নাক ডাকা রোগীর চিকিৎসায় পিজি হাসপাতালে চালু হলো স্লিপ ল্যাব

নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হওয়া রোগীদের চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) স্লিপ ল্যাব চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকের ষষ্ঠতলার মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে “স্লিপ ল্যাব এন্ড সিএমই অন স্লিপ অ্যাপনিয়া শীর্ষক ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এই ল্যাবটি রোগীদের পরীক্ষার জন্য রাতে খোলা থাকবে। ঘুমের মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। স্লিপ অ্যাপনিয়া বা নাক ডাকার সুচিকৎসা ও প্রতিরোধের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপউপাচার্য (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল ও অটোল্যারিংগোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জিারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার, অটোল্যারিংগোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদার, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনি লাল আইচ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলম মজুমদার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. মনজুরুল আলম। তিনি বলেন, বিশ্বে স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার পুরুষদের তিন থেকে সাত শতাংশ এবং মহিলাদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ নাকডাকা সমস্যা রয়েছে। ধূপমান, অ্যালকোহল সেবন, ফাস্টফুড খাবার গ্রহণ, মুটিয়ে যাওয়া, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি কারণে নাক ডাকা সমস্যা হয়ে থকে। নাক ডাকা সমস্যা প্রতিরোধে শাক-সবজি বেশি করে খাওয়া এবং ব্যায়ামের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। নাক ডাকায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সিপাপ ব্যাবহার করতে পারেন। শিশুরাও টনসিল অ্যাডেনোইডের কারণে এ নাকডাকা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। নাক ডাকা সমস্যা দূর করতে অনেক সময় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>