আপনার শিশুরও হতে পারে ক্যান্সার!

ক্যান্সার একটি জটিল ও মারাত্মক রোগ। যে কোনো বয়সে এবং যে কোনো অঙ্গে এটা হতে পারে। আমাদের জাতীয় পর্যায়ে মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে যে রোগগুলো হতে পারে, তার মধ্যে অন্যতম ক্যান্সার। পুরুষ, নারী এবং শিশু যে কারো ক্যান্সার হতে পারে। শিশুদের যেসব ক্যান্সার হয় তার মধ্যে চোখের ক্যান্সার, কিডনির ক্যান্সার, স্নায়ু ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার এবং ব্রেইন ক্যান্সার উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ব্লাডক্যান্সার এবং হাড়ের ক্যান্সারও হতে পারে। একটি স্লোগান আছে- সূচনায় পড়লে ধরা, ক্যান্সার রোগ যায় যে সারা। সব ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।

শিশুদের চোখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো, চোখের মনি সাদা হয়ে যাওয়া এবং রাতে বিড়ালের চোখের মতো দেখানো। কিডনি ক্যান্সার হলে পেটের যে কোনো পাশে একটি চাকা বা টিউমার অনুভূত হয়। বেশি বড় হলে পেট ফুলে যায়। স্নায়ু ক্যান্সার হলে, যেখানে হবে সে স্থানে ফুলে যাবে এবং ব্যথা অনুভব হবে। লিভার ক্যান্সার হলে পেটের ডান দিকে পাঁজরের নিচে ফুলে যাবে এবং ব্যথা করবে। ব্রেইন ক্যান্সার হলে মাথাব্যথা করবে, হাঁটাচলায় অসুবিধা হবে। বমি হওয়া, দুর্বল হওয়া, জ্বর হওয়া, বিনা কারণে রক্ত পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেবে। হাড়ের ক্যান্সার হলে ফুলে যাবে এবং ব্যথা করবে। এসব রোগ সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে বারো বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের বিস্তারিত বিবরণসহ বংশগত কোনো কারণ আছে কিনা, জানতে হবে। শিশুদের ক্যান্সারের অনেকটাই বংশগত কারণে হয়ে থাকে। এরপর শারীরিক পরীক্ষাগুলো শেষে রক্ত পরীক্ষা এবং কিছু টিউমার মার্কার টেস্ট, যেগুলো ওই নির্দিষ্ট ক্যান্সার এ থাকে, সেগুলো করতে হবে। এরপর চোখ ও ব্রেইন ক্যান্সার বাদে অন্যগুলো এফএনএসি করে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সার সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে ৮০ শতাংশ শিশুর ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।

ডা. মো. ইয়াকুব আলী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

ভাত খাওয়ার আগে দয়া করে এটি একবার পড়ে নিন !!

পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবারের যদি লিস্ট বানানো হয়‚ তাহলে ভাত কিন্তু লিস্টের বেশ ওপরের দিকে থাকবে। অনেকেই হয়তো বলবেন ভাত খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ ডায়েটিশিয়ানরাই মনে করেন রোজ সঠিক পরিমাণে ভাত শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ব্রাউন রাইস হোক বা হোয়াইট রাইস‚ ভাতের রয়েছে অনেক গুণ। আসুন, জেনে নিই ভাতের চারটি সেরা গুণের কথা।

সেরা নন অ্যালার্জিক খাবার : ভাত হচ্ছে একেবারেই গ্লুটেন ফ্রি খাবার‚ ফলে ভাতকে সব থেকে ভালো নন অ্যালার্জিক খাবার মানা হয়। অনেকেই গ্লুটেন যুক্ত খাবার সহ্য করতে পারেন না। ফলে বেশ কিছু দরকারী নিউট্রিয়েন্টস শরীরে যায় না। কিন্তু ভাত তা পুষিয়ে দেয়। ভাতে ভিটামিন বি‚ ভিটামিন ডি‚ ফাইবার‚ আয়রন এবং বিভিন্ন মিনারেল আছে যা শরীরের জন্য খুব দরকারি।

হার্টের জন্য ভালো : ব্রান অয়েল যা চালের থেকে তৈরি হয় তা আমাদের হার্টের জন্য খুব ভালো। এই তেলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা হৃদয় সংক্রান্ত ডিজিজ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও নিয়মিত এই তেলের রান্না খেলে ব্যাড কোলেস্টেরলল কমে যায়।

উচ্চ কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার : ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আছে যা শরীরে যা এনার্জি দরকার হয় তার যোগান দেয়। ভাতে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এটা কিন্তু লো ফ্যাট‚ লো সল্ট‚ লো সুগার খাবার।

আইডিয়াল বডি ওয়েট গেইন করতে সাহায্য করে : ভাত খেলে মোটা হয়ে যাবেন এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ব্যালেন্সড ডায়েটে খেতে চাইলে রোজ অল্প পরিমাণে ভাত খেতে হবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>