ডায়াবেটিসের আভাস পাবেন যেভাবে !

ডায়াবেটিসের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার দুই দশক আগেই সে সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যেতে পারে। এ ধরনের আগাম আভাস পাওয়া গেলে এ রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। সম্প্রতি সুইডেনের গবেষকেরা এ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে যে ফল পাওয়া গেছে, এতে ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে যেতে পারে।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘ডায়াবেটিস, ওবেসিটি অ্যান্ড মেটাবলিজম’ শীর্ষক অনলাইন জার্নালে। ওই গবেষণায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৯ জন সুস্থ ব্যক্তিকে দুই দশক থেকে পর্যবেক্ষণে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ২৮ হাজার ২৪৪ জন টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ দুই দশকে সাড়ে ৯ শতাংশের মতো ব্যক্তির টাইপ টু ডায়াবেটিস হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, তাঁদের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, আগে থেকেই যাঁদের ডায়াবেটিস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মিলে গেছে।

টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হয় না বা দেহের কোষগুলো ইনসুলিন-প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস একটি মেটাবলিক ডিজিজ। যেসব রোগীর রক্তে ব্লাড সুগার কিংবা গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়, তাঁদের ডায়াবেটিস হয়। হজম হওয়া খাদ্য শরীরের বল ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, আর এই সিস্টেমকেই মেটাবলিজম বলে। আমরা যেসব খাবার গ্রহণ করি, তার বেশির ভাগই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। গ্লুকোজ রক্তের মধ্যে চিনিরূপে মিশে থাকে যা, কিনা আমাদের শরীরের জ্বালানি বলা চলে।

সাম্প্রতিক এ গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস শুরু হওয়ার আগেই এর পূর্বাভাস পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে আগেই এ রোগ থেকে মুক্তি মেলে। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে তথ্য জানা। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছ গিয়ে পরীক্ষা করা এবং ডায়াবেটিস আছে কি না, তা জানা। নিজের শরীরের ওজন বেড়ে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে—অনেকেই ডায়াবেটিস শুরুর কথা শুনে অতিরিক্ত মাত্রায় নাটকীয় পরিকল্পনা শুরু করেন, যা বাস্তবসম্মত নয়। এর বদলে ধীরে ধীরে নিজের তথ্যগুলো উন্নত করতে হবে। এ গবেষণায় ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ, ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করতে হবে। রক্তে চিনির পরিমাণ না বাড়িয়ে জীবনকে উপভোগ করতে হবে। শরীরের উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত বা বিএমআই যদি বাড়তি থাকে, তা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। কিছু জিনিসে বিধিনিষেধ মানার বিষয়টি টেকসই হয়। কম ক্যালরির খাবার খাওয়ার মতো বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে পারেন।

কিছু পরামর্শ:
১. প্লেটে সবজি রাখুন বেশি। দুপুরে অর্ধেক প্লেট সবজি আর রাতে সবজিযুক্ত সালাদ বেশি খান।
২. যাঁরা ভ্রমণ করেন, তাঁরাও চলার পথে ভাজাপোড়া বেশি না খেয়ে সবজি নাশতা সঙ্গে নিন। যেমন: গাজর, মটরশুঁটি, সেলারি।
৩. চর্বিমুক্ত খাবার বেশি খান। খাবারে ভিনেগার, উপকারী মসলা ও ভেষজ, ননিবিহীন দই, লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৪. বাড়তি চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত কোনো খাবার খাবেন না
৫. কোনো প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে উপাদানগুলো পড়ে নিন। যেসব খাবারে চিনির পরিমাণ কম, সেগুলো বেছে নিন। বাড়তি চিনি থেকে আসা ক্যালরি ১০ শতাংশ কমান। গুড়, চিনি, মধু, জুসসহ বিভিন্ন সিরাপ খাওয়ার আগে বিবেচনা করুন।
৬. চর্বিহীন মাংস, চর্বিহীন দুধ ও তরল চর্বিযুক্ত খাবার যুক্ত করুন। রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়লে ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খান। রক্তের অবস্থা বুঝে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা গ্রহণের হার কমান।
৭. শিম ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার বেশি করে খান।
৮. যতটা বেশি সম্ভব ফল ও সবজি খান।
৯. মিষ্টি কম করে খান।

এখন থেকে ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে চললে আগামী ২০ বছর পরেও আপনি সুস্থ থাকবেন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>