পেঁয়াজের রস কি চুল পড়া কমায়? কি বলছেন চিকিৎসক!

চুল পড়া নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেও কূল পাচ্ছেন না! পাতাঝরা গাছের মতো প্রতিদিনই পড়ছে চুল। কপালে চিন্তার ভাঁজ। রাতে হচ্ছে না ঘুম। চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে গিয়ে চুল পড়ছে আরও বেশি!

চুল পড়া কমাতে চেষ্টার কমতি নেই। অ্যালোপ্যাথি থেকে হোমিওপ্যাথি, ইউনানি এমনকি আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের কাছেও ধরনা দিয়েছেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় বাসায় নিজ উদ্যোগে টক দই, আদার রস, মেথির রস ছাড়াও নানা উপকরণের মিশ্রণে ‘প্যাক’ বানিয়ে চুলে মাখছেন। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছে সব চেষ্টাই। চুল পড়ছেই আর আপনিও ভাবছেন, এ থেকে রক্ষার বুঝি কোনো উপায় নেই!

উপায় আছে রূপচর্চাবিষয়ক ব্লগার অ্যাম্বার জ্যানিয়েল্লের কাছে। পেঁয়াজ ও রসুন চুল পড়া প্রতিরোধ করে, এ কথা জানার পর ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন জ্যানিয়েল্লে। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক ভিডিওতে তাঁর ভাষ্য, ‘বলা হয়, চুলের বৃদ্ধিতে পেঁয়াজ ও রসুন দারুণ কাজ করে। কারণ এর মধ্যে প্রচুর সালফার রয়েছে, যা চুল পড়া রোধ করে। বিশেষ করে পেঁয়াজ চুলের ভেঙে যাওয়া রোধ করে প্রাকৃতিকভাবে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—এ কথা শোনার পর সিদ্ধান্ত নিই নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখব।’

জ্যানিয়েল্লে এই পরীক্ষায় পানি, গোলমরিচ ও পেঁয়াজের রস একসঙ্গে মিশিয়ে ‘হেয়ার মাস্ক’ তৈরি করেন। পরীক্ষা শেষে তাঁর দাবি, পেঁয়াজের রস সত্যি সত্যিই চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে! ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওতে সেই ‘হেয়ার মাস্ক’ তৈরির রেসিপি আর প্রস্তুত প্রণালিও বর্ণনা করেছেন জানিয়েল্লে। রেসিপিগুলো হলো, টুকরো করে কাটা বড়সড় একটা পেঁয়াজ, দুই কাপ পানি এবং এক টেবিল চামচ গোলমরিচ।

প্রস্তুত প্রণালি—প্রথমে একটি পাত্রে দুই কাপ পানি ও পেঁয়াজের টুকরো ১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। এতে পরিস্রাবণ পদ্ধতিতে পেঁয়াজের ভেতরকার রস পানির সঙ্গে মিশে যাবে। সেদ্ধ হয়ে এলে পেঁয়াজের টুকরোগুলো ফেলে দিন। পাত্রের পানি ঠান্ডা হয়ে এলে গোলমরিচ ছেড়ে দিন। এরপর পেঁয়াজের রসমিশ্রিত পানিটুকু বোতলে ঢেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। নোংরা চুলে এই পানি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। চুলে মাখানোর পর কিছু একটা দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন প্রায় ২ ঘণ্টা। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। জ্যানিয়েল্লের সেই ভিডিওতে অনেকেই চুল পড়া কমাতে পেঁয়াজের রসের ভূমিকার ইতিবাচক প্রশংসা করেছেন।

চুল পড়া রোধে রসুনের ভূমিকাও কিন্তু কম নয়। নিউইয়র্কের খ্যাতনামা রূপচর্চাকেন্দ্র ‘পিয়েরে মিচেল সেলুন’-এর মাস্টার স্টাইলিশ জেরোমে লর্দেত বলেন, ‘রসুন রক্ত চলাচলে উদ্দীপনা জোগায়। তাই এটা খুবই সম্ভব যে, চুল পড়া রোধে রসুন বেশ কার্যকর।’

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>