মুখে দুর্গন্ধ কাদের বেশি হয়? জেনে নিন তাহলে

ঝকঝকে দাঁতে সুন্দর হাসি কেবল ব্যক্তিত্বকেই আকর্ষণীয় করে না, এটা আপনার সুস্বাস্থ্যেরও পরিচায়ক। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনেকেই দাঁত সুস্থ রাখার বিষয়ে সচেতন থাকেন না। ঠেকায় পড়ে দাঁতের চিকিত্সকের কাছে না যাওয়া পর্যন্ত যেন তাঁরা বিষয়টির গুরুত্বই বোঝেন না। একটু সচেতন হলে এবং কিছু বিষয় নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে সারা জীবন সুস্থ-সবল দাঁতের সুন্দর হাসি হাসতে পারবেন আপনি। আর মুখ থেকে বাজে গন্ধ বেরোচ্ছে, এটা শুনতে কারোরই ভালো লাগার কথা নয়। দাঁতের ব্যাপারে সচেতন না হলে দাঁত দেখতেও বিশ্রী হতে পারে, তেমনি দুর্গন্ধের উৎসও হতে পারে।

কাদের মুখে গন্ধ বেশি হয়?
যাঁরা নিয়মিত সকাল ও রাতে দাঁত ব্রাশ করেন না, যাঁদের বয়স বেড়ে গেছে, উঠতি বয়সী কিশোর, যাঁরা আঁকাবাঁকা দাঁত ঠিক করতে ব্রেস পরেন, পান বা সিগারেট খান, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, দাঁতের মাড়িতে পাথরের মতো আবরণ জমে কালো কালো হয়ে গেছে, যাদের মুখে দাঁতের ভাঙা অংশ রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে, ডায়াবেটিস, ইনফেকশন হওয়া দাঁত ও দাঁতের মাড়ি, কিছু খাবার (পেঁয়াজ, রসুন, কফি) ইত্যাদি।

দাঁতে দাগ পড়ে কেন?
চকলেটে আসক্তি, তেল-মসলাযুক্ত ভারী খাবারের অভ্যাস, অ্যালকোহল পানের অভ্যাস, অতিরিক্ত চা-কফি পান কিংবা ধূমপান বা পান চিবানোর অভ্যাস থাকলে দাঁতে দাগ পড়ার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার আশঙ্কা অনেক বেশি। বোতলজাত প্রায় সব পানীয়েই ‘কার্বনেট’ করা থাকে, এসব পানীয় পান বাদ দিয়ে বা যতটা সম্ভব কমিয়ে দাঁতে ক্ষতিকারক অ্যাসিডের প্রভাব কমান। কেননা, তা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দাঁত ক্ষয় করে ফেলে। এসব খাবার কম গ্রহণ বা এড়িয়ে গেলে দাঁতের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।

সুন্দর ঝকঝকে দাঁতের জন্য করণীয়

দিনে দুই বেলা ব্রাশ করুন
দিনে দুই বেলা ব্রাশ করা দাঁতের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। রাতে ও সকালে খাবার গ্রহণের পর দাঁত অবশ্যই পরিষ্কার করা উচিত। যদি এরপরও মুখে দুর্গন্ধ হয়, তাহলে বেকিং সোডা দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারেন। এটি মুখ থেকে অ্যাসিডিটি দূর করবে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমিয়ে দেবে।

প্রচুর পানি পান করুন
পানিশূন্যতায় ভুগলেও মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করুন। এটি আপনাকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে এবং মুখের বাজে গন্ধ দূর করবে।

জিহ্বা ব্রাশ করুন
ব্রাশ করার মানে এই নয় যে কেবল দাঁতই ব্রাশ করবেন। জিহ্বাও ব্রাশ করা জরুরি। জিহ্বার জন্যও মনোযোগ প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়া জিহ্বাতেও বৃদ্ধি পায়। এতে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

চুইংগাম চিবানো
মুখের বাজে গন্ধ দূর করতে চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবুতে পারেন। এটি মুখের লালা উৎপন্ন করতে সাহায্য করবে। এটি ব্যাকটেরিয়াকে দূর করতে সাহায্য করবে এবং খাদ্যকণাও পরিষ্কার করবে।

চা খান
চায়ের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে পলিফেন। এটি মুখের সালফার উপাদানকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

ডা. শরিফুল ইসলাম

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>