সুদর্শন ও আকর্ষণীয় পুরুষ হয়ে উঠতে মেনে চলুন এই টিপস গুলো

রোদের যে তেজ, তাতে বাইরে যাওয়াই দায়। বৈশাখের গরম আবহাওয়ায় ঘেমে-নেয়ে একাকার পুরো শরীর। সেই সঙ্গে বাইরে বেরোলেই ধুলাবালু লেগে ত্বকের অবস্থা যাচ্ছেতাই। কিন্তু এসবের ভয়ে তো আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। বরং ধুলাবালু আর রোদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বাইরে চলতে একটু যত্ন নিতে পারেন আপনার ত্বকের। রূপবিশেষজ্ঞ শাদীন মাহবুব বলেন, ‘নানা কাজে ছেলেদের ঘরের বাইরে চলতে হয়। ছেলেরা নিজের চেহারার দিকে খুব কমই মনোযোগ দিয়ে থাকে। ফলে ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ। কিছুটা সচেতন থাকলেই তারা নিজেকে সতেজ রাখতে পারে। রোদে পোড়া ত্বকের কালচে ভাবও দূর করতে পারে।’ মুখে কালচে দাগ যাতে না পড়ে, সে জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় সান প্রোটেক্ট ফিল্টার ব্যবহার করা। যে কারণে এই সময়ে উপযুক্ত হচ্ছে সিপিএফ ১৫।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে
ত্বক তৈলাক্ত হলে বাইরে গেলেই মুখ তেলতেলে দেখায়। ছেলেদের ত্বকে এই সময়েও আর্দ্রতা ধরে রাখাটা জরুরি। যে কারণে প্রতিদিন পরিষ্কার পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। বাইরে যাওয়ার আগে ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোমতো মুখ পরিষ্কার করে নিন। বাইরে থেকে এসে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে মুখে একটু ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশন দিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে ত্বক কোমল থাকবে। সকালে উঠেই তা আবার পরিষ্কার করে ফেলুন।   ত্বকের কালচে ভাব এড়াতে: শাদীন মাহবুব বলেন, ‘এই সময়ে নিয়মিত গোসল করাটা জরুরি। গোসলের সময়ে পুরো মুখ ও শরীর পরিষ্কার করে নিলে ময়লা জমে থাকতে পারে না।’ তিনি আরও জানান, বাইরে গেলে যাঁদের ত্বকে কালচে ভাব আসে, তাঁরা সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। আর এটি কেনার আগে অবশ্যই এসপিএফ কত, তা দেখে কেনা ভালো। অনেকে মনে করেন, সারা বছর ত্বকে সানস্ত্রিন লোশন লাগানো ঠিক নয়, এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল বলে জানান মাহবুব।   গোটা বা ব্রণ হলে: এই মৌসুমে অনেকের মুখে গোটা বা ব্রণ দেখা দেয়। এর কারণ হলো, মুখ অপরিষ্কার রাখা। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখলে গোটা বা ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। ময়লা জমে মুখের লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে গোটা ওঠে। তাই ফেসওয়াশ বা মুখে ব্যবহার উপযোগী সাবান দিয়ে মুখ নিয়মিত সকাল-বিকেল পরিষ্কার করা উচিত। ঘামের করণে অনেকের শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হয়। যে কারণে সবারই প্রচুর পানি পান করা দরকার। তা ছাড়া এই সময়ে পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে খেতে পারেন ডাবের পানি। গোসলের সময়ে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর মুখে ব্যবহার করতে পারেন ক্রিম। তাহলেই ব্রণ বা গোটা থেকে সহজেই মুক্তি মিলবে।  দাড়ি কামানোর পর: শেভ করা বা দাড়ি কামানোর পর আফটার শেভ লাগানো প্রয়োজন। এটি রোদের তাপ ও সূর্য রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক রাখে সুরক্ষিত। তবে কম মাত্রায় অ্যালকোহল আছে, এমন আফটার শেভই মুখের জন্য ভালো। গরমে বেশি করে পানি পান করলেও শরীর সুস্থ থাকে। এ ছাড়া ত্বক ভালো রাখতে প্রতি মাসে নিয়মিত দুবার ফেসিয়াল করে নিতে পারেন।

ছেলেদের জন্য স্ক্রাবিং
রোদে পোড়া আর ধুলাবালু। এই সময়ে বাইরে যাওয়া মানেই ত্বকে এসবের প্রভাব পড়া। তবে একটু যত্ন নিলে ত্বক থাকবে সতেজ। ফেসওয়াশ তো নিয়মিত ব্যবহার করেন। পাশাপাশি মুখের ত্বকের তেলতেলে ভাব কাটিয়ে সতেজ থাকতে মাঝেমধ্যে স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্রাব ত্বকের গভীরের ময়লা সহজেই তুলে আনে। রূপ পরামর্শক শাদীন মাহবুব বলেন, ‘স্ক্রাবের ভেতরের দানাদার উপাদান সহজেই মুখের ত্বকে থাকা মৃত কোষ সরিয়ে ত্বকে লাবণ্য ফিরিয়ে আনে। এ ছাড়া স্ক্রাবে থাকা তেল বা ক্রিম ত্বককে সতেজ করে তোলে। আমাদের ত্বকে প্রতিনিয়ত একধরনের তৈলাক্ততা তৈরি হয়, যা লোমকূপ দিয়ে বেরিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। কোনো কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে ব্ল্যাক হেডস তৈরি হয়। স্ক্রাব ব্যবহারে ব্ল্যাক হেডস হওয়ার আশঙ্কা কমে।’
স্ক্রাব ব্যবহার করবেন, তবে দৈনিক না। এমনটাই জানালেন রূপ পরামর্শকেরা। শাদীন মাহবুবের মতে, সপ্তাহে দুই দিন মুখে স্ক্রাব করালেই ত্বক ভালো থাকবে। এ ছাড়া ভালোমতো স্ক্রাব করে নিলে শেভ করতেও বাড়তি সুবিধা মিলবে। এর ফলে ব্ল্যাক হেডস ও ত্বকের নিচে থাকা লোমের গোড়া একই সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে রেজর চালাতেও সুবিধা হয়। বাইরে যাওয়ার পর কড়া রোদে মুখে যে কালচে ভাব আসে সেটাও দূর হয়ে যায় স্ক্রাবে। যাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যাচ্ছে তারা স্ক্রাব মাসাজের ফলে বয়সের ছাপ দূর করে ফেলতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্ক্রাব ক্রিম কিনতে পাবেন। তা ছাড়া চাইলে ঘরেও তৈরি করে নিতে পারেন। ঘরে বসে স্ক্রাব প্যাক তৈরির তিনটি পদ্ধতি জেনে নিন শাদীন মাহবুবের কাছে। আধা চা-চামচ গমের ভুসির সঙ্গে এক টেবিল চামচ জলপাই তেল ও আধা চা-চামচ দানা গুড় মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার মুখে বৃত্তাকারে ঘষে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এক টেবিল চামচ ওট নিয়ে তার সঙ্গে এক টেবিল চামচ জলপাই তেল ও এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট বানান। এবার সেটা মুখে ঘষে মিনিট দুই পর ধুয়ে ফেলুন। পরিমাণমতো ক্লেনজিং মিল্ক নিয়ে তার সঙ্গে গমের ভুসি মিলিয়ে মুখে মাখুন। স্ক্রাব করে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে।

ছেলেদের ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল
দুই দশক আগেও ছেলেদের রূপচর্চা কেবল হেয়ার কাটিং ও শেভিংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন ছেলেদের অনেকেই নিজেদের তারুণ্য ধরে রাখতে বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল করিয়ে থাকেন। মেয়েদের পাশাপাশি রূপচর্চার কেন্দ্রগুলোতে তাই ছেলেদের উপস্থিতিও এখন চোখে পড়ার মতো। রূপবিশেষজ্ঞ শাদীন মাহবুব বললেন, ‘সাধারণত ছেলেরা ঘরের বাইরে বেশি সময় থাকে। তাই তাদের ত্বকের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। এবং নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখাও জরুরি। যেমন বাইরে বের হওয়ার আগে হাত-মুখ ধুয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। ধুলাবালিতে একাকার হয়ে অফিসে ঢুকে প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এ ছাড়াও ভেজা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিতে পারেন। অনেক ছেলেরই নাকের দুপাশে, ঠোঁটের কোণে কিংবা থুতনিতে ব্ল্যাকহেডস ওঠে। এটা সাধারণত ধুলাবালি ও ঘাম থেকেই হয়। তাই অন্তত মাসে একবার ত্বকের ফেসিয়াল করে নেওয়া ভালো।’ ফেসিয়ালের প্রধান উপকরণ হচ্ছে প্যাক। কোন ত্বকের জন্য কোন প্যাক প্রযোজ্য, তা নির্ভর করে প্যাকে কী কী উপাদান আছে তার ওপর। এ ছাড়াত্বকভেদে ফেসিয়ালে রয়েছে ভিন্নতা। যাঁদের শুষ্ক ত্বক তাঁরা সানবার্ন ফেসিয়াল করাতে পারেন। এটি রোদে পোড়া ত্বকের জন্যও উপকারী। তা ছাড়া এই ফেসিয়ালটি টিনএজাররাও করতে পারেন। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত তাঁরা অ্যালোভেরা ও গোল্ড ফেসিয়াল করাতে পারেন। আর যাঁদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা আছে, তাঁরা আয়ুর্বেদিক ফেসিয়াল করাতে পারেন। সাধারণ ত্বকের ক্ষেত্রে নিয়মিত একটু যত্ন নিলেই হয়। তবে ব্ল্যাকহেডস দূর করতে নিয়মিত ফেসিয়াল করুন। চাইলে নিজেও ঘরে বসে ফেসিয়াল করতে পারেন। রোদে পোড়া ভাব কমাতে লাগাতে পারেন চন্দনের প্যাক। বাজারে এখন অনেক ধরনের স্ক্র্যাব পাওয়া যায়। দুই-তিন দিন পর পর সেটি দিয়ে ত্বক কিছু সময় ম্যাসাজ করতে পারেন। গরম পানিতে ভাপ নিয়ে ধীরে ধীরে দুই আঙুলের ডগা দিয়ে চেপে ব্ল্যাকহেডস বের করতে পারেন। তিন দিন পর পর রাতে ঘুমানোর আগে উপটান লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

জেনে রাখুন
⇒আপনার ত্বক কোন ধরনের তা কোনো রূপবিশেষজ্ঞ বা ডারমাটোলিজিস্ট দ্বারা জেনে নিন। ⇒আপনার ত্বকের জন্য কোন ফেসিয়ালটি কার্যকর তা জেনে নিন। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে কি না, তা-ও জেনে নেওয়া ভালো। ⇒ফেসিয়াল অভিজ্ঞদের কাছে করানোই ভালো।

হাত ও পায়ের যত্নে
হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া উচিত ছেলেদেরও। বিশেষ করে বর্ষাকালে। মাসে অন্তত দুবার নিয়ম করে যত্ন নিলে হাত-পা থাকবে পরিষ্কার ও ঝকঝকে। গুলশানে ছেলেদের সৌন্দর্য সেবাকেন্দ্র মেনজ্ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাধারণত ছেলেদের হাতটাই সবার নজরে পড়ে বেশি। সেটা কথা বলা বা কাজের প্রয়োজনেই হয়। সেই তুলনায় পা ঢাকা থাকে। তারপরও পায়ের যত্ন নিতে হবে। কারণ, কাদা-পানিতে পা নোংরা হয়ে যায়।’
রোদে ঘোরাঘুরি করলেও হাতে কালচে আবরণ পড়ে। তাই বাসায় ফিরেই চটজলদি হাত ধুয়ে নিতে পারেন। সেই সঙ্গে বাড়তি খানিকটা যত্ন নিলে হাত-পা আরও ভালো থাকবে। রূপ পরামর্শক শাদীন মাহবুব জানালেন, হালকা কুসুম গরম পানিতে হাত ধুলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। ভালো মানের সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে হাতের কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নিতে পারেন। হাতের ত্বক ভালো রাখতে ব্যবহার করতে পারেন ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ ক্রিম। পায়ের যত্নেও কুসুম গরম পানিতে উপকার বেশি। তার সঙ্গে হালকা শ্যাম্পু মিশিয়ে নিয়ে তারপর ১০ মিনিট সেই পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে পা ভালো থাকবে। হাত ও পায়ের যত্নে এমনই আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ও শাদীন মাহবুব।
⇒অনেকের হাত-পা খসখসে থাকে। এমন হলে রাতে ঘুমানোর আগে খানিকটা পানির সঙ্গে অল্প একটু গ্লিসারিন মিশিয়ে হাত ও পায়ের ত্বকে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক নরম ও সতেজ থাকবে। ⇒পায়ের যত্নে কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ শ্যাম্পু মিশিয়ে গোড়ালি পর্যন্ত ১০ মিনিট ভিজিয়ে নিন। তারপর নেইল ব্রাশ দিয়ে পায়ের নখ ও তলা ভালো করে পরিষ্কার করুন।
⇒ভেজানো পায়ের নখ কাটা সহজ। তাই নখ বড় থাকলে ভেজা থাকা অবস্থায় কেটে নিতে পারেন। একই সঙ্গে পেডিকিওর স্টিক দিয়ে নখের পাশে ফুলে ওঠা চামড়া আলতোভাবে ভেতরে ঠেলে দিন। ⇒যাঁরা নিয়মিত জুতা পরেন, তাঁরা একই মোজা না ধুয়ে ব্যবহার করবেন না। বাসায় ফিরেই হালকা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে মোজা পরিষ্কার করে নিন। এ ক্ষেত্রে কয়েক জোড়া মোজা থাকলে সুবিধা। নিয়মিত পাল্টে পরে নিতে পারবেন। ⇒হাতের নখ কাটার আগেও একই উপায়ে হাতের কবজি পর্যন্ত ১০ মিনিট ভিজিয়ে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর তোয়ালে দিয়ে মুছে নেইল কাটার দিয়ে নখগুলো নির্দিষ্ট শেপে কেটে নিতে হবে। হাতের নখ চকচকে রাখতে চাইলে নখের ওপর বাফার ঘষে নিন। নখ কাটার ক্ষেত্রে ব্লেড ব্যবহার না করাই ভালো।

চুল, ত্বক ও নখের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, চুল, নখ ও ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রতিটি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করতে হবে পরিমাণমতো। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও পানি রাখতে হবে সঠিক পরিমাণে। কোনো খাদ্য উপাদান ত্বক বা চুলের জন্য উপকারী বলে সেই উপাদানটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো একটি খাদ্য উপাদান দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে কম পরিমাণে গ্রহণ করাও উচিত নয়। তিনি আরও জানালেন, পানি যেমন ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করলে কিডনিতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পানি পান করা কোনোটিই ঠিক নয়; যতটা প্রয়োজন, ততটাই পান করতে হবে। আপনার শরীরের পানির চাহিদা মিটছে কি না, তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। পানির চাহিদা পূরণ না হলে প্রস্রাবের রং হলুদ দেখায়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াও থাকতে পারে।
রূপচর্চায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানালেন সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিওর রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসি মজুমদার। দেখুন তাঁর পরামর্শ।
⇒চুল মজবুত ও সুস্থ রাখতে আমিষজাতীয় খাবার প্রয়োজন। আমিষের অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। উজ্জ্বল ত্বক ও সুন্দর নখের জন্যও চাই আমিষজাতীয় খাবার। মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার থেকে আমিষ পাওয়া যায়। ⇒আয়রনের অভাবেও চুল পড়তে পারে। কচুশাকসহ অন্যান্য সবুজ শাক, পেয়ারা, আপেল, কলিজা প্রভৃতিতে আয়রন রয়েছে। ⇒ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথা ও দেহের ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। মাছের তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। ⇒সুস্থ চুল ও সুস্থ ত্বকের জন্য আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন এ। রঙিন শাকসবজি ও ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন এ। ⇒চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করবে বায়োটিন। কাঠবাদাম, ডিমের কুসুম, কলিজা প্রভৃতি থেকে মিলবে প্রয়োজনীয় এই উপাদানটি। ⇒চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে জিংক। ত্বকের কোষগুলোর জন্যও জিংক প্রয়োজন। গম, যবসহ বিভিন্ন শস্যকণায় মিলবে জিংক। ⇒ত্বকের জন্য আরও একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ভিটামিন সি। লেবু, আমড়া, পেয়ারাসহ বিভিন্ন টক ফলে পাবেন প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। ⇒এ ছাড়া চুল ও ত্বকের সৌন্দর্যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

ছেলেদের ত্বকের যত্ন সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য
⇒ছেলেরা যে সমস্যা বেশি সম্মুখীন হয়, তা হলো রোদে পুড়ে যাওয়া। দিনের বেশির ভাগ সময়টা বাইরে কাটানোর জন্যই সমস্যাটা হয়। রোদ আর ধুলোবালি থেকে ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ, প্রাণহীন। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। ⇒অনেকের ব্রণের সমস্যা রয়েছে। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। আবার ধুলোময়লা জমার ফলেও ব্রণ হয়। তাই অফিসে বা বাইরে যেকোনো জায়গায় সুযোগ করে মুখ ধুয়ে নিন। সঙ্গে মিনি ফেসওয়াশ রাখতে পারেন। অপর্যাপ্ত পানি পানও ব্রণ হওয়ার কারণ। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। বাইরের খাবার বর্জন করতে হবে। ⇒দিনের শেষে ঘরে ফিরে আলসেমি না করে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালো ব্র্যান্ডের মুখ পরিষ্কারক পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।
⇒ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডসের সমস্যা কমবেশি সবারই হয়। ঘরেই এটি পরিষ্কার করতে পারেন। গরম পানিতে টাওয়েল ভিজিয়ে নাকে ভাব দিলে পোরসগুলো খুলে যাবে। হাত দিয়ে টিপে কিংবা স্টিক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। তবে স্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিষয়টি বাড়িতে না করে সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ⇒শেভ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। শেভ করার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ব্লেড ব্যবহার করাই ভালো। বাজারে যেসব রেজারের হেড পাওয়া যায়, তাতে একাধিক ব্লেড থাকে। একাধিক ব্লেড দিয়ে শেভ করলে ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা কমে যায়। শেভ করার পর বরফ ব্যবহার করলে ভালো। ⇒মাসে অন্তত একবার জেন্টস পারলারে গিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেশিয়াল করে নিতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হারবাল ফেশিয়াল উপকারী। অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ফেশিয়াল করুন। ⇒চাইলে ঘরে বসেই একটু ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। কমলা লেবুর রস কিংবা টমেটোর রস ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক পরিষ্কার থাকবে। ⇒রাত জাগার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। রাত জাগার ফলে ব্রণ হওয়া থেকে শুরু করে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে ভালো ব্র্যান্ডের ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন। সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রয়োজন একটু যত্ন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে শরীর, ত্বক, মন—সবই ভালো থাকবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>