শুক্রাণু কি সত্যি কমে যাচ্ছে? কি করবেন তাহলে !

বিশ্বে নানা কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর হার বা সংখ্যা (স্পার্ম কাউন্ট) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এই হারে শুক্রাণু কমে যেতে থাকলে একপর্যায়ে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গবেষকেরা। কিন্তু সত্যিই কি শুক্রাণু কমে যাচ্ছে? যার কারণে একপর্যায়ে মানুষ বিলুপ্ত হতে পারে! শুক্রাণুর হার কমার কি কোনো প্রতিকার নেই? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে একদম হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সম্প্রতি ব্রিটিশ অনলাইন ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, পুরুষের শুক্রাণু কমার হার প্রাকৃতিকভাবেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার সময় কমিয়ে দিলে শুক্রাণুর হার বাড়ানো সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে যে হারে শুক্রাণুর হার কমে যাচ্ছে, এই হার একই থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ পুরুষ শুক্রাণুহীন হয়ে পড়বে। এর প্রধান কারণ হলো টক্সিক জাতীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা ও অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা। তবে এখনো এটা বিশ্বে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় কোনো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব কায়রো, দ্য ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়া ও মেক্সিকোর ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথভাবে করা এক গবেষণার ফলে বলা হয়েছে, স্পিরুলিনা (অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল যা অধিক পুষ্টিকর) খাবার মানুষের প্রজনন ক্ষমতাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে তোলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পিরুলিনার কাজ নিয়ে কয়েকটি গবেষক দল প্রাণী ও মানুষের ওপর গবেষণা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, স্পিরুলিনা মানুষ খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে তাদের প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে। একইভাবে আরেকটি দল বলছে, ষাঁড় ও মাছের ক্ষেত্রে এই স্পিরুলিনা একইভাবে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইঁদুর-জাতীয় প্রাণীর ওপর একইভাবে আরেকটি দল ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, স্পিরুলিনা তাদের শুক্রাণু সংরক্ষিত রাখে। এ কারণে তাদের প্রজনন ক্ষমতা বেশি থাকে। মার্কারি, আর্সেনিক ও কার্সিনোজেন বেনজো-আলফা পাইরিন-জাতীয় রাসায়নিকের কারণেই শুক্রাণু কমে গিয়ে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।

অন্য আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ইঁদুরের শরীরে কেমোথেরাপির প্রভাব কমাতে স্পিরুলিনা কাজ করে। এ ক্ষেত্রে শরীরে গামা রশ্মির প্রভাব থেকে তাদের প্রজনন ক্ষমতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে পারে স্পিরুলিনা।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাবার হিসেবে স্পিরুলিনা খেলেই যে মানুষের প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যাবে বা শুক্রাণু কমার হার প্রতিরোধ করা যাবে—তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়নি। তাই এসব নিয়ে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

শুক্রাণুর হার কমা নিয়ে এর আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার সঠিক কারণ ও তাঁর প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কীটনাশক ও প্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকা, স্থূলতা, ধূমপান, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস—এমনকি মাত্রাতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার সঙ্গে এই শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>