যৌনতার জন্য উত্তেজক ওষুধ নয়, প্রয়োজন ফিটনেস অথবা বিকল্প খাবার

ব্যায়ামের মাধ্যমেই শরীরটাকে ফিট রাখা যায় এবং কাঙিক্ষত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রক্ত প্রবাহ তৈরি হয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ব্যায়াম শুধু শরীর গঠনে সহায়ক তাই নয়, ব্যায়ামে রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না। ফলে হার্টের রক্তনালীতে ব্লক সৃষ্টির ঝুঁকি কম থাকে।

আমি সব সময় বলে আসছি পুরুষের শারীরিক সমস্যার শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ মানসিক। আর মানসিক সমস্যার কোন ওষুধের প্রয়োজন হয় না। সামান্য কাউন্সিলিং করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিবাহিত পুরুষের শারীরিক সমস্যার মধ্যে প্রধান দুইটি সমস্যা হচ্ছে ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ইডি) এবং প্রিমসিউর ইজাকুলেশন (পিএমই)। এছাড়াও পুরুষ ও মহিলাদের শারীরিক অন্যান্য সমস্যা রয়েছে যা যৌন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে ইডি এবং পিএমই এই দু’টো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে সামান্য চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তবে কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ভায়াগ্রা জাতীয় যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। ওষুধ ও কাউন্সিলিং-এর পাশাপাশি শারীরিক সমস্যার সমাধানে ফিটনেস বেশি প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় নির্ধারণ ও যথাযথ পরিবেশ প্রয়োজন। শরীর ফিট রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ভালো। অনেকে প্রশ্ন করেন, ডাক্তার সাহেব ব্যায়ামের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মিলনে সাফল্যের কি সম্পর্ক আছে। ব্যায়াম করে ফিট হলে আপনার কাছে আসবো কেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ধরনের প্রশ্নে আমি বেশি সময় নিয়ে কথা বলি। এই উদাহরণটি প্রায়শই দেই যে, বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা রোনালদো বা রোনালদিনহোর কথাই ধরা যাক। শরীর যদি ফিট না থাকে কত বাজে পারফরম্যান্স হতে পারে তা এই দুই বিশ্ব তারকার অনেক খেলায় দেখা গেছে। রোনালদোকে আমি কখনোই টেলিভিশনের পর্দা ছাড়া দেখিনি। কিন্তু রোনালদিনহোকে দেখেছি স্পেনের বার্সিলোনাতে। তাও খেলতে নয়, অনুশীলন করতে। কঠোর পরিশ্রমী এই কৃতি খেলোয়াড়ের অনুশীলন দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে তার বাহু ও পায়ের জোর কতখানি হতে পারে। আর এই কৃতি খেলোয়াড় যদি এক মাস অনুশীলন না করে মাঠে নামেন তবে পারফরম্যান্স কেমন হবে তাও ভাবা যায়। এভাবে স্বামী-স্ত্রীর কাঙিক্ষত ফলাফলের জন্যও শরীরটাকে ফিট রাখা দরকার। তরুণ বয়সে হয়ত শরীর ঠিক না রেখেও ভালো ফল পেয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে বয়স যত বাড়বে ততই শরীরের ফিটনেস বেশি দরকার। আর শরীর ফিট রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা ভালো। তবে যারা ৫০ থেকে ৬০ মিনিট বা এক ঘন্টা ব্যায়াম করতে পারেন তাদের শরীর বেশি ফিট থাকে। তাই বলে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম অথবা দীর্ঘসময় ব্যায়াম করার অব্যবহিত পরপরই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপন ঠিক নয়। ব্যায়াম করার সময় শরীরের রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, অনেক ক্ষেত্রে খানিকটা রক্ত চাপও বাড়ে। ব্যায়ামের পর শরীর স্বাভাবিক হতে অন্তত তিনঘন্টা সময় লাগে। ব্যায়াম পুরুষের ফিটনেস দুইভাবে বাড়ায়।

১. নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর গঠনে সহায়ক হয় এবং শরীরে এনার্জি বা শক্তি বাড়ে। ২. নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রক্তের ভাসমান ভর্তি হ্রাস করে। সব সময় মনে রাখতে হয় রক্তে চর্বিতে চর্বি যত কম তার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মিলনে দীর্ঘসময় লাভে তত সহায়ক। শুধু চর্বি কম থাকলে চলবে না, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও মুক্ত থাকতে হবে।

মনে রাখতে হবে পুরুষের মিলনের ক্ষেত্রে একমাত্র রক্ত প্রবাহই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সম্পূর্ণ মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি থাকলে রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে পুরুষ তার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যদি কোন কারণে বিশেষ স্থানে রক্ত প্রবাহ যদি ঠিকমত না হয় অথবা রক্ত প্রবাহিত হবার পর দ্রুত বের হয়ে আসে তাহলেও স্বামী-স্ত্রীর মিলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আর শরীরে রক্ত প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অন্য কোন রোগ না থাকলে ব্যায়ামের মাধ্যমেই শরীরটাকে ফিট রাখা যায় এবং কাঙিক্ষত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রক্ত প্রবাহ তৈরি হয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ব্যায়াম শুধু শরীর গঠনে সহায়ক তাই নয়, ব্যায়াম রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না। ফলে হার্টের রক্তনালীতে ব্লক সৃষ্টির ঝুঁকি কম থাকে। তাই শরীরটাকে ফিট রাখার জন্য পুরুষের নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়েই লেখাটি শেষ করবো। গত সপ্তাহে চেম্বারে একজন রোগী পেলাম যার বয়স ৮০ বছর। শারীরিক সমস্যা বা যৌন সমস্যা নিয়ে এত বয়সের রোগী আর আসেনি। এর আগে ৭৬ বছর বয়সী এক রোগীকে পেয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল বয়োজেষ্ঠ এই পুরুষ যাকে আমি চাচা বলে সম্বোধন করেছি। চাচার মুখে অনেকগুলো সেবোরিক ক্যারাটোসিস বা পুরু কালো চামড়া ছিল। অনেকটা ফ্লাট আঁচিলের মত। ভেবেছিলাম এগুলো সরাতে চান। কারণ ইদানীং বেশকিছু বয়সী পুরুষ রোগী আসছেন মুখের দাগ, আঁচিল, তিল, পুরু চামড়া সরাতে। এদের মধ্যে একাধিক রাজনীতিবিদ, সাবেক সচিব, সিনিয়র সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতা রয়েছেন। আমার ধারণা আজকাল স্যাটেলাইট চ্যানেলে এসব ভিআইপি পুরুষ রোগীদের প্রায়শই দেখা যায়। তাই হয়ত মুখের এই পরিচর্যা। যাহোক, চাচাকে জানতে চাইলাম কি সমস্যা। হেসে বললেন, বয়স হয়েছে কিন্তু ইচ্ছাটা এখনো রয়েছে। এই বয়সের রোগীদের জন্য কোন চিকিৎসা আছে কিনা। যাহোক চাচার সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট আলাপ করলাম। চাচা জানালেন, ৭০/৭২ বছর পর্যন্ত ভালো ছিলেন। তার স্ত্রীর বয়স ৫০ এবং তাদের ৮টি সন্তান রয়েছে। চাচা এটাও জানালেন এই বয়সেও তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে অভ্যস্ত। মেনে চলেন নানা নিয়ম-কানুন। এই বয়সেও তাকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল স্পর্শ করতে পারেনি। চাচার মত শক্ত সামর্থ্য শরীর রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। পরিমিত আহার করুন। [১]

বিকল্প খাবার
শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি পূরণে আমরা প্রতিদিনই অনেক ধরনের খাবার খেয়ে থাকি কিন্তুসবাই জানি কি কোন ধরনের খাবার আমাদের সেক্স বাড়াতে সক্ষম? সাধারণত খাবারে ভিটামিন এবং মিনারেলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে শরীরে এন্ড্রোক্রাইন সিস্টেম সক্রিয় থাকে। আর তা আপনার শরীরে এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের তৈরি হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন সেক্সের ইচ্ছা এবং পারফরমেন্সের জন্য জরুরি। আপনি যৌন মিলনের মুডে আছেন কিনা তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে আপনার খাদ্য। আসুন জেনে নিই এমন কয়েকটি দৈনন্দিন খাদ্য সম্পর্কে যা আপনার শরীরে সেক্স পাওয়ার বাড়ায় বহুগুণ।

দুধ:বেশি পরিমাণ প্রাণিজ-ফ্যাট আছে এ ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্য আপনার যৌনজীবনের উন্নতি ঘটায়। যেমন, খাঁটি দুধ, দুধের সর, মাখন ইত্যাদি। বেশিরভাগ মানুষই ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু আপনি যদি শরীরে সেক্স হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান তাহলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবারের দরকার। তবে সগুলিকে হতে হবে প্রাকৃতিক এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট।  ঝিনুক: আপনার যৌনজীবন আনন্দময় করে তুলতে ঝিনুক খাদ্য হিসেবে খুবই কার্যকরী। ঝিনুকে খুব বেশি পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং লিবিডো বা যৌন-ইচ্ছা বাড়ায়। ঝিনুক কাঁচা বা রান্না করে যে অবস্থাতেই খাওয়া হোক, ঝিনুক যৌনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  অ্যাসপারাগাস: আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়াতে চাইলে যেসব প্রাকৃতিক খাবার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে সেগুলি খাওয়া উচিত। যৌনতার ক্ষেত্রে সবসময় ফিট থাকতে চাইলে অ্যাসপারাগাস খেতে শুরু করুন।  কলিজা: অনেকেই কলিজা খেতে একদম পছন্দ করে না। কিন্তু আপনার যৌন জীবনে খাদ্য হিসেবে কলিজার প্রভাব ইতিবাচক। কারণ, কলিজায় প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। আর এই জিঙ্ক শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি পরিমাণে রাখে। যথেষ্ট পরিমাণ জিঙ্ক শরীরে না থাকলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয় না। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা টেস্টোস্টেরন তৈরি হওয়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া জিঙ্ক এর কারণে আরোমেটেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। এই এনজাইমটি অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরোনকে এস্ট্রোজেনে পরিণত হতে সাহায্য করে। এস্ট্রোজেনও আপনার যৌনতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন।  ডিম: ডিম সেদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।  রঙিন ফল যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়। আবার টেক্সাসের ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। তারা যৌন উদ্দীপক ওষুধ ভায়াগ্রার সাথে তরমুজের তুলনা করেছেন।  মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু শুধু শর্করার ভালো বিকল্পই না, মিষ্টি আলু খুব ভালো ধরনের একটি ‘সেক্স’ ফুড। আপনার শরীর কোনো সবজিতে বিটা-ক্যারোটিন পেলে তা ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত করে। এই ভিটামিন-এ নারীদের যোনি এবং ইউটেরাসের আকার ভালো রাখে। তাছাড়া এটা সেক্স হরমোন তৈরিতেও সহায়তা করে।  কফি: কফি আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার যৌনতার মুড ঠিক রাখে।  ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেটে আছে ফেনিলেথ্যালামাইন নামক একটি উপাদান যা শরীরে বাড়তি যৌন উদ্দীপনা তৈরী করে। গবেষণায় জানা গেছে যে ডার্ক চকোলেট খেলে সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণবোধও বেড়ে যায়। এছাড়াও ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই প্রতিদিন শতকরা ৭০ ভাগ কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেটের ২ ইঞ্চির একটি টুকরো খেয়ে নিন। মাত্র ১০০ ক্যালরী আছে এই আকৃতির একটি টুকরোতে যা আপনার যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।  ট্রাফল (এক ধরনের ছত্রাক): ট্রাফলে পুরুষের যৌন হরমোনের মত একধরনের উপাদান থাকে। কিছু কিছু খাবারে ট্রাফলের এই বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যার ফলে, নারীদের পুরুষের প্রতি লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। যেমন ম্যাশড পটেটোতে ট্রাফলের ব্যবহার করা হয়।  জয়ফল: ভারতীয় গবেষকদের মতে, জয়ফল থেকে এক ধরনের কামোদ্দীপক যৌগ নিঃসৃত হয়। সাধারণভাবে এই যৌগটি স্নায়ুর কোষ উদ্দীপিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনার যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়। আপনি কফির সাথে মিশিয়ে জয়ফল খেতে পারেন, তাহলে দুইটির কাজ একত্রে পাওয়া সম্ভব।  তৈলাক্ত মাছ: তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরন হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।  গরুর মাংস: কলিজার মত গরুর মাংসেও প্রচুর জিঙ্ক থাকে। তাই আপনি যৌন জীবনকে আরো আনন্দময় করতে কম ফ্যাটযুক্ত গরুর মাংস খান। যেমন গরুর কাঁধের মাংসে, রানের মাংসে কম ফ্যাট থাকে এবং জিঙ্ক বেশি থাকে। এইসব জায়গার মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে।  অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডোকে এর আকৃতির কারণে একে নারী ফল হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। তবে শুধু এর আকৃতিই আকর্ষণীয় না, এতে প্রচুর ভিটামিন বি-সিক্স এবং পটাসিয়াম থাকে। এর ফলে এটা খেলে আপনার যৌন ইচ্ছা এবংযৌন সামর্থ্য বৃদ্ধি পায়। এই ফলের এই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যটির কারণে একে স্প্যানিশ প্রিস্টরা নিষিদ্ধ করেছিল।  ওটমীল: ওটমিলে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে। যেসব দানাজাতীয় শশ্যে আবরণ থাকে তাদের মধ্যে এই গুণটি রয়েছে। যেমন গম, চাল, রাই ইত্যাদি। ফাইটোস্ট্রজেন আপনার যৌন জীবনের জন্য খুবই কার্যকরী।  পালং শাক ও অন্যান্য সবজি পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে। পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক,ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।  বাদাম ও বিভিন্ন বীজ কুমড়োর বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে। সেক্স হরমোন গুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। শিমের বীচিতে প্রচুর ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে। এটা আপনার যৌন ইচ্ছা এবং যৌন সামর্থ্য বাড়ায়। জাপানিরা যৌন ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য খাবারে প্রচুর শিমের বীচি ব্যবহার করে থাকে। চীনা বাদামে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। এই জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় এবং শক্তিশালী শুক্রাণু তৈরি করে। জিঙ্ক কম থাকলে শরীরে শতকরা ৩০ ভাগ কম বীর্য তৈরি হয়। যারা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে কম জিঙ্ক গ্রহণ করে তাদের বীর্য এবং টেস্টোস্টেরনের ঘনত্ব দুটিই কমে যায়। ওটমিল এবং কুমড়ার বীচির মত সূর্যমুখীর বীজ হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে আপনার যৌন আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। সূর্যমূখীর বীজে যে তেল থাকে তা এই কাজটি করে। কুমড়ার বীচি জিঙ্ক-এর অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস। এই জিঙ্ক টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা বাড়ায়। আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে কুমড়ার বীচির কার্যকারিতা অনেক।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>