হাত মোটা এবং গাল ফোলা কমাবেন কীভাবে?

শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সৌন্দর্য আলাদা। মেদহীন সুন্দর মুখ যেমন চাওয়া অনেকের, তেমনি মেদহীন সুন্দর হাতও চাই তাঁদের। গড়নে গরমিল থাকলে, নির্দিষ্ট ব্যায়াম আর খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনে এটি ঠিক করা যায়। এ বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, এটি একটি অতিপরিচিত সমস্যা। গঠনগত কারণেই নারীর কাঁধ, হাত, পেট ও পায়ে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি। এখন সচেতন নারী তাঁর হাত মোটা হয়ে যাওয়ায় বিব্রতবোধ করে পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হচ্ছেন এবং নিয়মিত জিমেও যাচ্ছেন। এই অভ্যাসটি গড়তে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম ও খাবারদাবারে নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে এই সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।’ সাধারণত কারও কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত অংশ মোটা থাকে, আবার কারও কাঁধ থেকে কবজি পর্যন্ত মোটা। প্রতিদিনের ডায়েটে পরিবর্তন এনে করতে হবে হাতের গঠন সুন্দর করার ব্যায়ামগুলো। প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক খাবারদাবারে নিষেধাজ্ঞাগুলোর কথা।

এখন যতটা শর্করা খাচ্ছেন অর্থাৎ ভাত কিংবা রুটি, ঠিক তার অর্ধেকে নামিয়ে আনুন। যাঁদের ফাস্টফুডে আসক্তি আছে, তাঁরা এগুলো এবং মেয়নিজ মার্জারিনে সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন। কড়া ভাজা খাবার অর্থাৎ মাছ কিংবা মাংস ভাজা, পাকোড়ার মতো খাবারগুলো দূরে ঠেলে রাখুন। ঘি, ডালডার তৈরি খাবার অর্থাৎ পোলাও-বিরিয়ানির মতো খাবারগুলোকে একদমই না। এবার যেগুলো বেশি করে খাবেন সেগুলো হলো পানি, প্রচুর শাকসবজি ও ফল। ফলের বেলায় টক ফলকেই প্রাধান্য দিন। স্বাদে ভিন্নতা আনতে খেতে পারেন টক দই দিয়ে বানানো লাচ্ছি। খেতে পারেন সবজির স্যুপ। এ তো গেল গড়পড়তা সবার জন্য কথা। তবে ডায়েট চার্টটি ব্যক্তির ওজন, উচ্চতা, বয়স এর ওপর অনেকটা নির্ভর। তাই পুষ্টিবিদদের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় চার্টটি করে নিতে পারেন।

মোটা হাত স্বাভাবিক করার কৌশল জানতে চাইলে ঢাকার কলাবাগানের বাংলাদেশ জিমের প্রশিক্ষক এম এম রাকিবুজ্জামান জানান, শরীরের সামগ্রিক ওজন কমালে, হাতের চর্বি ঝরে হাতের গঠনও সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে যাঁদের চর্বি হাতে তুলনামূলক বেশি, তাঁরা করতে পারেন ডাম্বেল কার্ল ও বারবেল কার্লের মতো ব্যায়ামগুলো। ডাম্বেল কার্লের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে অল্প ওজনের দুটি ডাম্বেল দুই হাতে সামনে নিয়ে নাক বরাবর ওপরে-নিচে ওঠাতে ও নামাতে হবে। এটি ২০ বার করে তিন সেটে করুন।

বারবেল কার্লের ক্ষেত্রে দুই হাতে ডাম্বেল ধরে আস্তে আস্তে বুক বরাবর বারবেলটি উঠিয়ে আবার নামিয়ে নিন। এটি করতে হবে ১৫ বার করে তিন সেটে। এই ব্যায়ামগুলোতে অভ্যস্ত হলে হাতের চর্বি দ্রুতই ঝরে যাবে।’ ব্যায়াম করা কষ্টসাধ্য মনে হলে এই গরমে সাঁতারে অভ্যস্ত হোন। সামগ্রিক ওজন যেমন কমাবে, মেদ ঝরিয়ে হাত দুটোকেও আকর্ষণীয় গড়ন দেবে।

এবার আসি মুখের ফোলা ভাব দূর করা প্রসঙ্গে। মুখের গড়নটা ভারি সুন্দর, কিন্তু গাল দুটো ফোলা ফোলা। এই ফোলা গালে চেহারার শাণিত ভাব অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই ফ্যাশনে চোখা চোয়ালই বেশি চোখে পড়ে। সেলফিতেও সচেতনভাবে মুখ সরু করা ছবিই ঘুরে-ফিরে আসে। কখনো মেকআপের শেডও মুখটাকে চোখা করে দেয়। কিন্তু পুরুষেরা মেকআপে অভ্যস্ত নন। তাই মুখ চোখা দেখাতে ছবি তোলায় বিচিত্র সব পোজ রপ্ত করতে হয়! যাঁরা মুখ ফোলা নিয়ে বিব্রত, এই আয়োজন শুধু তাঁদের জন্যই।

দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে মুখ ফোলা ভাবটা বেশি দৃশ্যমান হয়। আবার কারও মুখ এমনিতেই বেশ ফোলা ভাব থাকে। এটা অনেকটাই মুখের গড়নের ওপর নির্ভর করে। যাঁদের মুখের গড়ন গোল, তাঁদের মুখ ফোলা হওয়ার প্রবণতা বেশি। আর যাঁদের মুখের গড়ন পানপাতার মতো, কিংবা লম্বাটে, তাঁদের মুখ তুলনামূলক কম ফোলা ভাব থাকে।

কিন্তু এই ফোলা ভাবের ব্যাপক তারতম্য হয় খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ জানান, অতিরিক্ত ওজন যাঁদের, তাঁদের চোয়ালে চর্বি জমার প্রবণতাও বেশি। কখনো গলার চিনে দুই প্রস্থ কিংবা তিন প্রস্থও চর্বি জমে যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে গাল ফোলা ভাবটা কমানো সম্ভব। এ ছাড়া চোয়ালের ব্যায়ামেও চর্বি ঝরে। গালে রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারলে চর্বি জমার প্রবণতা কমে যায়। এ জন্য সুগারফ্রি চুইংগাম চিবোতে পারেন। এটি রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়া বাড়িয়ে গাল ফোলা ভাব দূর করবে।

আর যাঁরা চুইংগাম খেতে পছন্দ করেন না, তাঁরা বরইয়ের মতো ছোট ফল মুখে নিয়ে চিবোতে পারেন। এটিও আপনার ফোলা গাল কমাতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবারে স্ব-আরোপিত বিধিনিষেধ মেনে চলুন। আঁশযুক্ত শর্করায় উদরপূর্তি হোক। ভাতের বদলে লাল আটা কিংবা সেদ্ধ চালে অভ্যস্ত হোন। চর্বি ছাড়া লিন মিটে প্রোটিনের চাহিদা মেটান। ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে প্রচুর শাকসবজি ও ফল খান। যে সবজিতে জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি, সেই সবজিগুলো বেশি করে খান। আর ফলের বেলায় খেতে হবে শুধু টক ফলগুলো।

তবে কখনো রোগের কারণেও মুখ চাঁদের মতো গোল হয়ে যায়। একে মুন ফেস সিনড্রোম বলে। শরীরের হরমোনের তারতম্যের কারণেও মুখে এমন ফোলা ভাব থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যায়াম কিংবা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে মুখের গোল ভাব দূর হবে না। অভিজ্ঞ এনডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল অ্যান্ড মেক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের ডেন্টাল সার্জন রুমন বণিক জানান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা চেহারায় চোখা ভাব আনতে অনেকেই ছোটবেলায় নিচের চোয়ালের দুই দিকের ছয় নম্বর দাঁত তুলে ফেলে।

এতে তাদের চোয়ালে খানিকটা চোখা ভাব আসে। তবে এ দেশে এমনটা খুব বেশি দেখা যায় না। আর গোলাকার মুখমণ্ডলে খানিকটা লম্বাটে ভাব আনতে পূর্ণবয়স্করাও চোয়ালের ছয় নম্বর দাঁত তুলে ফেলতে পারেন। তবে এতে রাতারাতিই মুখটা লম্বাটে হয়ে যাবে না। দাঁত তোলার পর মুখের বাক্কাল প্যাড ও ফ্যাট আস্তে-ধীরে কমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুখটা সরু হয়ে আসেব।

ডা. সিদ্ধার্থ মজুমদার

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>