প্রতিদিন লেবু খাওয়ার ৮টি উপকারিতা জেনে নিন, চমকে যাবেন!

লেবু ভিটামিন ‘সি’তে ভরা। এই সাদাসিধে তথ্যটা তো আমরা সবাই জানি। অতিপরিচিত এই লেবুর আছে অনন্য সব রোগপ্রতিরোধী গুণ। কী সেই গুণ? কেনই বা লেবুকে যত্ন করে খেতে হবে? আদ্যোপান্ত জানতে কথা বলেছিলাম পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেয়া মাওলার সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রতিদিনই নিয়ম করে লেবু খাওয়া উচিত। লেবু একদিকে যেমন রোগপ্রতিরোধী, অন্যদিকে শরীরকে সুরক্ষাও দেয়। ছোটবেলা থেকেই লেবু খাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে। শরীরে ভিটামিনের চাহিদাও মিটবে, আবার রোগের বিরুদ্ধেও লড়তে সাহায্য করবে লেবু।

গলাব্যথায়
কখনো ঠান্ডা লেগে আবার কখনো সংক্রমণে গলাব্যথা হয়। হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকলে এই ব্যথা ক্রমে বাড়তেই থাকে। এই ব্যথা কমাতে লেবুর রস বেশ উপকারী। হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে কুলকুচি করুন। কমবে গলাব্যথা।

শ্বাসকষ্টে
যাঁদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে, তাঁরা নিয়ম করে খাবারের আগে এক চামচ লেবুর রস খেতে পারেন। যাঁরা মাইল্ড অ্যাজমায় ভুগছেন, লেবুর রস তাঁদের জন্য ওষুধের বিকল্প হিসেবেই কাজ করবে।

লিভারের সমস্যায়
যাঁরা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘদিন, তাঁরা লেবু খাবেন নিয়ম করে। উষ্ণ কিংবা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে সকালে খাবারের আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন, উপকৃত হবেন।

সর্দি-কাশিতে
ঋতুর পালাবদলের সময় প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন লাগে, তাতে হঠাৎ করে শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। লেগে যায় সর্দি-কাশি। এই সর্দি-কাশির বিরুদ্ধেও লড়তে পারে লেবু। তাই সর্দি-কাশিতে হাতের কাছেই রাখুন লেবু।

আর্থ্রাইটিস
আর্থ্রাইটিস হলো হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, আবার কখনো ফুলে যায় সংযোগস্থলগুলো। বড্ড বিরক্তিকর এই রোগ উপশমের ভালো দাওয়াই কিন্তু লেবু। লেবুতে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ যা আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

রোদে পোড়া ত্বক
লেবুর উপাদানগুলো একদিকে যেমন আমাদের ত্বকের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে তীব্র রোদে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দেখভালেও লেবু অত্যন্ত কার্যকরী। তাই লেবু তো খাবেনই, সেই সঙ্গে রোদে পুড়ে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে ক্ষত স্থানে লাগান, ভালো হয়ে যাবেন।

হজমে লেবু
উৎসবে-পার্বণে এ বাড়ি-ও বাড়ি ঘুরে বেশি খাওয়া হয়ে গেছে! স্বস্তি পেতে লেবু খেয়ে নিন। দ্রুত হজমে সাহায্য করবে। আরেক বাড়ি দাওয়াত খাওয়ার প্রস্তুতিও নিতে পারবেন অল্প সময়ে।

ওজনও কমবে লেবুতে 
আয়েশ করে ভূরিভোজের পর লেবু খেয়ে নিন। খাবারগুলো হজমে সাহায্য তো করবেই, উপরন্তু শরীরে চর্বি জমতে বাধা দেবে লেবু। বুঝতেই পারছেন, নিয়ম করে লেবু খেলে আপনার ওজনও কমবে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>