ঘরে থাকা সবজি দিয়েই ৫ রকম বিকেলের নাস্তা

কেবল বাচ্চারা নয়, বড়দেরও যেন সবজি খেতে ভীষণ অনীহা। অন্যদিকে বিকেল বেলা ভাজা-ভুজি সকলের চাই-ই চাই। তাহলে উপায় একটাই, বিকেলের নাস্তার টেবিলে সবজি দিয়ে মজার সব স্ন্যাক্স বানিয়ে পরিবেশন করা। সবজি দিয়ে নুডুলস বা পাকোরা তৈরি করতে সকলেই কম-বেশি জানেন। তাই আজকের আয়োজনে থাকছে সবজির কেক, শাকের পুরি বা নাগেটের মত একদম নতুন কিছু রেসিপি। তৈরিতে সময় লাগে খুব কম, খেতেও ভীষণ মজা।
স্প্রিং রোল
গাজর, পেঁপে, বাঁধাকপি ইত্যাদি ঝুরি করে নিন। বরবটি, পেঁয়াজ পাতা ইত্যাদি মিহি কুচিয়ে নিন। তেলের মাঝে সমস্ত সবজি, কাঁচা মরিচ, রসুন কুচি, সয়াসস, লবণ, কালো গোল মরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভাজা ভাজা করে নিন। চাইলে সামান্য চিকেন কিমা বা চিকেন ফ্লেভার যোগ করতে পারেন। বাজারে স্প্রিং রল শিট কিনতে পাওয়া যায়, ফিলো পেস্ট্রি শিট নামে। সেই শিট দিয়ে ছোট ছোট রোল বানিয়ে ডুব তেলে মুচমুচে করে ভেজে নিন।
সবজির পরোটা/পুরি
স্প্রিং রোলের জন্য তৈরি করা পুরটাই পরোটা বা কিমার পুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যেভাবে কিমা পুরি বা পরোটা তৈরি করা হয়, ঠিক একই ভাবে। পরোটা বা পুরি তৈরির জন্য শাক, লাউ, মুলা ইত্যাদি অনেক রকমের সবজি ব্যবহার করা যায়।
সবজির কাটলেট
আলু, পেঁপে, গাজর, বাঁধাকপি, ফুল কপি, পটল, ঝিঙ্গা, বরবটি ইত্যাদি সবজি সেদ্ধ করে নিন। আলু পুরো সেদ্ধ করে ভর্তা করে নেবেন। অন্যান্য সবজি ডুমো করে কেটে ভাপিয়ে নেবেন। এরপর আলু ভর্তা ও সবজি সেদ্ধ একত্রে মেখে নিন। সাথে দিন লবণ, ধনে পাতা, কাঁচা মরিচ, গোল মরিচ গুঁড়ো, সয়াসস, সামান্য জিরার ফাঁকি। সব মেখে নিয়ে কাটলেট আকারে গড়ে নিন। ময়দায় গড়িয়ে, ডিমে ডুবিয়ে, বিস্কিটের গুঁড়ো মেখে ডুবো তেলে ভেজে নিন।
সবজি নাগেট
সবজি কাটলেটের মতই সবজি ও আলু মেখে নিন। জিরা বাদে বাকি সব মশলা দিন, একটু চিলি সস, চিকেন ফ্লেভার ও দুধে ভেজানো পাউরুটি যোগ করুন। সব কিছু মেখে ছোট ছোট নাগেট আকারে গড়ে নিন। কড়াইতে পানি ফুটিয়ে নাগেটগুলো ছেড়ে দিন। সেদ্ধ করে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। ডিমে ডুবিয়ে বিস্কিটের গুঁড়ো মেখে ডুবো তেলে ভেজে নিন।
সবজির ঝাল প্যানকেক
চিনি বাদ দিয়ে বাকি সব উপকরণ, অর্থাৎ ডিম-ময়দা-দুধ-বেকিং পাউডার দিয়ে প্যানকেক ব্যাটার তিরি করে নিন। সাথে যোগ করুন লবণ, গোল মরিচ গুঁড়ো, গারলিক পাউডার, চিকেন ফ্লেভার ও চিকন ঝুরি করা গাজর- বাঁধাকপি- পেঁয়াজ পাতা ইত্যাদি। এরপর প্যানে মাখন দিয়ে মাঝারি আঁচে প্যানকেক আকারে ভেজে নিন। সবজি সুস্বাদু, যদি রান্না করা হয় সঠিক রেসিপিতে। চেষ্টা করে দেখুন এই ভিন্নধর্মী রেসিপিগুলো, নিশ্চয়ই ভালো লাগবে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>