কয়লা দিয়ে ত্বকের ময়লা পরিস্কার!

অ্যাক্টিভেটেট চারকোল অথাৎ পরিশোধিত কয়লা বর্তমান বিশ্বে রূপচর্চ্চার ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যে চারকোল বা কয়লার কথা বলা হচ্ছে তা যেন-তেন কয়লা নয় যে আপনি চিমনী থেকে কিছুটা নিয়ে নিলেন বা বার-বা-কিউ করার পর যে কাঠ কয়লা পাওয়া গেল তাই ত্বকে ব্যবহার করবেন। তাহলে হিতে বিপরীত হবে।

অ্যাক্টিভেটেট চারকোলকে ব্যবহার যোগ্য করে তোলার জন্য বিভিন্ন গ্যাস ও স্টিম দিয়ে পরিশোধিত করা হয় । ঠিকমত পরিশোধিত না হলে আপনার ত্বকে বিষক্রিয়া হতে পারে। অনেকসময়ে সাপ্লিমেন্ট হিসাবেও অ্যাক্টিভেটেট চারকোল খাওয়া যায়। অ্যাক্টিভেটেট চারকোল ব্যবহারে কিভাবে ত্বকের জন্য অতুলনীয় ও উপকারী তা জেনে নিন…

ত্বক পরিস্কার করতে
চারিপাশের পরিবেশ দুষণ, ধুলা ময়লা সবকিছুই আমাদের ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। আর তাই ফেসিয়াল ত্বক হয়ে হয়ে পড়ে নির্জীব ও অনুজ্জল। কিন্তু যখন আপনি অ্যাক্টিভেটেট চারকোল ব্যবহার করবেন তখন ত্বকের অতিরিক্ত তেল ময়লা, মরা কোষ তুলে ত্বকে এনে দেয় একটা রিফ্রেশিং ভাব।

কিভাবে তৈরী করবেন এই মাস্ক- দুই চা চামচ অ্যাক্টিভেটেট চারকোল গুড়ার সঙ্গে দুই চা চামচ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করুন। সাধারনভাবে মুখ ধুয়ে এই মাস্ক ব্যবহার করুন ডীপ ক্লিজিং হিসেবে। ত্বকে লাগাবার ১০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ত্বকের আদ্রতার জন্য ময়শ্চারজার লাগিয়ে নিন।

ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে সাধারনত ত্বকের উপরিভাগে যে মরা কোষ থাকে তা উঠানো সমস্যা। ফলে আপনার ত্বক কোনভাবেই সুন্দর মশৃণ উজ্ঝল হয়ে উঠতে পারে না। নিয়মিত অ্যাক্টিভেটেট চারকোল ব্যবহারে সেই হারানো উজ্জলতা ফিরে পেতে পারেন। অ্যাক্টিভেটেট চারকোলের একটু খসখসে ভাব ফেসিয়াল ত্বকের মরা ত্বক সরিয়ে দেয়। অথাৎ এটি ত্বকে জন্য exfoliating এর কাজ করে।

আপনি বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন এই অনন্য exfoliating স্ক্রাব। যেভাবে তৈরী করবেন এই স্ক্রাব- এক টেবিল চামচ অ্যাক্টিভেটেট চারকোল গুড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ স্কিন নারিশিং নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন। তারপর ত্বকে এক মিনিট ধরে হালকা করে মাসাজ করুন। মাসাজের সময়ে লক্ষ্য রাখবেন যেন ত্বকে বেশি চাপ না পড়ে ক্ষতি হয়। ত্বক যদি তৈলাক্ত ও মোটা হয় তাহলে সপ্তাহে দুইবার এবং ত্বক পাতলা হলে সপ্তাহে একবার এই স্ক্রাব যথেষ্ট। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে মেনে চলুন আপনার রূপ রুটিন।

খোলা লোমকূপ বন্ধ করতে লোমকূপ খোলা থাকলে ত্বকে ব্রুন বেশি দেখা দেয়। মরা কোষ, তেল ময়লা এই লোমকূপ বা পোরসে আটকে নানা ধরনের সমস্যা তৈরী করে। খুব সাধারনভাবে এই সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পাবেন একটা মাস্ক ব্যবহার করে- পরিশোধিত অ্যাক্টিভেটেট চারকোল ও আপেল সাইডার ভিনেগার দিয়ে তৈরী মাস্ক পোরস গুলো পরিস্কার করে দেয়। মাস্কটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>