তীব্র গরমে প্রশান্তি দেয় নারকেল দুধ

গরম পড়লেই শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ তৃষ্ণা মেটাতে নারকেল দুধ দারুণ কার্যকর উপায় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারকেল দুধে দারুণ উপকার। রান্নায় এ দুধের ব্যবহার তো অনেকের জানা। এ দুধ খেলে শরীর ঠান্ডা হয় এবং আর্দ্র থাকে। অন্য দুধের চেয়ে এটি পেটের জন্য ভালো ও প্রাকৃতিক মিষ্টিযুক্ত। স্বাস্থ্যগত গুণ তো আছেই এমন কি রূপচর্চার কাজেও এটি ব্যবহার করা হয়। কয়েকশ বছর ধরে এশিয়ান এবং আফ্রিকান খাবারে বহুল প্রচলিত একটি উপাদান এই নারিকেল দুধ।

যাঁরা ল্যাকটোজ সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য দারুণ বিকল্প এটি। এটি মস্তিষ্কের জন্যও দারুণ উপকারী। এতে ব্যথানাশক উপাদানও আছে। এতে লরিক অ্যাসিড আছে, যা শিশুখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। তাই যাঁরা গরমে আম বা স্ট্রবেরির শরবত তৈরি করবেন, তাঁরা নারকেল দুধ ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এ দুধ উপকারী। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে নারকেল দুধের আরও কিছু গুণের কথা উঠে এসেছে। জেনে নিন এসব গুণ সম্পর্কে:

গরমের আরাম 

গরমে হিট স্ট্রোক, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, ক্লান্তি, পেশি ব্যথার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। নারকেল দুধ শরীরের জন্য ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। ইলেকট্রোলাইটের সুষম ভারসাম্য শরীরের কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখে। তাই গরমে আরাম পেতে নারিকেল দুধ হতে পারে চমৎকার পানীয়।

সহজে হজম

অনেকেই দুধ খেতে পারেন না, খেলেও সহজে হজম হয় না। আবার অনেকে দুধ খেতে পছন্দও করে না। তাই যাঁরা ল্যাকটোজ বা অন্য দুধ খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি দারুণ বিকল্প এই নারকেল দুধ। নারকেল দুধ খুব সহজে হজম হয়ে যায় এবং কোনো ধরণের অস্বস্তি তৈরি করে না।

রক্তচাপ কমায়

উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও নারকেল দুধ খেতে পারেন চাইলেই। এই দুধ রক্তনালীতে রক্ত চলাচল বাধাহীন করতে সাহায্য করে। আর তাছাড়াও এতে রয়েছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ কমাতে দারুণ কার্যকর উপাদান।

রক্তস্বল্পতা দূর করে

রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি এক চমৎকার পানীয়।  নারকেল দুধে আছে প্রচুর আয়রন, যা রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে নারকেল দুধ অন্যান্য আয়রনযুক্ত খাবারের মতোই দেহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।  তাই রক্তস্বল্পতার রোগীদের এই পানীয়টি নিয়মিত পান করা উচিৎ।

ওজন কমায়

যারা ওজন নিয়ে চিন্তিত তারা নারকেল দুধের প্রতি নজর দিতে পারেন।  নারকেল দুধে আছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার, যা পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে পারে। প্রতিদিন একবেলা করে নারকেল দুধ পান করলে হজমশক্তিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাই যারা বাড়তি ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত নারকেল দুখ খেয়ে দেখুন, উপকার মিলবে।

দাঁতের জন্য উপকারী

দাঁতরে যত্নে আমরা কত কিছুই করি। কিন্তু দাঁতের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য যা খাওয়া দরকার তার দিকে নজর দেই না। সুস্থ সবল মজবুত দাঁতের জন্য আমাদের ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হয়। কিন্তু আগেও বলেছি অনেকে দুধ খান না বা খেতে পারেন না। ফলে তাঁরা দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য বিবেচনায় বেশ পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু বিকল্প রাস্তাও তো খোলা আছে।  নারকেল দুধে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। তাই এটি দাঁত ও হাড়ের জন্য উপকারী।

শরীর আর্দ্র রাখে

গরমে দীর্ঘক্ষণ শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে নারকেল দুধ।  শরীর আর্দ্র থাকা মানে সতেজ থাকা। আর এই সময় সতেজতা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভিতর থেকে আপনি সতেজ না থাকলে অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। ফলে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো পিছিয়ে পড়বে। আপনি হবেন ক্ষতির সম্মুখীন। এক গ্লাস নারকেল দুধ সারা দিনের ক্লান্তিভাব নিমিশেই দূর করতে অতুলনীয়।

চুল ও ত্বকের জন্য ভালো

চুল ও রূপের যত্নে নারিকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন নিয়মিত। এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৩, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ যা ত্বক ও চুল সুন্দর করে। ত্বকের দাগ দূর করার পাশাপাশি চুল উজ্জ্বল ও ঝলমলে করে নারিকেলের দুধ

কীভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে নারকেল কুরিয়ে নিতে হবে। এরপর তা ব্লেন্ড করতে হবে। কিছুটা গরম পানি এতে যুক্ত করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে নারকেল কিছুটা নরম হবে। ওই মিশ্রণকে এরপর আরও ব্লেন্ড করে দুধের মতো করে নিতে হবে। এরপর তা ছেঁকে তরল অংশটুকু আলাদা করে নিতে হবে। দানাদার অংশ নারকেলের ময়দা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নারকেল দুধ ঠান্ডা হলে তা খাওয়া যাবে। এ ছাড়া সংরক্ষণ করতে চাইলে বায়ুরোধী কোনো পাত্রে রাখতে হবে। রেফ্রিজারেটরে চার দিন পর্যন্ত এ দুধ ভালো থাকে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>