মেয়েদের মাথায় কীভাবে উকুন হয়? তাড়ানোর উপায় কী?

Share This
Tags

মাথায় উকুন হওয়ার এই রোগটির নাম পেডিকুলোসিস ক্যাপিটিস। মাথায় উকুন বাসা বাঁধে অপরিষ্কার বা তেলতেলে মাথার কারনে। অনেকের এমন একটা ধারণা থাকলেও জার্মান বিশেষজ্ঞরা এর সাথে একমত নন। উকুনের জন্মের কারণ, বসবাস ও তাদের তাড়ানোর উপায় জেনে নিন সহজ কিছু ধাপে:

ক্ষতিকর নয়: মাথায় উকুন হলে তা যে খুবই বিরক্তিকর এতে সন্দেহ নেই। তবে উকুন ক্ষতিকর কিছু নয় বলে জানান জার্মান ফার্মাসিস্ট বারবারা ভাল্টার। তিনি জানান, ফার্মেসিতে উকুন মারার ওষুধ পাওয়া যায় এবং একটু সতর্কভাবে তা ব্যবহার করলে উকুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অবশ্য উকুন মারার ওষুধ ব্যবহারে শুধু বড় উকুনই মারা যায়, ডিমগুলো নয়। তাই কয়েক সপ্তাহ সেদিকে ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। এক উকুনের ৩০০ ডিম!  একটি উকুন প্রাপ্তবয়স্ক হবার সাত থেকে ১০দিন পরেই ডিম দেয় আর ডিমগুলোও সপ্তাহ খানেক পরই প্রাপ্তবয়স্ক উকুন হয়ে যায়। একটি উকুন ৩০০টি ডিম পর্যন্ত দিতে পারে। উকুন ছোঁয়াচে: জার্মানিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রমণ রোগ সর্দি-কাশির পরেই রয়েছে উকুনের স্থান, বিশেষ করে ৮ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের চুল লম্বা বা বড় থাকার কারণে মেয়েদের মাথার চুলেই উকুন আরাম বোধ করে।

সেলফি: উকুন বিছানা বা অন্য কোনোভাবে ছড়ায় না। উকুন সরাসরি এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যায়। অল্প বয়সি মেয়েরা বন্ধুদের সাথে মাথায় মাথা লাগিয়ে সেলফি বা ছবি তুলতে বেশ পছন্দ করে। মাথায় উকুনকে ওয়েলকাম করতে না চাইলে সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে মেয়েদের। এমনটিই জানিয়েছে রাশিয়ান স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির যুক্তি, সেলফি তোলার সময় ঠেসাঠেসি করে দাঁড়াতে হয়। ছোট ফ্রেমে অনেকগুলো মুখ ধারণ করতে এ সময় একের মাথায় অন্যের মাথা লেগে যায়। আর এ সুযোগেই একজনের মাথার উকুন নাকি লাফ দিয়ে অন্যের মাথায় চলে যায়! উকুন এড়াতে শুধু ছোটদেরই এ পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। কারণ, উকুন মাথায় থাকলে নাকি স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন রাশিয়ার ডাক্তাররা!

মাথায় উকুন হলে কী করবেন: প্রথমত, একই বিছানায় ঘুমানো এবং একই চিরুনি ব্যবহার করেন এমন সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে। পরমেথ্রিন ৫ শতাংশ ক্রিম, যেমন—লরিক্স ক্রিম গোসলের আগে ১০/১৫ মিনিট ধরে মাথায় লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুল শুকিয়ে উকুন আনার চিরুনি দিয়ে ভালোভাবে মাথা আঁচড়াবেন। একই ব্যবস্থা সাত দিন পর আবার নিতে পারেন। মাথায় ঘা বা পুঁজ থাকলে উকুনের ওষুধ দেওয়ার এক সপ্তাহ আগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ঘা শুকিয়ে নিতে হবে। এমন অবস্থায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

উকুন তাড়ানোর কিছু প্রাকৃতিক উপায় জেনে নিন: চুলের একটি বিরক্তিকর সমস্যা হল উকুনের সমস্যা। নারী পুরুষ উভয়ের এই সমস্যা হতে পারে। তবে নারীদের উকুন বেশি হয়ে থাকে। উকুন একধরণের পরজীবী যা মানুষের মাথার তালুতে বাস করে এবং রক্ত পান করে জীবন ধারণ করে। উকুন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই শুরুতেই এটি ধ্বংস করা না গেলে পরবর্তিতে এটি দূর করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কিছু তথ্য :মাথায় উকুন আসার পর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়ে। এর পর ১০ দিন সময় লাগে উকুন বড় হতে। একসঙ্গে ডিম থেকে উকুন হওয়ার কারণে অনেক দ্রুত চুলে উকুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যতই উকুননাশক প্রসাধনী ব্যবহার করেন, উকুন বারবার ফিরে আসে। আর এই প্রসাধনীতে নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। ঘরোয়া উপায়ে মাত্র ১৫ মিনিটেই আপনি উকুনের সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

ঘরোয়াভাবে উকুন দূর করার কার্যকরী কিছু উপায় জেনে নিন:  ১. ভিনেগার দিয়ে চুল ধোয়া  ভিনেগার দিয়ে খুব সহজে উকুন দূর করা সম্ভব। এতে অ্যাসিটিক এসিড আছে যা উকুন দূর করতে সাহায্য করে। সমান পরিমাণ পানি ও ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। এবার এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে উকুন মরে যাবে। আপনি চাইলে ভিনেগারের সঙ্গে অলিভ অয়েলও মিশিয়ে নিতে পারেন। অথবা এভাবে দিন – ভিনেগার আর পানি মিশিয়ে নিন। তারপর সেটি মাথায় লাগান। ১০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।  ২. অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল  বাদাম তেল বা অলিভ অয়েলের গন্ধ উকুন সহ্য করতে পারে না। ফলে তারা মারা যায় এবং তারপর চিরুনি দিয়ে খুব সহজে উকুন মাথা থেকে দূর করা যায়। আপনাকে সারারাত চুলে অলিভ অয়েল লাগিয়ে রাখতে হবে। একটি কাপড় দিয়ে চুল মুড়িয়ে রাখুন। এভাবে সারা রাত রাখুন। তারপর উকুন চিরুনি দিয়ে ভাল করে চুল আঁচড়িয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এইভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।  ৩. মেয়োনেজ, মাখন ও পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান  মাথার তালু ও চুলে মেয়োনেজ বা মাখন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে সারা রাত এভাবে রেখে দিন। সকালে বেবি অয়েল দিয়ে চুল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চুলের উকুন ও উকুনের ডিম সহজেই দূর হবে।  ৪. এসেনশিয়াল অয়েল লাগানো  এসেনশিয়াল অয়েল, যেমন—টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল ও মৌরির তেল উকুন দূর করতে বেশ কার্যকর। ভেজিটেবল অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে লাগান। এবার একটি তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। এক ঘণ্টা পর ভালো করে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চুলের উকুন একেবারেই দূর হয়ে যাবে।   ৫. ভেজা চুল আঁচড়ানো  প্রথমে চুল পানি দিয়ে ভিজিয়ে কন্ডিশনার লাগান। এবার চিকন চিরুনি দিয়ে মাথার ত্বক থেকে চুলের আগা পর্যন্ত আঁচড়ান। কয়েকবার এভাবে ভেজা চুল আঁচড়ান। দেখবেন, মাথার উকুন অনেকটা দূর হবে।  ৬. নারকেল তেল  উকুন দূর করার ক্ষেত্রে নারকেল তেল অনেক ভাল কাজ করে থাকে। নারকেন তেল উকুনদের শ্বাসরোধ করে দেয় ফলে উকুনরা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং খুব সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিন। তেলটি মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করুন। এরপর শাওয়ার কাপ দিয়ে মাথা ঢেকে দিন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। শুঁকিয়ে গেলে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। দেখবেন উকুন চলে যাচ্ছে। এটি সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন করুন। দেখবেন উকুন গায়েব হয়ে গেছে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>