যৌনতা মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, উন্নতি হয় স্বাস্থ্যের

যৌনতা শুধু যে শারীরিক বা স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা কিন্তু নয়। এর কারণে স্বাস্থ্যগত উন্নতির পাশাপাশি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় কয়েক গুণ। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণার ফল এ তথ্যই জানিয়েছে।

ব্রিটিশ অনলাইন ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও কভেনট্রি ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক যৌথভাবে এই গবেষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, নিয়মিত যৌনতা মানুষের বুদ্ধি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষকেরা ২৮ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারীর ওপর এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী এই ৭৩ জনের বয়স ৫০ থেকে ৮৩-এর মধ্যে। গবেষণা প্রতিবেদনটি দ্য জার্নাল অব জেরোন্টোলজি, সিরিজ বি: সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান কভেনট্রি ইউনিভার্সিটিস সেন্টার ফর রিসার্চ ইন সাইকোলজি, বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যাচিভমেন্টের গবেষক হাইলে রাইট বলেন, ‘বয়স্কদের জন্য যৌনসম্পর্ক শুধু যৌনতার জন্য নয়। এর প্রভাবে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৭ জন জানিয়েছেন, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার শারীরিক সংসর্গ করেন, ২৬ জন মাসে একবার আর ১০ জন এই বয়সে কখনোই শারীরিক সম্পর্ক করেননি। এই অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাসে একবার শারীরিক সম্পর্ক করা ব্যক্তিদের চেয়ে বেশিবার শারীরিক সম্পর্ক করা ব্যক্তিরা বুদ্ধির দিক থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। আর যাঁরা ৫০ থেকে ৮৩ বছর বয়সের মধ্যে কখনোই শারীরিক সম্পর্ক করেননি তাঁদের চেয়ে মাঝে মাঝে শারীরিক সম্পর্ক করা ব্যক্তিরা চার পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত শারীরিক সংসর্গ করেন তাঁরা কথা বলায় অনেকটা পারদর্শী হন। যৌনতার ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তিও প্রখর হয়। তাঁরা জটিল ও এলোমেলো কোনো নকশা বা অঙ্কিত চিত্র খুব সহজেই মিলিয়ে ফেলতে পারেন। তাঁদের স্মৃতিও প্রখর হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যৌনতার সঙ্গে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার কারণ সম্পর্কে গবেষকেরা বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তাঁরা বলেছেন, যৌনতার কারণে নিউরোহরমোন বিশেষ করে ডোপামিন বা অক্সিটোসিন নির্গত হয়ে তা মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায়। এর কারণেই হয়তো তা ঘটে। তবে এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করতে হবে।

গবেষক হাইলে রাইট বলেন, ‘আমার ধারণা করি যৌনতার সঙ্গে শুধু সামাজিক ও শারীরিক বিষয়গুলো জড়িত। কিন্তু তা নয়। এর সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত। শরীরবৃত্তীয় কার্যকলাপও জড়িত যা যৌনতার কারণে প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। আর এসব নিয়ে আরও অনেক গবেষণা করা যেতে পারে।’

হাইলে রাইট আরও বলেন, ‘বয়স্ক মানুষেরা শারীরিক সংসর্গ করবেন—সাধারণ মানুষ এই চিন্তাটা করতেই পারে না। এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ শারীরিক সংসর্গের কারণে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ওই বয়সেও তাঁরা সুখী জীবনযাপন করতে পারেন।’

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>