পালং শাকের পুষ্টিগুণ এবং খাওয়ার সতর্কতা!

পালং শাক একটি উৎকৃষ্ট স্বাস্থ্যকর সবজি—এ নিয়ে কারো মনেই প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এই সবুজ পাতাটির মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল, যেমন—ফলিক এসিড, ভিটামিন এ, বি, সি, ই, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়াম। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে লুটেইন ও জিয়েক্সাথিন। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে, যেমন—বয়সের কারণে হওয়া পেশির সমস্যায় ভালোভাবে লড়াই করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে আছে ২৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, কার্বোহাইট্রেড ৩.৬ গ্রাম, আঁশ ৪.২ গ্রাম, চিনি ০.৪ গ্রাম, প্রোটিন ২.২ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ৪৬৯ মাইক্রোগ্রাম-৯৪০০১৪ ইউনিট, বিটাকেরোটিন, ৫৬২৬ মাইক্রোগ্রাম লিউটিন, ফোলেট (বি৯) ১৯৬ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ২৮ মি. গ্রাম, ভিটামিন কে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৯৯ মি. গ্রাম, আয়রন ২.৭ মি. গ্রাম।

ওজন কমাতে চান? তাহলে পালং শাক খান। পুষ্টিতে ভরপুর পালংয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ক্যনসার প্রতিরোধী গুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। তাই যাঁদের ওজন বেশি তাঁরা নিয়মিত পালং খেলে বাড়তি ওজন কমে যায়।
কিন্তু কীভাবে খাবেন?

পালং কিন্তু জুসের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। কলা, জাম, আম ও কমলার জুসের সঙ্গে পালং মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। আবার কচি পালংয়ের কিছু পাতা সবুজ সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারে। বাদাম কিংবা ফলের সালাদের সঙ্গেও পালং শাক মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আলুর সঙ্গে পালং সেদ্ধ করেও খাওয়া যেতে পারে। রান্না করার পর দুই-তিন মিনিট ধরে নাড়িয়ে রসুন ও আদা বাটা যুক্ত করে পালংয়ের স্বাদ বাড়ানো যেতে পারে। ডালের সঙ্গে পালং খুব ভালো মেশে। রান্না করা কিংবা ঘন ডালের সঙ্গে পালং কুচি যুক্ত করা যেতে। ডাল-পালং রান্না করা শুধু সহজ নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

পালংশাক আমাদের শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়। পালংশাক রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা আমাদের দেহে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লিম্ফোবিক এসিড যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ও ই কে পুনরুজ্জীবিত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। পালংশাক আমাদের রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দিনের বেলার ক্লান্তিভাব দূর করে।

যেহেতু পালংশাক ফাইবারে সমৃদ্ধ তাই এটি নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের পাকস্থলির বিভিন্ন সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বদ হজম সহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পালং শাক অত্যন্ত উপকারী একটা খাদ্য। মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর ঠিক মতো বেড়ে উঠার জন্য এই পালংশাক প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস যোগান দিয়ে থাকে। এছাড়াও নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ এবং গুণমান অনেকাংশে বেড়ে যায়। পালংশাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ক্যারিটনয়েডস দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করবে আপনাকে। আপনি যদি নিয়মিত পালং শাক খান এতে করে আপনার হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কারন পালংশাক হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের শরীরে এনিমিয়া বা রক্তশুন্যতা প্রতিরোধে পালংশাক বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। পালংশাকে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিনস এবং নিউট্রিয়েন্টস শরীরের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করতে সাহায্য করে যার ফলে রক্তশুন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি।

ব্রণের সমস্যাই সম্মুখীন হন নাই এমন মানুষ হইত খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টকর। পালংশাক ব্রণের সমস্যা দূর করে স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বক পেতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। সেক্ষেত্রে পালং শাক দিয়ে ফেইস মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। পরিমাণ মতো পালং শাক এবং পানি নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো ব্লেন্ড করে নিন যেন মিশ্রণটি পেস্টের মতো হয়। এটি মুখে সমান ভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেইস মাস্কটি ত্বকের রোমকুপে জমে থাকা ময়লা ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ত্বক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আপনি সুন্দর, মসৃণ ত্বক পেতে চাইলে পালং শাক এবং অন্যান্য সবজি মিশিয়ে ভেজিটেবল জুস বানিয়ে খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি করতে পারেন অর্ধেক টমেটো, ১/৪ শশা, একটি গাজর, আধা কাপ বাঁধাকপি এবং এক কাপ পালং শাক এবং পরিমানমত পানি দিয়ে ভালো মতো ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। আপনি যদি প্রতিদিন এক গ্লাস করে এই ভেজিটেবল জুস পান করতে পারেন তাহলে আপনি এর পরিবর্তনটা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন। পালংশাকের এই জুসটি আপনার মুখের ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করে ত্বক ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তুলতে খুব উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।

সতর্কতা:

আপনার খাদ্য তালিকায় সব সময় পালং শাক থাকলে খাওয়ার সময় একটু সচেতন হওয়া জরুরি। কেন? কারণ পালংশাকে প্রচুর অক্সালেট থাকে। কিডনির পাথরে অক্সালেট পাওয়া গেছে এমন কেউ বেশি পরিমাণে পালংশাক খাবেন না, পরিহার করাই ভালো। এতে অক্সালিক অ্যাসিডের পরিমাণও বেশি। বেশি অক্সালিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শুষে নেয়। হালকা রান্না করলে এই অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায় বলে ধারণা করা হয়।

তার উপর পালং শাক এমন এক ধরনের খাবার যা পুনরায় তাপ দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এর মধ্যে থাকে নাইট্রেটস (nitrates)। নাইট্রেটস উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এলে নাইট্রাইটস (nitrites )-এ রূপান্তরিত হয়। এর পর রূপান্তরিক হয় নাইট্রোস্যামিনিস (nitrosamines) -এ। এ জিনিসগুলো কারসিনোজেন হিসেবে পরিচিত। আর কারসিনোজেন ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। তাই পুষ্টিবিদদের মতে,সবচেয়ে ভালো হলো পালং শাক রান্না করার পর পরই দ্রুত খেয়ে ফেলা। যে বেলা রান্না করা হবে সেই বেলাতেই খেয়ে ফেলা ভালো। এটি গরম করার জন্য পুনরায় তাপ দেওয়া ঠিক হবে না।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>