গুণের শেষ নেই কাঁচা আমের জুসের !

আমের জুসগরমে কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। বাজারে এখন কাঁচা আম পাবেন। পুষ্টিবিদেরা বলেন, কাঁচা আমের জুস শরীরের জন্য ভালো। কাঁচা আম বা আমের রসে পটাশিয়াম থাকায় প্রচণ্ড গরমে তা শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কাঁচা আমের জুসের কয়েকটি গুণের কথা জেনে নিন:

শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে
গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এই ঘাটতি দূর করে। যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য এখন আদর্শ ফল কাঁচা আম।

পেট ভালো রাখে
গরমে পেটের গোলমাল? এক গ্লাস আমের জুস দারুণ কাজে লাগতে পারে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আমের জুস। এছাড়াও পেট ঠান্ডা রাখতেও কাঁচা আমের জুস নিয়মিত খেতে পারেন। পেট ভালো তো শরীর সুস্থ।

শরীর ঠান্ডা থাকে
কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকার কারণে তা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে৷ এ কারণে শরীরে ঘাম কম হয়। গরমে ক্লান্তিও দূর হয়৷ দুপুরে খাওয়ার পর এই গরমে কিছুটা ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে। কাঁচা আমে আছে প্রচুর শক্তি। দুপুরের খাওয়ার পরে কয়েক টুকরা কাঁচা আমের জুস খেলে ঝিমুনি দূর হয়।

হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো
কাঁচা আমকে হৃদযন্ত্রবান্ধব বলা যেতে পারে। এতে আছে নিয়াসিন নামের বিশেষ উপাদান। এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় এবং বাজে কোলস্টেরল স্তরকে কমাতে সাহায্য করে। যকৃতের রোগ নিরাময়ের প্রাকৃতিক বন্ধু হতে পারে কাঁচা আমের জুস।

স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করে
কাঁচা আম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ জোগাতে পারে। স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর। নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আমের জুস।

অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
খাদ্যাভ্যাসের জন্য বেশিরভাগ মানুষই এসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। কাঁচা আম খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই আপনার হজমে সাহায্য করবে কাঁচা আমের জুস।
পানির ঘাটতি রোধ করে
গরমে আমাদের শরীর থেকে অনেক পানি বাহির হয়ে যায়। শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এবং পানির ঘাটতি পূরণের জন্য  খান আমের জুস।
ওজন কমায়
মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সাহায্য করে। তাই যারা ওজন কমাতে চান তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁচা আমের জুস রাখুন। এই জুস আপনার মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহায্য করবে। সুতরাং দেরি না করে কাঁচা আমের সিজন থাকতে থাকতে ওজন কমিয়ে নিন।
স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া প্রতিরোধ করে
কাঁচা আম খেলে আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি সরবরাহ করে। স্কার্ভি, অ্যানেমিয়া ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। কাঁচা আমের পাউডার বা কাঁচা আমের জুস স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী।
মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
কাঁচা আমের জুস খাওয়া মাড়ির জন্য উপকারী। এটি শুধু মাড়ির রক্ত পড়াই বন্ধ করেনা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। যাদের দাঁত ও মাড়ির সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত কাঁচা আমের জুস পানের চেষ্টা করুন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এর সুফল ধরা দেবে।
মর্নিং সিকনেস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
সামান্য লবণ মাখিয়ে কাঁচা আম খেলে বমি বমি ভাব দূর হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস দূর করতে চমৎকারভাবে কাজ করে কাঁচা আমের জুস।  গর্ভবতী নারীদের জন্য কাঁচা আমের জুস বানিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যখনই তাদের বমি বমি ভাব হবে তখন কয়েক চুমুক খেয়ে নিলে তিনি স্বস্তিবোধ করবেন।
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
কাঁচা আমের জুস আলফা ক্যারোটিন ও বিটা ক্যারোটিনের মত ফ্লাভনয়েড সমৃদ্ধ। এই সব উপাদান দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়। শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সবার জন্যই এই জুস বেশ কার্যকর। বিশেষ করে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নতির জন্য মায়েরা তাঁদের সন্তানকে কাঁচা আমের জুস বানিয়ে খাওয়াতে পারেন প্রতিদিন।
লিভারের সবচেয়ে ভালো বন্ধু
লিভারের রোগ নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে কাঁচা আম। যখন কাঁচা আমের জুস খাওয়া হয় তখন পিত্ত থলির অ্যাসিড ও পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করে। পাশাপাশি বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি সাধন করায় দেহ ধীরে ধীর তরতাজা হয়ে ওঠে।
ঘামাচি প্রতিরোধ করে
গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে খারাপ শত্রু  হচ্ছে ঘামাচি। ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আমের জুস খাওয়া। যেহেতু এই জুস দেহে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয় তাই ঘামাচির আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়া কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান আছে যা হিট স্ট্রোক হতে বাধা দেয়।
রক্তের সমস্যা দূর করে
শরীরের কোষকে উজ্জীবিত করে কাঁচা আমের জুস। রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন রক্ত কোষ গঠনে সহায়তা বিশেষ ভূমিকা রাখে কাঁচা আমের জুস। রক্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন রকমের সমস্যা যেমন- রক্তশূন্যতা, ব্লাড ক্যান্সার, রক্তক্ষরণের সমস্যা ও টিউবারকোলোসিসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে কাঁচা আমের জুস।
অ্যানার্জি প্রদান করে
কাঁচা আমের জুস অধিক পরিশ্রমেও আপনাকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। আপনি কি জানেন কাঁচা আমের জুস আপনাকে প্রচুর শক্তি দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে দুপুরের খাওয়ার পরে কাঁচা আমের জুস খেলে তন্দ্রা কাটিয়ে উজ্জীবিত হতে সাহায্য করে।  অফিসে বা পথে কাজের চাপে পিষ্ট হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে চা কফির বদলে আমের জুসের সজিবতায় চাঙ্গা হয়ে উঠুন এখনই।
ঘাম কমায়
গরমের ঘাম থামতেই চায়না। কাঁচা আমের জুস খেয়ে ঘামের মাত্রা কমানো যায়। অতিরিক্ত ঘামের ফলে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন কমতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে কাঁচা আমের জুস। বাড়িতে থেকে বের হলে এই জুস আপনি সাথে রাখতে পারেন।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>