যানজটেই সেরে নিন হালকা কিছু ব্যায়াম ! জেনে নিন নিয়ম গুলো !

অফিসে বা কোনো কাজে যাচ্ছেন? রাস্তায় যানজটে অনেকটা সময় ধরে আটকা। বসে থাকতে থাকতে হাড়গোড়ের সন্ধিতেই জট লাগার জোগাড়। আছে ধুলোবালু, বায়ুদূষণ। ঠেসে বাতাস ঢোকানো বলের মতো ক্ষোভ জমে ভেতরে। এই পরিস্থিতিতে শরীর-মন থিতু রাখবেন কীভাবে?

হালকা কিছু ব্যায়াম যানজটে বসে করার অভ্যাস করতে পারলেই কিছুটা শক্তি ক্ষয় কমাতে পারেন। ভারতের ‘লগ অব টু লগ ইন’ নামের একটি যোগব্যায়াম বইয়ের লেখক কমলেশ বারওয়াল কয়েকটি যোগব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন। জেনে নিন কয়েকটি যোগব্যায়ামের নিয়ম:

মাথা ম্যাসাজ করা: সোজা হয়ে বসুন এবং মাথা সোজা রাখুন। শ্বাস নিন এবং ডান হাত ওপরে তুলুন। হাতের তালু কপালের ওপরের দিকে রাখুন। মাথার ওপরের অংশ হালকা ম্যাসাজ করুন ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরিয়ে। এ সময় ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। মাথার যত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন এবং প্রশান্তি অনুভব করার চেষ্টা চালান।

চোখের পলক ফেলুন: মাথা ও মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। এবার চোখ বন্ধ করুন। টানা ১০ থেকে ১৫ বার দ্রুত চোখ খুলুন এবং বন্ধ করুন। এরপর ধীরে ধীরে একই প্রক্রিয়া আরেকবার করুন। যতটা শক্ত করে সম্ভব চোখ বন্ধ রাখুন। তারপর যতটা সম্ভব চোখ প্রসারিত করুন। এ প্রক্রিয়া কয়েকবার করুন। এ সময় ঘন ঘন শ্বাস নিন।

চোয়ালের ব্যায়াম: মাথা ও মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। তিন আঙুলের মাথা গালের হাড়ের ওপর রাখুন। সেখানকার মাংসপেশিতে বৃত্তাকার পদ্ধতিতে হালকা ম্যাসাজ করুন। মুখ স্বচ্ছন্দ রাখুন। একটু জোরে চেপে আঙুলগুলো চোয়াল থেকে চিবুকের দিকে আনুন। কয়েকবার এ প্রক্রিয়া করতে পারেন। এ সময় স্বাভাবিক ও ঘন শ্বাস নিতে পারেন। মুখের শক্ত ভাব কাটিয়ে স্বচ্ছন্দ করে নিন।

হালকা মাথা ঘোরানো: সোজা হয়ে বসুন। ঘাড়, মাথা ও মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। শ্বাস নিন। চিবুক ওপরের দিকে তুলুন এবং মাথা পেছন দিকে হেলিয়ে দিন। ঘাড়ের মাংসপেশিগুলোর টান অনুভব করুন। কয়েক সেকেন্ড এভাবে থাকুন। শ্বাস ছেড়ে দিন এবং চিবুক সামনে বুকের দিকে আনুন। ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীত দিকে খুব ধীরে ধীরে মাথা ঘোরান। প্রশান্তি অনুভব করার চেষ্টা চালান।

কান থেকে কাঁধ স্ট্রেচিং: মেরুদণ্ড, ঘাড় ও মাথা সোজা রাখুন। শ্বাস নিন। আপনার কাঁধ কানের দিকে তুলুন। কিছুক্ষণ এভাবে থাকুন। শ্বাস ছেড়ে দিন এবং কাঁধ নামিয়ে আনুন। কয়েকবার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং কাঁধের মাংসপেশিতে চাপ অনুভব করুন। মেরুদণ্ডে টান লাগলে সে শক্তি অনুভব করুন।

দ্রুত শরীর ঝাঁকানো: সোজা ও লম্বা হয়ে বসুন। হাত বুকের কাছে আনুন। কবজি, কাঁধ ও মাথা হালকা করে শিথিল করে ফেলুন। কবজি, শরীর ও মাথা একসঙ্গে নাচের মতো ঝাঁকাতে পারেন। শরীর থেকে জড়তা ভাব দূর করুন।

শরীর মোচড়ানো: সোজা হয়ে বসুন। শ্বাস নিন এবং শরীর ডান দিকে মোচড় দিন। পাঁচ সেকেন্ড এভাবে থাকুন। শ্বাস ছেড়ে আবার আগের অবস্থায় আসুন। এবার অন্য পাশে মোচড় দিন। কয়েকবার এভাবে শরীর মোচড়াতে পারেন।

যানজটে বসে চার-পাঁচ মিনিটের জন্য এভাবে যোগব্যায়াম করলে তা শরীর ও মনের ওপর দারুণ কাজ করবে বলে দাবি করেন ভারতের শ্রী শ্রী স্কুল অব ইয়োগার প্রধান নির্বাহী কমলেশ। যখনই যানজটে অনেকক্ষণ আটকে থাকবেন এবং মাথার মধ্যে ভাপ ওঠার ভাব মনে হবে, তখনই এ ব্যায়ামগুলো মনের ক্লান্তি দূর করতে পারে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>