন ডি এর অভাবে বিষণ্ণতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সারাক্ষণ মানসিক চাপ অনুভূত হলে এবং কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত বিষণ্ণতায় ভোগা হতে পারে ভিটামিন ডি এর অভাবের প্রভাব। ৩. খুব সহজেই হাড়ে ফাটল: একটু পড়ে গেলে বা আঘাত পেলেই যদি হাড়ে চির ধরে যায় কিংবা প্রচন্ড ব্যাথা বা ফাটল ধরে তাহলে বুঝে নিন যে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব আছে। ৪. দাঁতের ভঙ্গুরতা: একটু শক্ত হাড় চিবুতে গেলেই কি আপনার দাঁত ভেঙ্গে যায়? আপনার দাঁত যদি অতিরিক্ত ভঙ্গুর হয়ে থাকে তাহলে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকার সম্ভাবনা আছে। ৫. উচ্চ রক্তচাপ: অতিরিক্ত রক্তচাপও হতে পারে ভিটামিন ডি এর অভাবের একটি কারণ। শরীড়ে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি না থাকলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ৬. ঘুমের ব্যাঘাত: আপনার যদি প্রতিদিন ঘুমাতে সমস্যা হয়, দেরিতে ঘুম আসে কিংবা চট করে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকে তাহলে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকার সম্ভাবনা আছে। কারণ ভিটামিন ডি এর অভাবে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় যেসব খাবারে: ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড। এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা; এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। ভিটামিন-ডি নিয়ে আগে এত কথা না হলে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার রাখার পক্ষে জোর দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ডি’র অভাবে শিশুদের দেহের হাড় ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না এবং হাড় বাঁকা হয়ে যায়। এর অভাবে বয়স্ক লোকদের হাড় নরম হয়ে যায়; আলঝেইমার রোগ হতে পারে। যাঁদের দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব রয়েছে, তাঁদের অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে। ছোটবেলায় আমরা স্কুলে পড়েছি, কেবল দুধ এবং সূর্যের আলো ভিটামিন-ডি’র উৎস। তবে রোদের তাপ বেশিক্ষণ গায়ে মাখানো কঠিন কাজ। তাহলে বাকি রইল ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট। গবেষকরা বলছেন, কিছু খাবার রয়েছে, যার মধ্যে পাওয়া যাবে ভিটামিন-ডি। ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে এসব খাবারের তালিকা।

মাছ: বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন : স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেল ইত্যাদি। দৈনিক ভিটামিন-ডি’র চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে। মাশরুম: মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন-ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ডি। তাই চাহিদা পূরণে নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন। সুরক্ষিত কমলার জুস: বাজারে কিছু ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা কমলার জুস তৈরিতে ভিটামিন-ডি যোগ করে। অন্যান্য জুসের মধ্যে এটি দেওয়া হলেও কমলার জুস ভিটামিনের উপাদান ধরে রাখতে পারে। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে এটি। ডিম: ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবার: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি রয়েছে, যেমন : গরুর মাংসের লিভারে ভিটামিন-ডি আছে। তবে এটা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে অনেকেই হয়তো দুধ থেকে ভিটামিন-ডি খেতে বেশি পছন্দ করবেন।

ভিটামিন ডি-এর অভাবে কী সমস্যা হয়? বর্তমানে ভিটামিন ডি গ্রহণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন ও ডায়াবেটিসের পরামর্শক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>