ঘুম থেকে উঠেই যে কাজগুলি ভুলেও করবেন না!

দিনের মধ্যে কিছু সময় থাকে যখন একটু সাবধানতা অবলম্বন করাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে শরীরের উপর মরারাত্মক চাপ পরে। ফলে ভাঙতে শুরু করে দেহ কাঠামো।  সেই জন্যই স্বাস্থ্য সচেতন প্রতিটি মানুষেরই এই প্রবন্ধে একবার চোখ রাখা একান্ত প্রয়োজন। ঘুম থেকে ওঠার পর পর আমাদের শরীর ঠিক সুর-তালে থাকে না। তাই সে সময় শরীরের খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যাটা হল প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই চোখ খেলার পর এমন কিছু কাজ করে থাকেন, যা একেবারেই করা উচিত নয়, যেমন বেড টি পান। সকাল সকাল আমাদের শরীরের যা অবস্থা থাকে, তাতে খালি পেটে চা-কফি খাওয়াটা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।  সকাল সকাল যে যে কাজগুলি ভুলেও করবেন না, সেগুলি হল-

চোখ মেলেই মেসেজ চেক:  ঘুম থেকে উঠেই মেসেজ বা মেল চেক করার অভ্যাসের কারণে সারা দিনটা আমাদের খারাপ যায়। কারণ সব মেসেজই যে মন আনন্দে ভরিয়ে তোলে, এমন নয়। বরং কিছু কিছু মেসেজে এমন কিছু থাকে, যে কারণে নিমেষে মন খারাপ হয়ে যায়। আর ঘুম থেকেই উঠেই এমনটা হোক, তা নিশ্চয় আপনারা কেউই চানা না।

আলো চাই অনেক আলো: বলুন তো আমাদের শরীর কীভাবে বোঝে সকাল হয়েছে? আলো ফোটা মাত্র তার সিগন্যাল মস্তিষ্কে যেতে থাকে, আর তখনই আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর বাড়ি-ঘর অন্ধকার করে রাখলে শরীর অবাক হয়ে যায়। তার মনে হয় এখনও দিন হয়নি। ফলে দেহের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। তাই সকাল সকাল বাড়ি-ঘর আলোয় ভরিয়ে দিতে হয়। আর অপেক্ষা কেন! পর্দা সরিয়ে দিন। জানলা খুলে দিন। আলোর স্রোতকে ঘরে আসার অনুমতি দিন, দেখবেন শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে যাবে।

পানির অভাব পূরণ হয়েছে তো? টানা ৭-৮ ঘন্টা ঘুমনোর সময় আমাদের শরীরে পানির প্রবেশ প্রায় ঘটে না। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর সঙ্গে সঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান করা উচিৎ।  তা না হলে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেবে এবং টক্সিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ফলে শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। তাহলে উপায়! খুব সহজ। ঘুম ভাঙলেই পেট ভরে পানি পান করে নিন। তাহলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তা থাকবে না।

প্রোটিন সমৃদ্ধি খাবার: ব্রেকফাস্টে পছন্দের যে কোনও খাবার খেতেই পারেন। তবে সেই লিস্টে যেন অবশ্যই থাকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। কারণ আমাদের শরীরের “লিন মাস”এর গঠনে প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  তাই সারা দিন শরীরে চাঙ্গা ভাব রাখতে নাস্তায় মাংস, দুধ, ডিম, ডাল প্রভৃতি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

ঘুম থেকে উঠেই এক্সারসাইজ নয়: ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীর অতটা সচল থাকে না। ফলে সেই সময় শরীরচর্চা করলে চোট-আঘাত লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। তাই তো ঘুম ভাঙার পর কিছু খেয়ে নিয়ে তার পর শরীরচর্চায় মনোনিবেশ করা উচিত। তার আগে একেবারেই নয়!

ভুলেও স্নুজ বটন প্রেস করবেন না: অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কজন উঠে পরেন? সংখ্যাটা যে নেহাতই কম, সে কথা বলে দিতে হবে না। কারণ পরিসংখ্যান বলছে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭-৮ জনই অ্যালার্ম বাজলেই উঠে পরেন না। বরং স্নুজ বাটানটা টিপে আরও ৫-১০ মিনিট ঘুমিয়ে নেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ স্লিপ এক্সপার্টদের মতে এমনটা করলে আমরা গভীর ঘুমে চলে যাই। কিন্তু অফিসে দেরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে সেই স্লিপ সার্কেল কোনও ভাবেই পূর্ণ হয় না। ফলে মাথা ধরা, ক্লান্তি এবং মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই সুন্দরভাবে যদি দিনের শুরুটা করতে চান, তাহলে ভুলেও স্নুজ বাটানে হাত দেবেন না!

ব্রেকফাস্ট করেন তো? এই কথাটা মনে হয় অনেকবার শুনে নিয়েছেন। তবে আরও একবার শুনলে মনে হয় না কোনো ক্ষতি হবে, বরং উপকারই হবে। সকাল সকাল খালি পেটে থাকার অভ্যাস একেবারেই ভাল নয়। অনেকে মনে করেন সকালে না খেয়ে থাকলে ওজন কমে। এই ধারণার মধ্যে কিন্তু কোনও সত্যতা নেই। বরং বিষয়টা একেবারে উল্টো। ব্রেকফাস্ট হল দিনের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। তাই এই সময় পেট ভরে খাবার না খেলে বিপদ! একাধিক জটিল রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। তাই ভুলেও সকালে পেট খালি রাখা চলবে না।

বেড টি নৈব নৈব চ! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে আমাদের মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে কর্টিজল নামক স্ট্রেস হরমোনের উৎপন্ন হয়। তাই এই সময় কফি খেলে কটিজলের উৎপাদন আরও বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। আর সকাল সকাল যদি মনটা বিগড়ে যায়, তাহলে সারা দিনটা কেমন যেতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

ঘুম ভাঙার পর সামান্য স্ট্রেচিং মাস্ট! সকাল সকাল আমাদের শরীর বেশ স্টিফ থাকে। সেই কারণেই তো নড়তে চড়তে একটু সময় লাগে। এক্ষেত্রে স্ট্রেচিং দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। ঘুম ভাঙার পর ডান দিকে ফিরে ধীরে ধীরে ওঠার পর একটি আলতো ভাবে হাত-পা স্ট্রেচ করলে পেশির কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায়।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>