অস্বস্তিকর আইবিএস এবং এর সঠিক চিকিৎসা

আইবিএস বা ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রম একটি অস্বস্তিকর অসুখ। এই অসুখে ডায়রিয়ার সমস্যা হয়, আবার কোষ্ঠকাঠিন্যেরও সমস্যা হতে পারে। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। আইবিএসের বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মো. ফখরুল আলম। বর্তমানে তিনি হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রশ্ন: আইবিএস কী?  উত্তর: ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রম বা আইবিএসে বেশির ভাগ রোগী অভিযোগ করেন যে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হচ্ছে। যেকোনো সময় এটা হয়ে যাচ্ছে। তাঁর পায়খানা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার অনেক সময় রোগী বলেন, তাঁর দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে। সেটারও কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। বিভিন্ন ধরনের খাবার খান রোগমুক্তির জন্য। তবে এটি থেকে তিনি মুক্তি পান না। এসব ক্ষেত্রে আমরা বলি এটি অবশ্যই তাঁর ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রম বা এই ধরনের জটিলতা থেকে হচ্ছে।

 

প্রশ্ন: দৈনন্দিন খাবার তালিকার সঙ্গে কি এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে?  উত্তর: কিছু কিছু খাবারের সঙ্গেও কিন্তু আইবিএসের একটি সম্পর্ক রয়েছে। যেমন ধরেন কারো কারো দেখা যায় দুধজাতীয় খাবার খুব বেশি হজম হতে চায় না। যাকে আমরা বলি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স। এই ধরনের খাবারগুলো খেলে পেট ফেঁপে যায়, কারো কারো ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয়, কারো কারো পেটে অনেক গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস বের হচ্ছে বেশি বেশি করে— এই ধরনের অভিযোগও অনেকে করেন। এই ধরনের খাবার অনেকের সহ্য হয় না। আবার ধরেন, কিছু খাবার আছে যেমন শাক বা সবজি— এই জাতীয় খাবারও অনেক সময় হজম করতে অসুবিধা হয়। আইবিএস রোগীদের মধ্যে একটি ধারণা আছে যে এই খাবারগুলো ওদের সহ্য হচ্ছে না।

প্রশ্ন: এর চিকিৎসা কী?  উত্তর: রোগ যেমন অভিনব ধরনের। চিকিৎসাও তেমনি অভিনব ধরনের। এখানে যদি মানসিক অস্থিরতা, মানসিক সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যা প্রধান কারণ হয়, তাহলে এগুলোর সমাধান করতে হবে। রোগীকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করতে হবে। মানসিকভাবে যদি তাকে আশ্বস্ত করতে পারেন, দেখা যায় তাতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তাতে শরীর থেকে মনের চাপটা কম পড়ে। এরপর আইবিএসটা অনেকটা ঠিক হয়ে গেছে। কারো কারো ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্যি। কারো কারো ক্ষেত্রে অল্পতেই কাজ হয়। সবার কিন্তু তাতে পুরোপুরি লাভ হয় না। সেখানে আইবিএসের ধরন আছে। কারো হচ্ছে পাতলা পায়খানা বা অতিরিক্ত মলত্যাগের ধরনটা বেশি। একে আমরা ডাইরিয়াল টাইপ বলি। কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্যের ধরনটা বেশি। আমরা একে বলি কনস্টিপেটিং টাইপ। তো কোন ধরনের সেটা আমরা আগে বিচার করি। বিচার করার পর আমরা যদি দেখি ডাইরিয়াল টাইপ হয়, অবশ্য এ ধরনের রোগী বেশি হয়, বেশি বেশি পায়খানা হচ্ছে, বারবার পায়খানা হচ্ছে এবং মল নরম হয়ে যাচ্ছে। প্রথমেই খাবারের ধরন প্রাধান্য পাবে। দুধ, শাক, ঝাল তেল এগুলো খাবে না। কারো কারো বিভিন্ন ধরনের খাবারে উপকার হয়। কারো কারো বেল খেলে খুব লাভ হয়। কাঁচকলা খেলে খুব লাভ হয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেও খুব ভালো কাজ হয়।

প্রশ্ন: সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করা হলে ক্ষতিকর প্রভাব কী হতে পারে?  উত্তর: এখান থেকে সাধারণত শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা কম। তবে রোগীর পেশাগত বা সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। হয়তো অফিসে যেতে পারছেন না বা স্কুলে যেতে পারছেন না।

আইবিএসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর ছয় খাবার: কিছু খাবার আইবিএসের সমস্যাকে আরো শোচনীয় করে তোলে। আইবিএসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।  ১. পাস্তা পাস্তা, পিৎজা- এ জাতীয় খাবারে উচ্চ পরিমাণ গ্লুটেন রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, গ্লুটেন আইবিএসের অবস্থাকে আরো খারাপ করে দেয়।  ২. দুগ্ধ জাতীয় খাবার দুগ্ধ জাতীয় খাবার খেলে অনেক সময় আইবিএসের সমস্যা বেড়ে যায়। যেমন: দুধ , মাখন, পনির ইত্যাদি। দুধে থাকা ল্যাকটোজ থাকার কারণে এই ধরনের সমস্যা হয়।  ৩. ভাজা খাবার আইবিএসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভাজা খাবার অস্বাস্থ্যকর। ক্ষতিকর তেল ও চর্বি ডাইজেসটিভ ট্র্যাক্টে সমস্যা করতে পারে।  ৪. কফি কফি, এনার্জি ড্রিংকস, চা ইত্যাদি আইবিএস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ক্যাফেইন অন্ত্রে উদ্দীপনা তৈরি করে ডায়রিয়া বাড়িয়ে তোলে।  ৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্রোজেন খাবার, ফাস্ট ফুড ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে প্রিজারভেটিভ। প্রিজারভেটিভ আইবিএসে আক্রান্ত রোগীদের অন্ত্রে পুনরায় প্রদাহ তৈরি করতে পারে।  ৬. মদ্যপান মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইবিএসের রোগীরা এটি খেলে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মদ্যপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>