স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত!

দেশে প্রতিবছর ২২ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী (১৫ হাজার ৪০০ জন) বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত। যাদের গড় বয়স ৪১ বছর। তবে বর্তমানে ২৪-২৫ বছরের মেয়েদের স্তন ক্যান্সার হচ্ছে। আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইহেতাশামুল হক বলেন, আমাদের দেশে সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি ক্যান্সার রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। কেবল সচেতনতার অভাবেই দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বাড়ছে। যারা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের রোগ শনাক্তকরণে বিলম্ব হচ্ছে। আর যখন শনাক্ত হচ্ছে তখন চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগটি নির্ণয় করতে পারলে ৯০ শতাংশ নিরাময় করা সম্ভব। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এক গবেষণায় অনুযায়ী, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত। যাদের গড় বয়স ৪১ বছর।

আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেরিন এফ সিদ্দিকা বলেন, একজন নারী নিজেই স্তন পরীক্ষা করে ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। নারী তার হাতের চারটি আঙ্গুল স্তনে আলতোভাবে নাড়াচড়া করলেই শক্ত কিছু অনুভব করেন কিনা তা খেয়াল করতে হবে। যদি শক্ত কিছু অনুভত হয় তা হলে মেমোগ্রাফি বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে নিশ্চিত হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা হলে নিরাময় সম্ভব। তবে আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় স্টেজের কোনো রোগী পাই না। যা পাই তার বেশিরভাগই তৃতীয় স্টেজের রোগী। যাদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে গাইনোকলজিক্যাল ক্যান্সারের জন্য একটি নীতিমালা আছে। অথচ স্তন ক্যান্সারের এত রোগী কিন্তু কোনো নীতিমালা নেই। যেহেতু আমাদের দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৭০% মারা যাচ্ছে, তাই এখনই সময় স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার। এই নীতিমালার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা একেবারে গ্রামপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে কমিউনিটি ক্লিনিককে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

তারা বলেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, লজ্জা, শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া খাদ্যাভাস, বয়স, ওজনাধিক্য, দীর্ঘদিন ধরে হরমোনের ওষুধ সেবনও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>