চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত! আর চিন্তা নেই, এবার সমাধান!

কখনো অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে বা মাথা টাক হতে শুরু করলে সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন বৈকি। এখন জেনে নেওয়া যাক কী কী কারণে অতিরিক্ত চুল ঝরতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চুল পাতলা হওয়াটাই স্বাভাবিক। চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার পর প্রকৃতিগতভাবেই চুল পাতলা হয়ে যায়। পুরুষদের এন্ড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এমনিতেই টাক হওয়ার প্রবণতা থাকে, কারও একটু কম, কারও বেশি। টাক পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত কারণও থাকতে পারে। সন্তান জন্মের পর চুল পড়ার হার বেশি বেড়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যা, টাইফয়েড জ্বর এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগে চুল বেশি পড়তে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়তে পারে। মাথায় ছত্রাক সংক্রমণ, খুশকির আক্রমণ, অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণও চুল বেশি পড়ার জন্য দায়ী। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ এবং আকস্মিক কঠিন খাদ্য নিয়ন্ত্রণের সময় চুল পড়ে। বেশির ভাগ চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও একেবারে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ২-৫ শতাংশ মিনস্কিডিল ব্যবহার করে বেশ উপকার পাওয়া যায়। ইদানীং চুল প্রতিস্থাপন করা হয়, কিন্তু মনে রাখবেন, এটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি অনেক সময় বিপজ্জনক।

চুলের জীবনকাল দেহের প্রতিটি কোষের মতো চুলেও একটি নির্দিষ্ট আয়ু বা জীবনকাল আছে। একটি চুলের আয়ু সাধারণত দুই থেকে ছয় বছর। এরপর এটি এমনিই ঝরে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০টি চুল ঝরে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

প্রতিরোধ বয়সের সঙ্গে চুলের রং পরিবর্তন হয়, এটা মেনে নিতে শিখুন। কলপ, কৃত্রিম রং যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।  চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।  কোঁকড়া চুল সোজা করার চেষ্টা না করাই ভালো। প্রয়োজনে রাসায়নিকের পরিবর্তে রোলার ব্যবহার করুন। টেনে চুল বাঁধা ঠিক নয়। আস্তে চুল আঁচড়াবেন এবং ভেজা চুল বেশি আঁচড়াবেন না। নরম থাকতে চুল ঠিক করুন। ব্রাশের চেয়ে দাঁতওয়ালা চিরুনি ব্যবহার করা ভালো। পুষ্টিকর খাবার খান। প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণ করুন। চুল খুশকিমুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন।

ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান চর্ম বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>