গর্ভাবস্থায় কি পেঁপে খাওয়া যায়? কি বলছেন চিকিৎসকেরা!

বলা হয়, গর্ভধারণ যেকোনো নারীর জীবনে কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। তাই এ সময় চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া- প্রতিটা কাজে একটু বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। ভ্রুণ যখন শরীরের ভেতর বাড়তে থাকে তখন যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে সতর্ক হতে হয়।

প্রচলিত রয়েছে, গর্ভাবস্থায় পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়, এতে ভ্রুণের ক্ষতি হতে পারে। এ কথাটি কি ঠিক? আসুন জেনে নই, আসলে কী হয় গর্ভবস্থায় পেঁপে খেলে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় অবশ্যই পেঁপে খাওয়া যায়। তবে সেটা পাকা পেঁপে। এ সময় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কেননা কাঁচা পেঁপে খেলে এসিড হতে পারে। এর ফলে বদ হজম, বমি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তাই এ সময় পাকা পেঁপে খান।

এ বিষয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্রিটিশ ও ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, কাঁচা পেঁপের মধ্যে লেটেক্স থাকে। লেটেক্সের মধ্যে উপস্থিত উপাদান পেপেইন জরায়ুর রক্তপাত ঘটিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।’

‘এ ছাড়া এই লেটেক্স অনেকের জন্য অ্যালার্জিক। ল্যাটেক্স থেকে অ্যালার্জি হয়। তাই যাদের লেটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে তারা গর্ভাবস্থায় এটি খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই এ সময় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে যওায়াই ভালো।’

তামান্না চৌধুরি আরো বলেন, ‘পাকা পেঁপে খাওয়া যাবে। কেননা পাকার সময় লেটেক্সের পরিমাণ কমে যায়। পাকা পেঁপেতে থাকে ভিটামিন এ, বি, পটাশিয়াম, বেটা কেরোটিন। এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। অনেকে আবার অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে গর্ভাবস্থায় পেঁপে খাওয়া একেবারে বাদ দিয়ে দেন। এটা ঠিক নয়। তাঁরা পেঁপের ভালো পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হন।’

তবে তামান্না চৌধুরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে যেভাবে ফলে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে পাকানো হয়, এতে ফল স্বাভাবিকভাবে পাকে না। এভাবে পাকানো পেঁপেতে লেটেক্স থাকার আশঙ্কা রয়েছে।তাই গর্ভাবস্থায় পেঁপে খেলে নিশ্চিত হয়ে গাছপাকা পেঁপে খাওয়াই ভালো।’

বারডেম হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান শেলী বলেন, ‘গর্ভাবস্থা খুব স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তাই এ সময় যেকোনো খাবার গ্রহণের আগেই কিছুটা সতর্ক হয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া জরুরি।’

আর রান্না করা পেঁপের ক্ষেত্রে কী হয়- এটা নিয়ে কোনো গবেষণা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কেউ মন্তব্য করেননি। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীর ঝুঁকির ভেতর থাকে, তাই এ সময় খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি, সেটা হোক পেঁপে কিংবা অন্যকিছু।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>