শরীরের ওজন কমায় যেসব পানীয়

ওজন নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি দুশ্চিন্তা করি। ওজন কমাতে বা ওজন ঠিক রাখতে হরহামেশাই আমাদের কোনো না কোনো চেষ্টা থাকে। নিয়মিত শরীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ইত্যাদি মেনে চলছি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এগুলো ছাড়াও শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে কিছু পানীয়। এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো বলেন, ক্ষুধা কমানোর ক্ষেত্রে চা-কফি এগুলো খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যেমন—একজন ব্যক্তি যদি দিনে অনেকবার গ্রিন টি বা কফি পান করেন, তাহলে তাঁর ক্ষুধা কম পাবে, সে ক্ষেত্রে এই পানীয় ওজন কমাতে সাহায্য করে। আবার অনেক সময় আমরা অবসরে বিভিন্ন নাশতা-জাতীয় খাবার খাই, কিন্তু সেসবের পরিবর্তে যদি সবজির স্যুপ খাওয়া যায়, তাহলে তা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি

দিনে তিন থেকে পাঁচ কাপ গ্রিন টি পান করলে শরীর থেকে ৩৫-৪০ শতাংশ মেদ ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে যদি ব্যায়াম না করে গ্রিন টি পান করা হয় এটি তেমন ভালো কাজে দেয় না। ব্যায়াম এবং গ্রিন টি পান করা একসাথে চালিয়ে গেলে ওজন কমবে দ্রুত হারে। তাই ইদানীংকালে ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেকেই গ্রিন টিকে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পছন্দ করে।

কালো কফি

দ্রুত ওজন কমাতে ক্যাফেইনের জুড়ি নেই। কফি বেশ দ্রুতই ফ্যাট বার্ন করে দ্রুত ওজন কমাতে সক্ষম। তবে তা অবশ্যই ব্ল্যাক কফি হতে হবে, দুধ ও চিনিতে ভরপুর কফি পান করে ওজন কমানোর আশা বাদ দিন। এবং দিনে ২/৩ কাপের চাইতে বেশী কফি পান করবেন না একেবারেই। এতেই ভালো ফলাফল পেয়ে যাবেন। কালো বা ব্ল্যাক কফিতে যেহেতু কোনো দুধ-চিনি থাকে না। কাজেই এটি দিনে দুই-তিনবার পান করার ফলে তা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

দইয়ের স্মুদি

দইকে আমরা খুবই উপাদেয় এবং পুষ্টিকর খাবার হিসাবে চিনি।দুগ্ধ জাতীয় খাবারের মধ্যে একমাত্র দই আপনাকে দেবে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের অফুরন্ত যোগান। কিন্তু সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে এবং ওজন কমাতে দইয়ের অনন্য ভূমিকার কথা আমরা যদি জানতাম তাহলে প্রতিদিন অন্তত এক বাটি করে দই অনায়েসে সাবার করে ফেলতাম। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দই যদি খাদ্যাভ্যাসে রাখা যায়, তবে তা ৬১ শতাংশ মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

করলার জুস

যদিও এটা অনেকেই পছন্দ করেন না এবং শুনতে অরুচিকর মনে হতে পারে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর সম্পূর্ণরূপে দূষণ দূর করে। হজমক্রিয়া উন্নত করে। করলার রস দিয়ে হেলথ ড্রিঙ্ক বানিয়ে খেলে কাজ হয় খুব তাড়াতাড়ি। করলার রস ফ্যাট সেলগুলো বার্ন করে এবং সেই জায়গায় নতুন ফ্যাট সেল তৈরি হতে বাধা দেয়। ১০০ গ্রাম করলায় ক্যালরি মাত্র ১৭। তাই শরীরে ক্যালরি গ্রহণ না করে দ্রুত ওজন কমাতে নিয়মিত করলার জুস খেতে পারেন।

সবজির জুস

ওজন কমাতে বিভিন্ন তরিতরকারি কিংবা সবজির শরবত বা জুস পান করা বেশ ভালো একটি উপায়। এই জুসে একদিকে যেমন আঁশ থাকে, তেমনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে বিভিন্ন পুষ্টির সমাহারও। শরীরের জ্বালানি হিসেবে এই উপাদানগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে কম পরিমাণ সোডিয়াম পাবেন, যা আপনার জন্য উপকারী। আ এমন অনেক সবজি ও ফল রয়েছে যেগুলো খাদ্যতালিকায় থাকলে ওজন কমে। এসব ফলের জুসও ওজন কমাতে সাহায্য করে। খাওয়ার আগে যদি এক গ্লাস সবজির জুস পান করা যায়, তবে তা ওজন কমাতে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

ডাবের পানি

অনেক সময় দেখা যায় আমরা ক্লান্তি কাটাতে কোমল পানীয় পান করি। এগুলো শরীরের ওজন বাড়ায়। এসেবর বদলে ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। ডাবের পানি কম চর্বিযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয়। এটি ক্ষুধামন্দা কমিয়ে দেয় এবং সবসময় পরিপূর্ণ মনে হয়। ডাবের পানি খাওয়ার অনেকক্ষণ পরও মনে হবে যে আপনার ক্ষুধা লাগছে না৷ তাই আপনার খাওয়া কম হবে৷ এছাড়া ডাবের পানিতে ফ্যাটের পরিমাণ অনেক কম৷ ফলে যারা ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী তাদের জন্য ডাবের পানি বেশ উপকারী৷

দারুচিনি ও মধুর মিশ্রণ

মধু ও দারুচিনির ভেষজ গুণাগুণ প্রাকৃতিকভাবে সাহায্য করে ওজন কমাতে। মধু ফ্যাট বার্নিং হরমোন উৎপন্ন করে যা শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ দূর করে সুস্থ রাখে শরীর। দারুচিনি দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুই ভেষজ উপকরণ একসঙ্গে কাজ করে আরও দ্রুত। ফোটানো পানিতে সমপরিমাণ মধু ও দারুচিনি দিন। প্রতিদিন দুইবার খালি পেটে পান করুন মধু ও দারুচিনির এ মিশ্রণ। ওজন কমাতে সাহায্য করবে এ পানীয়।

আদা ও লেবু

আদা ও লেবুর মিশ্রণ আপনার ওজন কমিয়ে আনবে যাদুকরী উপায়ে। প্রথমে আদার ছোট ছোট টুকরা করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানির সাথে আরও পানি মিশিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেবু কয়েক টুকরা আদা ও লেবুর রস একটি গ্লাসে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। নিয়মমতো এগুলো পান করলে শরীরের ওজন দ্রুত কমানো সম্ভব।

সূত্র: ফেমিনা, নাউলস.কম, ইন্ডিয়া টাইমস।
গ্রন্থনা: ফারজানা জামান

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>