বিকালে কিংবা সন্ধ্যার নাস্তায় কোন খাবার খাবেন এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

বিকেলে ভাজা পোড়া খেলে অনেকেরই গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। এর বদলে পুষ্টিকর কোনো খাবারই বিকেলের নাস্তা হিসেবে খাওয়া উচিত। তাছাড়া দুপুরের ঠিক পরপরই আমাদের শরীর ছেড়ে দেয়। অফিস কিংবা বাসার কাজে বাধা সৃষ্টি করে ক্লান্তি এবং জড়তা । চা, কফি, ভাজা পোড়া খেয়ে সুস্থ থাকা যায় না। তাই বিকেলের এই সময়টাতে নিজেকে সতেজ রাখতে প্রয়োজন পুষ্টিকর আর মজাদার খাবার। আপনি চাইলেই সুস্বাদু আর পুষ্টিকর কিছু নাস্তায় খুব সহজেই সমগ্র বিকেলে থাকতে পারেন ফুরফুরে মেজাজে যা আপনাকে করবে আরো কর্মদ্যোম। জেনে নিন এমনই কিছু পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে।

সবজির সালাদ উপাদেয় সবজি যেমন গাজর,শশা, বীটের সাথে কুচি কুচি করে কেটে দেওয়া আপেল এবং আস্ত কয়েকটা দারুচিনি দিয়ে তৈরি করতে পারেন সবজির সালাদ। বিকেলে হাতের খুব কাছেই পেয়ে যাবেন এই উপাদানগুলো। ফলের ভিটামিন সি আর সবজির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনাকে বিকেলে রাখবে একদম তরতাজা।  গাজরের হালুয়া তৈলাক্ত ভাজা পোড়া খাবার মুখে নেওয়ার চেয়ে বিকেলের নাস্তায় খেতে পারেন বাসায় তৈরি করা গাজরের হালুয়া। দুপুরে নিজেকে আরো বেশি কাজে মনোযোগী করতে শরীরে প্রয়োজন আয়রন। এই গাজরের হালুয়া শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রনের অভাব দূর করে এবং অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।  দুধবাদাম দুধবাদামও হতে পারে আপনার বিকেলের নাস্তার একটি উপাদেয় খাবার। আমরা সাধারণত আমাদের অবসাদ কাটাতে চা-কফি পান করি কিন্তু চা কফির ক্যাফেইন আমাদের শরীরের ক্ষতি করে। দুধ বাদামে থাকা ভিটামিন এ, ই এবং ভিটামিন বি-৬ খুব সহজেই শরীরকে চনমনে এবং চাঙ্গা করে তোলে। পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যার সমাধানেও এটি মূখ্য ভূমিকা পালন করে।  কলা ও রুটি বিকালের নাস্তা কলা ও রুটি খেতে পারেন ।পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যার সমাধানেও এটি মূখ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া কলা খুবই পুষ্টিকর খাবার ।
সর্বাপরি গ্যাসের সমস্যা হয় না এমন খাবারের তালিকা রাখতে হবে।

সুস্থ থাকতে বিকালের নাস্তায় এড়িয়ে চলবেন যে ৫টি খাবার বেলা যখন পাঁচটা/ছয়টা, তখন ঘড়ির দিকে না তাকিয়েও বুঝে ফেলা যায় পেটের ইঁদুরের একটু আধটু দৌড়াদৌড়িতে। হালকা ক্ষুধা ও ঘুম ঘুম ভাব কাজকর্মে বাঁধা ফেলতে শুরু করে। দুপুরের খাবারের পর এই সময়টাতে আবার যখন ক্ষুধা অনুভূত হতে থাকে তখন অনেকেই ক্ষুধা মেটাতে নানান ধরণের নাস্তা খেয়ে থাকেন। যদিও হালকা খাবার খাওয়া হয়, এই সময়ে কিন্তু বেশীরভাগ সময়েই স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক খাবারের প্রতি নজর যায় সবার। আবার অনেকে স্বাস্থ্যসম্মত ভেবেই খেয়ে নিচ্ছেন সময় অনুপযোগী কিছু খাবার যার প্রভাব পড়ছে দেহে। আসুন দেখে নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোন কোন খাবার বিকালের নাস্তায় খাবেন না। বিকালের নাস্তায় সাধারণত বিস্কুটের প্রাধান্য দেখা যায়। অনেকেই তেলে ভাজা আলুর চিপসকে স্বাস্থ্যহানিকর মনে করে বিস্কুটকে বেছে নেন। বিস্কুটের মধ্যে নোনতা বিস্কুটকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ধারণা করা হয়। কারণ নোনতা বিস্কুটগুলোয় ফ্যাট কম হয়, চিনিও নেই। কিন্তু জানেন কি, ডায়টেশিয়ানদের মতে বিকালের নাস্তায় নোনতা বিস্কুট খুবই অস্বাস্থ্যকর একটি খাবার! শুধু তাই নয়,আপেলের মত একটি স্বাস্থ্যকর ফলও বিকেলে খেতে মানা করেন ডায়েটিশিয়ানরা।

অ্যানার্জি ড্রিংক/কোমল পানীয় অনেকেই ভাবেন বিকেলে নাস্তার সময় এনার্জি ড্রিংক বা অন্য কোনো কোমল পানীয় একসাথে দুটি কাজ করবে। কাজ করার শক্তি দেবে ও ক্ষুধা ভাব দূর করবে। কিন্তু এটা একটি অনেক বড় ভুল ধারণা। এনার্জি ড্রিংকে শুধুমাত্র চিনি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে যা খালি পেটে খেলে সরাসরি দেহে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়। কারণ অ্যানার্জি ড্রিঙ্কে শুধুমাত্র ফ্যাট ও চিনি রয়েছে, কোন ফাইবার নেই। তাই খালিপেটে অ্যানার্জি ড্রিংক বা অন্য কোন কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।

নোনতা বিস্কুট বিকালের নাস্তায় সাধারণত বিস্কুটের প্রাধান্য দেখা যায়। অনেকেই তেলে ভাজা আলুর চিপসকে স্বাস্থ্যহানিকর মনে করে বিস্কুটকে বেছে নেন। বিস্কুটের মধ্যে নোনতা বিস্কুটকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ধারণা করা হয়। কারণ নোনতা বিস্কুটগুলোতে ফ্যাট কম হয়,চিনিও নেই। কিন্তু ডায়টেশিয়ানদের মতে বিকালের নাস্তায় নোনতা বিস্কুট খুবই অস্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এটা শুধুমাত্র ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট ও অনেক বেশি সোডিয়াম দেহে প্রবেশ করায়। নোনতা বিস্কুটের চাইতে অনেক বেশি পুষ্টিকর খাদ্য হচ্ছে বাদাম। এলিসা জেইড বলেন, “বিকালের নাস্তায় বাদাম খাওয়ার অভ্যাস অনেক ভালো, এতে দেহ পুষ্টি পায়।“  আপেল শুনেই ভ্রু কুঁচকে ফেলছেন? ভাবছেন আপেলের আবার কি সমস্যা, অনেক পুষ্টিকর একটি ফল ইত্যাদি। হ্যাঁ,তা অবশ্যই। আপেল অনেক বেশি ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ। কিন্তু তাই বলে বিকেলের নাস্তায় শুধুমাত্র একটি আপেল আপনার জন্য খুব বেশি ভালো কিছু নয়। বরং আপেল খাওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই আবার ক্ষুধা লাগবে ও আপনি আরও বেশি হাবিজাবি খেয়ে ফেলবেন। আপেলের সাথে আপনাকে আরও পুষ্টিকর কিছু যোগ করতে হবে। আপেলের সাথে আপনি কিছু বাদাম যোগ করতে পারেন।  ক্যান্ডি বার অনেকেই বাইরে কোথাও থাকলে কিংবা অফিসে এই সময় চট জলদি খিদে মেটাতে ক্যান্ডি বার খেয়ে নেন। ক্যান্ডি বারের সামান্য পরিমাণ চকলেট ও ক্যাফেইন অবশ্যই আপনাকে খানিকক্ষণের জন্য চাঙা করে তুলবে কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার আগের পর্যায়ে ফিরে যাবেন। কারণ এতে কোনো ফাইবার নেই। সুতরাং ক্যান্ডি বার খেলে আপনার তেমন কোনো লাভ হবে না। ক্যান্ডি বারের ফ্যাটটিই শুধু আপানার দেহে জমা হবে। এর বদলে চিনি বিহীন ডার্ক চকোলেট বার সাথে রাখতে পারেন।  আলুর চিপস চটজলদি ক্ষুধা মেটাতে সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায় আলুর চিপস। সহজলভ্য বলে অনেকেই আলুর চিপস খেয়ে বিকেল সময়টা পার করে দেন। কিন্তু এটা আপনার স্বাস্থ্যের উপর কি প্রভাব ফেলছে তা ভাবেন না কেউই। অল্প পরিমানের প্রোটিন ও ফাইবার এবং অতিরিক্ত পরিমানের ফ্যাট সমৃদ্ধ এই আলুর চিপস শুধুমাত্র দেহে ফ্যাট হিসেবে জমা হবে। আর তাৎক্ষনিক অ্যানার্জির বদলে আপনাকে আরও আলসে করে তুলবে। তাই বিকেল সময়টাতে আলুর চিপসের বদলে বুট জাতীয় কিছু খেতে পারেন। বাদামও অনেক উপযোগী একটি খাবার কারণ এতে সামান্য ফ্যাটের সাথে ফাইবার রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।

কোন খাবারগুলো কম কম খাব? আমরা সবাই জানি যে খাবার হওয়া চাই সুষম, অর্থাৎ আমিষ, শর্করা, চর্বি ও ভিটামিন, খনিজের সমাহার থাকা চাই। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার আছে, যা কম কম খাওয়াই ভালো। আসুন তৈরি করে নিই এমন একটা তালিকা। চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয়: সাদা চিনি, বাদামি চিনি, ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ, কর্ন সুগার, মধু—নানা নামের চিনি যুক্ত করা হয় বাজারজাত পানীয়তে। যে নামেই থাকুক, এগুলো সবই সহজ শর্করা, যা রক্তে শর্করা ও ওজন বাড়ায়। প্রতিদিন কেবল ছোট সাইজের এক ক্যান চিনিযুক্ত পানীয় (কোলা, জুস ইত্যাদি) বছরে আপনার ওজন বাড়াবে ১৫ পাউন্ড। বেকারি: কেক, পেস্ট্রি, ডোনাট, কুকিজ—এসব বেকারির খাবারে থাকে বাড়তি চিনি, কিছু লবণ, প্রক্রিয়াজাত শর্করা, ট্রান্সফ্যাট নামের খারাপ চর্বি। এগুলো ক্ষতিকর। সাদা শর্করা: শর্করা আমাদের মূল খাবার। কিন্তু সাদা ভাত, ময়দার তৈরি রুটি বা পরোটা, সাদা পাউরুটি, নুডলস, পাস্তা এগুলো সহজেই শর্করা ও ওজন বাড়ায়। তাই আঁশযুক্ত বা গোটা শস্যের তৈরি খাবার থেকে শর্করা বেছে নিন। বেছে নিন লাল বা মোটা ভাত, আটার রুটি, ব্রাউন ব্রেড, ব্রাউন পাস্তা ইত্যাদি। দুগ্ধজাত খাবার: বেশির ভাগ দুগ্ধজাত খাবারই মিষ্টিদ্রব্য। এ ছাড়া ঘন দুধ ও দুধের তৈরি পনির, মাখন, পায়েস, পুডিং, আইসক্রিম এগুলো সবই উচ্চ ক্যালরিযুক্ত। ননিহীন দুধ বা কম ননিযুক্ত দুধ বেছে নেওয়া ভালো। লাল মাংস: গরু ও খাসির মাংসের তৈরি নানা লোভনীয় পদের খাবার মাসে এক-দুই দিনে সীমিত করে নিন। আমিষের উৎস হিসেবে বেছে নিন মাছ, দুধ, ডিম, মুরগি, বাদাম ও ডাল।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>