পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কয়েকটি খাবার !

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ যৌন স্বাস্থ্য। দাম্পত্য জীবনে শারীরিক সম্পর্কে সুখী হতে না পারলে দম্পতিদের মধ্যে ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিক দূরত্ব সৃষ্টি করে। ফলে পরকীয়া, অশান্তি কিংবা সংসার ভাঙার মতন সমস্যাও সৃষ্টি হয়। আমরা অনেকেই জানি না, খাদ্যাভ্যাস ও যৌন শক্তির মাঝে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কখনো এটি শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। আবার এমন কিছু খাবার রয়েছে যা খেলে হিতে বিপরীত হয়। অনেক পুরুষই যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা কম হওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন। খাদ্যাভাসের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবেই পুরুষরা এ ধরনের সমস্যায় ভুগেন, কিন্তু তারা তা জানেন না। ভুল খাদ্যাভাস পুরুষের লিবিডোতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন বয়স বাড়তে থাকে তখন ক্ষতির প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই যেসব খাবার দৈহিক শক্তি কমিয়ে দেয় বা এই ক্ষমতা নষ্ট করে সেগুলো খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই ভালো। বিশেষ কিছু খাবার আছে যেগুলো শরীরে যৌন উত্তেজনা কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

আবার খাওয়া দাওয়ার ওপরও মানুষের বয়স নির্ভর করে। যাদের ওজন বেশি, ৩৫ থেকে ৬০ বছরে তাদের বয়স দ্রুত বেড়ে যায়। শরীরে সময়ের আগেই বার্ধক্য আসে। বিশেষত যারা অতিরিক্ত চাপে থাকেন, অনিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত খাবার খান, ব্যায়াম করেন না তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা বেশি ঘটে। ভালো ডায়েটের অর্থ ভালো সেক্স। যার ডায়েট সিস্টেম যত উন্নত সে যৌনতায়ও ততই সুখী। খাবার প্লেটে ভুল খাবারের কারণে ঘাম, মূত্র, বীর্য নিঃসরণে সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। খাবারের কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে আসার বিষয়কে সমর্থন করেন বহু বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা বর্ণ যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি বা হ্রাসে ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিব মেডিসিনের প্রতিষ্ঠাতা ড. মাইকেল হির্ট জানান, নারী-পুরুষের যৌনতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে টেসটোসটেরন হরমোন। তবে এর পেছনে ভূমিকা আছে বেশ কিছু খাবারের। আবার কিছু খাবার দেহে টেসটোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এদের মধ্যে অ্যালকোহল বা পনিরের মতো খাবার রয়েছে। তবে এরা টেসটোস্টেরনকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন রোমান্টিক মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। নারীদের ক্ষেত্রেও তা ঘটে থাকে। যৌন উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয় এমন হাজারো খাদ্যের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। কিন্তু এমন খাদ্যও আছে, যা কারো যৌন আকাঙ্ক্ষাকে কমিয়ে দেয়। নিচে এমন কিছু খাদ্যের নাম দেয়া হলো। যৌন ইচ্ছা স্বাভাবিক রাখতে এই খাবারগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এগুলো এড়িয়ে গিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা ফিরিয়ে আনা যায়।

অ্যালকোহল যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে তারা অ্যালকোহল সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু শুনতে রাজি নন। কিন্তু নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে পুরুষের টেস্টসটেরন হরমোনের উৎপাদন কমে যায় এবং যৌন জীবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা সহ, ঠিকভাবে অর্গাজম না হওয়া এবং মিলনের শুরুতেই দ্রুত বীর্যপাতের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মদ পান। তাছাড়া অ্যালকোহল ও ভারি খাবার সবসময় তন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখে, যার পরিণামে সেক্সের উৎসাহ কমে যায়। ফলে আপনি সেক্সের ব্যাপারে আর উৎসাহ বোধ করেন না।  কফি কফি আপনার শরীরিক সম্পর্কের ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার মুড কার্যকর রাখে। তবে অতিমাত্রায় কফি খেলে হতে পারে বিপত্তি! এটি মূত্রথলির ক্ষতি করে এবং যৌন ও থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। প্রতিদিন অতিরিক্ত কফি পান করলে অ্যাডরেনাল গ্ল্যান্ডের উপর প্রভাব পড়ে এবং ফলাফল হিসেবে স্ট্রেস হরমোন উৎপন্ন হয়। স্ট্রেস হরমোন উৎপাদনের কারণে সেক্স হরমোন ও থাইরয়েড হরমোনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে ও ক্রমশ যৌন জীবন ফিকে হয়ে আসে।  পুদিনা সুগন্ধির জন্য পুদিনা পাতা অনেক বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু যৌন স্বাস্থ্যের জন্য এটি মোটেও ভালো নয়। অনেক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে পুদিনা যৌন উত্তেজনা কমিয়ে দিতে পারে। পুদিনায় উপস্থিত পিপারমিন্ট শরীরের যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হরমোন টেসটোসটের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে আপনার সেক্স ড্রাইভ ঠান্ডা হয়ে যায়।  তেলে ভাজা পোড়া খাবার তেলে ভাজা খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি পাওয়া যায় যা যৌন উত্তেজনা কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতির কারণে টেস্টেসটেরনের উৎপাদন কমে যায় এবং পুরুষের স্পার্মের গুণগত মান কমিয়ে দেয়। তাই গবেষকরা ভাজা পোড়া খাবারের বদলে বেক করা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ তেলে ভাজা খাবার যৌন উত্তেজনা কমিয়ে যৌন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।  কৃত্রিম চিনি অনেকেই মেদ কমাতে কিংবা ডায়াবেটিসের জন্য কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করেন খাবারে। কিন্তু কৃত্রিম চিনি যৌন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কৃত্রিম চিনি শরীরে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হরমোন সেরোটোনিনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। মানুষের সুখ অনুভব, কিংবা তাদের মানসিক অবস্থা এই সেরোটোনিনের উপর নির্ভরশীল। সেরোটোনিনের অভাবের কারণে মানুষের মাথা ব্যাথা করে, তারা হতাশা ও বিরক্তিতে ভোগে। যা যৌন আগ্রহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে ডোপামিন। কৃত্রিম চিনি মানবদেহের এই পদার্থটিকে প্রভাবিত করে। তাই পরেরবার দোকানে গেলে ন্যাচারাল সুইটনার যেমন মধু অথবা গুড় কিনুন। এতে আরও মধুময় হবে আপনার যৌন জীবন।  সয়া সয়াবিন থেকে তৈরি বেশিরভাগ পণ্যই সাইটোয়েস্ট্রোজেন নামে একটি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এটি পুরুষ ও নারীর দেহে হরমোনের ভারসাম্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী যারা সয়া পণ্য ভোগ করে তাদের মধ্যে মিলনের আগ্রহ কম। এছড়া অতিরিক্ত সয়া খেলে পুরুষদের স্তনের আকার বেড়ে যায়। সয়া থেকে যেসব খাবার তৈরি হয়, যেমন সয়া মিল্ক বা সয়া সস এগুলি টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়। ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায়। ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গবেষকরা দেখেছেন, যারা দিনে ১২০ গ্রাম সয়া খায় তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরোন কমে যায়। আর যেসব পুরুষ সন্তান জন্মদানের কথা ভাবছেন তারা খাদ্য তালিকা থেকে সয়া একদম বাদ দিয়ে দিন। সয়া শুক্রাণুর পরিমাণও কমিয়ে দেয়।  ময়দা যে প্রক্রিয়াজাত ময়দা দিয়ে সবকিছু বানানো যায়, সে ময়দা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। এ ময়দা তৈরিতে এমন সব উপাদান ব্যবহৃত হয় যা সেক্সের জন্যে দারুণ ক্ষতিকর। অন্যান্য গমের ময়দার চেয়ে এসব প্রক্রিয়াজাত ময়দায় জিঙ্কের পরিমাণ তিনগুন কম থাকে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত ময়দা দেহে ইনসুলিন উৎপাদন প্রতিহত করে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।  ক্র্যাকার্স যে কোনো ধরনের রিফাইন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা ছেলেদের যৌনকর্মে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। রিফাইন শর্করা সবচেয়ে বেশি থাকে ক্র্যাকার্সে। অতিরিক্ত রিফাইন শর্করা টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাছাড়া রিফাইন শর্করায় যে চিনি থাকে তা ওজনও বাড়ায়। এই চিনিও টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। বিপরীত ভাবে শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই যৌনকর্মের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে পরিমিত ক্র্যাকার্স খান।  অতিরিক্ত রেড মিট বা লাল মাংস রেড মিট নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেলে তা বরং উপকারেই লাগে। রেড মিট জিঙ্ক এবং প্রোটিনের অন্যতম উৎস। প্রোটিন এবং জিঙ্ক উভয়ই ফ্যাট কমায় এবং পেশী গঠন করে। জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং লিবিডো বা যৌন-ইচ্ছা বাড়ায়। কিন্তু বাজারে বিক্রি হওয়া রেড মিটে অতিরিক্ত হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত খাবারকে যৌন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে থাকেন। তাই বেশি রেড মিট খেলে আপনার শরীরের প্রাকৃতিক হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে।

বীট পরিশ্রমের পর বীট পেশির যত্ন নেয়। তবে এস মিষ্টজাতীয় সবজিতে যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় না। এদের বেশি খেলে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যাদের দেহে হরমোনঘটিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যে আরো ক্ষতিকর প্র্রভাব ফেলে বীট।  বেরি জাতীয় ফল স্বাস্থ্যের জন্যে দারুণ উপকারী বেরি জাতীয় ফল। কিন্তু এর ভক্ষণযোগ্য ত্বকে থাকে কীটনাশক। এই ত্বক ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণমাত্রা বৃদ্ধি করে। তবে যদি অর্গানিক ও কীটনাশকমুক্ত বেরি খাওয়া যায়, তবে তা যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করতে পারে।  বোতলজাত পানি বিশুদ্ধ খাবার পানি বলতেই আমরা এ পানি বুঝি। কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানান দিয়েছে বহু গবেষণা। যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাসসহ উর্বরতা নষ্ট করে প্লাস্টিক বোতলের কারণে। এতে পাওয়া যায় ‘বাইফেনোল এ’ নামের এক উপাদান। এটা বিপিএ নামেই পরিচিত। এক সাধারণ রাসায়নিক উপাদান যা অধিকাংশ প্লাস্টিক পণ্যে থাকে। এই উপাদানটি স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। এক স্লোভেনিয়ান গবেষণায় বলা হয়, উর্বরতা ও বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে বোতলজাত পানি। হার্ভার্ডের এক গবেষণায় বলা হয়, যে নারীর দেহে উচ্চমাত্রার বিপিএ থাকে তাদের ডিম্বের কার্যকারিতা কমে যায় ২৭ শতাংশ।  পনির অবাক হচ্ছেন? দুধ থেকে তৈরি পনিরকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেই জানি। পনিরকে হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরির কৃত্রিম উৎসও মনে করা হয়। কিন্তু হাই-ফ্যাট এই ডেয়ারী প্রোডাক্টটি পুরুষের যৌন উত্তেজনা কমিয়ে দিতে পারে। আর তাছাড়া আজকাল বাজারে যে সব পনির পাওয়া যায় তা বেশির ভাগ সময়তেই খাঁটি নয়। আর তাছাড়া নিয়মিত পনির খেলে শরীরে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে যায় যা থেকে ন্যাচরাল মুড আপলিফ্টিং হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয় বা নষ্ট করে।  যষ্টিমধু যষ্টিমধু দিয়ে তৈরি চা খেতে অনেকেই অভ্যস্ত। যষ্টিমধু শরীরে করটিসলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শরীরে টেসটোসটের মাত্রা কমে যায়। ফলে মানুষের যৌন আচরণে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই যষ্টিমধুর চায়ের পরিবর্তে সবুজ চা খাওয়া যেতে পারে।  টিনজাত খাদ্য বেশির ভাগ টিনজাত খাদ্যে বেশি পরিমাণ সোডিয়াম ও সামান্য পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে। টিনজাত খাদ্য মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তের স্বাভাবিক গতিতে বাধার সৃষ্টি করে।  পপকর্ন মাইক্রোওয়েভে তৈরি করা পপকর্ন খেলেও কিন্তু সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷ এই সব পপকর্নে থাকে প্রিফ্লুওরুক্ট্যানোইক অ্যাসিডের মতো কেমিক্যাল ৷ যা ধীরে ধীরে আপনার সেক্স ড্রাইভে সমস্যা ঘটায়৷ আর বেশি খাবার খেলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার ওজন বেড়ে যাবে। আর ওজন বেড়ে গেলে যৌনতার ইচ্ছা কমে যায়। যেকোনো ধরনের খাবার অতিরিক্ত খাওয়াই যৌন আকাঙ্ক্ষার বড় শত্রু।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>