রোজায় শ্বাসকষ্ট হলে ইনহেলার পাফ নেওয়া যায়? কি বলে ইসলাম!

রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। রোজা কোনোভাবেই হাঁপানি রোগ বাড়িয়ে দেয় না। ইনহেলার শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য এমন এক চিকিৎসাপদ্ধতি যা রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে টেনে নেয় এবং ওষুধ শ্বাসনালিতে পৌঁছায়। অনেকেই মনে করেন, ইনহেলার হাঁপানির সর্বশেষ চিকিৎসা। ইনহেলার একবার ব্যবহার করলে পরে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ কমানোর জন্য আর অন্য কোনো ওষুধ কাজে আসে না। তাঁদের জেনে রাখা ভালো, শ্বাসকষ্টের প্রথম চিকিৎসা হচ্ছে ইনহেলার।

এখন অবশ্য অনেক ডিভাইস পাওয়া যায়। তা ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগী রোজা রাখতে পারেন। সালবিউটামল ইনহেলার ইফতারের সময় দুই পাফ নেওয়া যায়। সাহ্‌রির সময় দুই পাফ নেওয়া যায়। তাহলে লম্বা সময় ধরে ভালো থাকা যায়।

আর বলা হচ্ছে, রোজা রাখা অবস্থায় যদি কেউ ইনহেলার নেয়, তবে রোজা ভাঙবে না। কারণ ইনহেলার তো খাদ্যের পরিপূরক নয়। ধূমপান করলে রোজা ভেঙে যাবে। ধূমপান তো নেশা। কিন্তু ইনহেলার তো নেশা নয়, এটা নিতে হয় রোগীকে সুস্থ রাখার জন্য। রোজা রেখে এটা সহজেই নেওয়া যাবে। তারপরও যদি কেউ না নিতে চান তবে সাহ্‌রি ও ইফতারের সময় দুই পাফ করে নিতে হবে।

আর এখন বিভিন্ন জেনথিন দলের আছে, ইউনিকনটেন আছে, কনটেন আছে—একটা ২০০ মিলিগ্রামের বড়ি, ইফতারের পর একটা খেয়ে নিলেন, সাহ্‌রির পর একটা খেয়ে নিলেন। তাহলে পুরো সময়টাই শ্বাসকষ্টমুক্ত থাকা সম্ভব। আর রাতে শোয়ার সময় একটি মন্টিলুকাস ১০ মিলিগ্রাম ওষুধ খেয়ে নিলে খুব সহজেই রোজা রাখা যায়।

আর কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খুব অ্যালার্জিতে ভরা। যেমন, গরুর মাংসের অনেক পদ, অনেক হাঁপানি রোগীই আছে যাদের এই মাংসে অ্যালার্জি আছে। চিংড়ি মাছের বিভিন্ন পদ, বেগুনি—এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, যদি তাদের এসব খাদ্যে সংবেদনশীলতা থাকে। ইফতারি ওইভাবে সাজিয়ে নেবেন। একজন শ্বাসকষ্টের রোগী যদি খুব পেট ভরে খায়, তবে দম নিতে সমস্যা হয়। আসলে সুস্থভাবে রোজা রাখার জন্য কিছু নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য করে চলতে হবে, পরিমিতিবোধ থাকতে হবে।

ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>