মাছ খাওয়ার যেসব ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন !

মাছ খেতে কার না ভালো লাগে। বিভিন্ন কারণে পুষ্টিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোনো না কোনো মাছ রাখা দরকার। কেননা নানা রকমের মাছে রয়েছে হাজারো খাদ্যগুণ। নিয়মিত মাছ খেলে মস্তিষ্কের বিকাশ ভালো হয়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে কমে যায় মস্তিষ্কের বয়স। এ ছাড়া ছোটবেলা থেকেই মাছ খেলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ভালো হয় বলে প্রচলিত আছে। তবে এই মাছ খাওয়ার যেমন স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে, তেমনি এই মাছেই আছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। অতিরিক্ত মাছ খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামুদ্রিক মাছের কিছু উপাদানের কারণে গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অবস্থায় মাঝের উপকারী উপাদানগুলোই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মাছ খাওয়ায় কখন সতর্ক হবেন

গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর: মাছে বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙ্গর, সোর্ডফিশ, টুনাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছে অতিরিক্ত মাত্রায় পারদসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে, যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশেই প্রক্রিয়াজাত মাছ বিক্রি করা হয়। এই প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ক্রুটির কারণে মাছ খাওয়া দেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অতিরিক্ত মাছ খাওয়া: নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সামুদ্রিক মাছসহ বিভিন্ন স্বাদুপানির মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে গবেষক নরম্যান হর্ড জানান, এই বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রদাহবিরোধী ধর্ম রয়েছে। আর এ কারণে হার্টের স্বাস্থ্য ও প্রদাহজনিত সমস্যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড উপকারী। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অতিরিক্ত খেলে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা পাল্টে যেতে পারে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে শরীর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে, হতে পারে রোগ সংক্রমণ। ওই গবেষক বলেন, অতিরিক্ত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পাল্টে যায়, যা জীবাণুর সঙ্গে শরীরের লড়াই করার ক্ষমতার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই পরিমিত পরিমাণে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মাছের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা: মাছের কম ক্যালোরির জন্য একটি সুনাম রয়েছে, মাছের তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি এর একটি উৎস, যা ‘মস্তিস্ক খাদ্য’ নামে পরিচিত। ব্রিটেনে এক জরিপে দেখা যায়, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নারীরা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড গ্রহণ করলে তাদের পেশীশক্তি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। মাছের শতকরা ২০ ভাগই আমিষ। মাছে আছে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণ এছাড়াও মাছে চর্বি, খনিজ তেল, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়। যদিও আমারা মাছে ভাতে বাঙালী তথাপি অনেকেই মাছ খেতে চায় না। বিশেষ করে শিশু ও তরুণরা তারা মাছের বদলে মাংশ হলেই যেনো একটু বেশি খুশি। তাদের বাবা মা দের জন্য জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ, নতুন এক গবেষণায় বেড়িয়ে এসেছে সপ্তাহে এক অথবা দুইদিন মাছ খেলেও শরীরে সমান ভাবে কাজ করবে।

কোন মাছ আমাদের কি উপকার করে:  মাছ আমাদের নিত্য দিনের খাবারের সঙ্গী। আমাদের খাবারের দ্বিতীয় তালিকাতে আছে মাছ। আমাদেরকে বলা হয় মাছে ভাতে বাঙ্গালী। কিন্তু আমরা তো প্রতিদিন একই জাতের মাছ খায় না। বিভিন্ন জাতের মাছ ভাতের সাথে খেয়ে থাকি। একেক মাছের আছে একেক গুন। সব মাছের পুষ্টিগুন সমান নয়। তাই আসুন আমরা জেনে নেয় কি মাছে কি গুন আছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী–  ১. রুই মাছ: বল বীর্য ও শুক্র বাড়ায় কিন্তু বাত রোগ থাকলে তা কমায়। ২. কাতলা মাছ: বায়ু পিত্ত ও কফ কমায় কিন্তু শক্তি বাড়ায়। ৩. বাউস মাছ: শুক্র ও বল বাড়ায়। ৪. চিতল মাছ: শুক্র ও বল বাড়ায়। ৫. ইলিশ মাছ: হজম শক্তি বাড়ায়, বায়ু কমায়, পিত্ত ও কফ কমায়। ৬. আইড় মাছ: শুক্র বল ও মেধা বাড়ায় কিন্তু বায়ু ও কফ কমায়। ৭. বোয়াল মাছ: শক্তি বাড়ায়, রক্ত ও পিত্তকে দুষিত করে কিন্তু ত্রিদোষ বাড়ায় অম্লপিত্ত কুষ্ট ও হাপানি প্রভৃতি কঠিন রোগ উৎপাদন করে। সব রোগীর জন্যই অপথ্য। ৮. মাগুর মাছ: শুক্র, বল ও রক্ত বাড়ায়, রক্তহীন ও পউরানা রুগীদের জন্য ভাল খাবার। ৯. শিং মাছ: কফ, মায়ের দুধ ও শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের বাত কমায়। ১০. কৈ মাছ: শক্তি ও পিত্ত বাড়ায়, বায়ু কমায়। ১১. খলিশা মাছ: পায়খানা কষায়, বায়ু বাড়ায় গুলরোগ ও আমদোষ কমায়। ১২. শোল মাছ: পায়খানা কষায়, পিত্ত ও রক্তের জন্য খুবই উপকারী। ১৩. গজার মাছ: পায়খানা কষায়, শরীরে শক্তি বাড়ায়। ১৪. চিংড়ি মাছ: রুচি, বল, শুক্র ও কফ বাড়ায়। শরীরের মেদ পিত্ত ও রক্ত দোষে খুবই উপকারী। শীত পিত্ত বা শরীরে এলার্জি বৃদ্ধি করে। ১৫. চাপিলা: শুক্র, বল, কফ বাড়ায়। বায়ু ও পিত্ত কমে, শরীরে আমবাত হয়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>