সেক্স হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে মেনে চলুন ৮টি সহজ টিপস!

আমাদের শরীরকে মেদহীন রাখতে, যৌনজীবনকে সচল রাখতে, প্রজনন ক্ষমতা, ত্বক-চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে আমাদের শরীরে ভিন্ন হরমোনের সঠিকভাবে কাজ করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের শরীরের হরমোন মাত্রার সমতা বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শরীরে হরমোনের মাত্রার হেরফেরে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। হরমোনের মাত্রার তারতম্যে আপনার যৌনজীবন ব্যহত হতে পারে। সেক্স হরমোন-এর সমতার অভাবে আপনার যৌন ইচ্ছা নষ্ট হতে পারে, কামশক্তি ক্ষীণ হতে পারে, প্রজননের ক্ষমতা ধ্বংস হতে পারে। এখানে কয়েকটি সহজ টিপস দেওয়া হল যার ফলে আপনার শরীরে সেক্স হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং কামশক্তিও বৃদ্ধি হবে।

হলুদ দুধ
আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ঔষধ হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে হলুদ। হলুদে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান থাকে যেমন প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, নায়াসিন, ভিটামিন সি, ই, কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিংক।রাতে শুতে যাওয়ার আগে হলুদ দুধ খান। এটি আপনার স্নায়ুকে বিশ্রাম দেবে। এক গ্লাস দুধে, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, আধ চামচ দারচিনি গুঁড়ো দুয়ে মিনিট পাঁচেক ফোটান। এতে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি আপনার শরীরের সেক্স হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

গরম খাবার
ব্যস্ত এই নগরজীবনে বাসী খাবার খাওয়া নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি প্রশ্ন সবার মনে সবসময় আসে, এই বাসী খাবার খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর? কিংবা বাসী খাবার কতটুকু খেলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে? চিকিৎসকদের মতে সবসময় গরম খাবার খাওয়া উচিত বা খাবার সময় গরম করে খাওয়া উচিত। ঠাণ্ডা খাবার হজম করা কঠিন হয়। এছাড়া ডিনারে কাঁচা কোনও খাবার খাবেন না।

ওমেগা-৩ পূর্ণ খাবার খান
ফ্যাটি এসিড আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। মস্তিষ্কের শতকরা ৬০ ভাগই ফ্যাটি বস্তু। আমাদের সেলমেমব্রেন, হরমোন, সিগনাল ম্যাসেঞ্জার প্রভৃতি তৈরিতে ফ্যাটি এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফ্যাটি এসিড প্রধানত দুই প্রকার: এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড ও নন-এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড । এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড হলো সেই সমস্ত ফ্যাটি এসিড যা আমাদের শরীর তৈরি করতে পারে না এবং আমরা খাবারের মাধ্যমে তা পেয়ে থাকি। অন্যদিকে নন-এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীর প্রস্তুত করে থাকে। ফ্যাটি এসিডগুলোর মধ্যে আমাদের শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খাবারে প্রদাহ কমে, এর ফলে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণও কমে। এই হরমোনের ফলে আপনার সেক্স হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণ বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে কামশক্তি কমে যায়। টুনা, বাংড়া মাছ খেতে পারেন। এছাড়া অলিভ অয়েল, আখরোট প্রভৃতি।আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। যেমন: পাংগাস, পাবদা, রুই, ইলিশ ইত্যাদি।

খেতে হবে ফ্যাট
‘খাবারে ফ্যাট’-এর কথা শোনামাত্র আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ফ্যাট শব্দটি আমাদের কাছে আতঙ্কের ব্যাপার। ফ্যাট নানাভাবে আমাদের শরীরের উপকারে আসে।  হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে গিয়ে ফ্যাট-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু নির্বিচারে ফ্যাট-বর্জনের প্রবণতাকে বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন চিকিত্সকরা। কারণ এমন অনেক ‘ভালো ফ্যাট‘ রয়েছে, যাদের অভাবে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।  ভালো ফ্যাট শরীরের খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা কমাতে শুরু করে। এর ফলে সেক্স হরমোনের সমতা এবং সরবরাহ অবাধ হয়।

স্ত্রী হরমোন বাড়ায় যেসব খাবার
মহিলাদের বেলায় প্রধান যে কয়টি গুরুত্ব পূর্ণ হরমোন আছে তার মধ্যে বয়ঃসন্ধি শরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ সেক্স হরমোন হল ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টারন – ইস্ট্রোজেন গ্রোফ ও প্রোজেস্টেরোন, এই দুটি স্টেরয়েড স্ত্রী হরমোন একজন নারীর মাসিক চক্র, ডিম্বাশয় , ডিম্ব নির্গমন, জরায়ুর শ্লেষ্মা পুরু করা, ও সেক্স চরিত্রের পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পুরুষের বেলায় টেস্টারন , এই তিনটিকেই সেক্স হরমোন বলা হয়ে থাকে তা ছাড়া ও এইচ সি জি ( human chorionic gonadotrophin ), অক্সিটোসিন , এফ এইচ, এল এইচ ও মহিলাদের সেক্স হরমোনের সাথে সহযোগি হিসাবে বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং সেই সব খাবার বেশি করে খান যা স্ত্রী হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। যেমন অলিভ, কড়াইশুঁটি, রসুন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ প্রভৃতি।

ঘুম
ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের স্লিপ অ্যান্ড সার্কাডিয়ান রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক ডেভিড কামবাক বলেন, “যৌন চাহিদা এবং উত্তেজনার উপর ঘুমের প্রভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণের আগ্রহ কম। তবে এই গবেষণায় ফলাফল ইঙ্গিত করে যে, অপর্যাপ্ত ঘুম নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা এবং উত্তেজনার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও বলেন, “পর্যাপ্ত ঘুম নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে যৌনমিলনকে আরও সুখকর করে।”

গবেষণার জন্য কামাবাক ও তার সহকর্মীরা কলেজ পড়ুয়া ১৭১ জন নারীকে পর্যবেক্ষণ করেন। যারা প্রতিদিন ঘুমের সময় ডায়রিতে লিখে রাখতেন এবং পরেরদিন কারও সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হয়েছেন কিনা তা জানাতেন। কামবাক বলেন, “আমি মনে করি, এই গবেষণা থেকে বাড়তি ঘুম ভালো এই শিক্ষা নেওয় উচিৎ নয়। বরং আমাদের শরীর এবং মনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঘুমানো দরকার, এই শিক্ষা নেওয়া জরুরি।”

অ্যালার্জি জাতীয় খাবারে না 
নানারকম খাদ্য যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালার্জি বলে। সাধারণত খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলোজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আপনার যদি কোনও নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে সেই ধরণের খাবার এড়িয়ে চলুন। নয়তো এই ধরণের খাবার শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেবে এবং সেক্স হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেবে। এর ফলে আপনার যৌন জীবন নষ্ট হতে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ
অজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে ওষুধ খেলে লাভ তো হয়ই না, বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।  একজন চিকিৎসক ভালোমতোই জানেন, কোন ওষুধের কী সমস্যা আর তাই তা কাকে দেওয়া যাবে, কাকে যাবে না।  আবার মন মতোওষুধ খাওয়ার আরেক সমস্যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। নিজে থেকে ওষুধ খেলে এসব বিবেচনা সম্ভব নয়, তাই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বেশি। যা খুব খারাপভাবে শরীরের হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে আপনার কামশক্তি, যৌনইচ্ছা হ্রাস পেতে থাকে। তাই যে কোনো ওষুধ নেওয়ার আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>