ওজন কমাতে চান? সকালের নাশতায় ডিম খাওয়ার ৫টি কৌশল জেনে নিন

Share This
Tags
সকালের নাশতায় ডিম খেলে যে দ্রুত ওজন কমে, এই কথা এখন সর্বজনবিদিত। কেবল যে ফিটনেস এক্সপার্টরা এমন বলেন, সেটা নয়। বিজ্ঞানীরা রীতিমত গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিদিন সকালের নাশতায় সবজি বা ফলের সাথে একটি ডিম সম্পূর্ণ আহারের পুষ্টি দেয় শরীরকে। মেটাবলিজম বাড়াতেও সহায়ক। সকালে একটি ডিম অনেকটা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি যোগায়। ফলে সারাদিনের অতিরিক্ত ক্ষুধা ও অধিক ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলার বাজে প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই যারা ডায়েট করছেন, সকালের নাশতায় একটি ডিম বা ডিমের সাদা অংশ অবশ্যই রাখবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ওজন কমানোর জন্য ডিমটা খাবেন কীভাবে? ডুবো তেলে পোচ করে ফেললেন কিংবা মাখন দিয়ে ঝাল ঝাল অমলেট করে নিলেই কি হবে? না, একদম না! যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে ডিম খেতে হবে সঠিকভাবে। ডিমে যদি বাড়তি তেল-ঘি যোগ করেন, তাহলে ওজন কমার চাইতে বরং বাড়বে বেশি। তা ছাড়া পুষ্টি উপাদান ঠিক রাখার ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে। আজ জানিয়ে দিচ্ছি কীভাবে ডিম খেলে তা ওজন কমাতে সহায়ক।
পানি পোচ
ডিম পোচ করে খেতে কোনও অসুবিধা নেই ঠিকই, কিন্তু সেটায় তেল ব্যবহার করা যাবে না একটুও। তেলের বদলে পানিতে ডিম পোচ করে নিন। একটি পাত্রে পানি দিন, পানি ফুটে উঠলে আঁচ একটু কমিয়ে দিন। এরপর একটি চামচ দিয়ে পানিটা নেড়ে দিন, যেন পানির মাঝে একটু ঘূর্ণি ওঠে। আস্তে করে সেই ঘূর্ণির মাঝে ডিম ছেড়ে দিন। কিছুক্ষণের মাঝেই দেখবেন ডিমের বাইরের অংশটা সাদা হয়ে গেছে। ২/৩ মিনিট পর উঠিয়ে হালকা গোলমরিচ ও লবণ ছিটিয়ে নিন। কুসুম যত বেশি শক্ত খেতে চাইবেন, তত বেশি সময় পানিতে রাখবেন।
নরম সেদ্ধ
ডিমকে যদি খুব বেশি সেদ্ধ করা হয়, তাহলে এর পুষ্টি উপাদান কমতে থাকে। তাই সবটুকু পুষ্টি পেতে ডিম ‘সফট বয়েল’ খাওয়াই উত্তম। গরম পানিতে দেয়ার পর তিন থেকে সাত মিনিট পর্যন্ত ডিম সেদ্ধ করতে পারেন, ঢাকনা দিয়ে। এর চাইতে বেশি সেদ্ধ করা উচিৎ নয়।
বেক করা ডিম
ননস্টিক কাপ কেকের প্যান নিন। এতে প্রতি খোপে একটি করে ডিম দিন। সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে দিন। ওভেনে ৪/৫ মিনিট বেক করে পরিবেশন করুন।
ডিমের স্যুপ
হাঁড়িতে পানি বা চিকেন স্টক ফুটতে দিন। ডিম ফেটে নিয়ে সেই পানিতে আস্তে আস্তে ঢেলে দিন। ভালো করে নাড়ুন। কর্ণ স্যুপের মতন চেহারা হয়ে যাবে। চাইলে সামান্য কর্ণ ফ্লাওয়ার গুলে দিয়ে ঘন করে নিতে পারেন। লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো, সাদা সিরকা, সয়াসস ইত্যাদি যোগ করুন নিজের স্বাদ অনুযায়ী।
তেল ছাড়া অমলেট

ডিম যেভাবে অমলেট খেতে ভালোবাসেন, সেভাবেই কাঁচামরিচ-পেঁয়াজ ও অন্যান্য মশলা দিয়ে ফেটে নিন। এবার একটা ননস্টিক কেক তৈরির প্যানে এই মিশ্রণ ঢেলে ওভেনে বেক করে নিন সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত। চাইলে মাইক্রোওয়েভেও দিতে পারেন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল আপনার তেল ছাড়া অমলেট! এতে চাইলে হরেক রকমের সবজিও যোগ করা যায়।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>