স্বাস্থ্যকর দীর্ঘস্থায়ী জীবনযাপনে আয়ুর্বেদীয় সহজ কিছু টিপস

আয়ুর্বেদ হোল ভারতবর্ষের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের এক অঙ্গ। ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিটি প্রায় ৫০০বছর পূর্বে উৎপত্তি হয়। এটি এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে রোগ নিরাময়ের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রতি বেশী জোর দেওয়া হয়। রোগ নিরাময় ব্যবস্থা করাই এর মূল লক্ষ্য। একটা সময় ছিল যখন শুধু আয়ুর্বেদ চিকিৎসার দ্বারাই সমস্ত রোগের এমন কি শল্য চিকিৎসা পর্যন্ত করা হতো। চিকিৎসা বর্তমানে ‘হারবাল চিকিৎসা’ তথা ‘অলটারনেটিভ ট্রিটমেন্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে এই চিকিৎসা বেশি প্রচলিত। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বেও এই চিকিৎসা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কোথাও কোথাও স্বীকৃতিও দেওয়া হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসার মতোই।

আয়ুর্বেদ পদ্ধতিতে সাধারণ কয়েকটি রুটিন মনে সুস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে ভালো ফল পেতে পারেন। এটি আপনার ইমিউন সিস্টেমকেও উন্নত করবে। নিচে সুস্থ রাখার জন্য সহজ কয়েকটি আয়ুর্বেদিক টিপস দেওয়া হল-

নিয়মিত ব্যায়াম শারীরিক কর্মকাণ্ড আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত হাঁটাহাটি করুন। প্রয়োজনে বাসা অথবা জিমে গিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

সকালে পানি পান করুন নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ঘুম থেকে উঠার পর প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম পানি পান করুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া আপনার শরীরের উচ্চতা ও মাপ অনুযায়ী খাবার বাছাই করুন। একটি সঠিক খাদ্য অভ্যাস আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য সমর্থন করবে।

ঠান্ডা পানি পান না ঠান্ডা পানি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত নয়, তাই এটি পান থেকে বিরত থাকুন।

মাঝারি পরিমাণ খাবার খান যদি আপনি যথোপযুক্ত হজম করতে চান, তাহলে নিশ্চিত করুন যে আপনার পেটে অর্ধেকটি শক্ত খাবার দিয়ে ভরা। আপনার পেট এক চতুর্থাংশ সর্বদা ফাঁকা রাখা উচিত।

খাবারের মধ্যে বিরতি নিন খাবারের মাঝে বিরতি অনুকূল পাচনের জন্য প্রয়োজন। ৪-৫ ঘন্টা ব্যবধানে আপনার প্রধান খাবার গ্রহণ করুন।

শান্তভাবে খাওয়া যখন আপনি খেতে বসবেন তখন আপনার স্মার্টফোন লক এবং টিভি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করুন।

তেলযুক্ত ম্যাসেজ তেলযুক্ত একটি আয়ুর্বেদিক ম্যাসেজ যা অন্তত সপ্তাহে একবার করা উচিত।

রুটিন অনুসরণ করুন একটি দৈনিক বা সাপ্তাহিক রুটিন অনুসরণ করুন, যে লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন না।

আপনার শরীরের কথা শুনুন আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান তাহলে আপনার শরীরটি আপনাকে যা বলছে তা শুনতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
সূত্র: অর্গানিক হেলথ সেল্যুয়েশন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>