ছড়াচ্ছে লাসা জ্বর, ৭৮ জনের মৃত্যু !

Share This
Tags

লাসা জ্বরের ‘নজিরবিহীন’ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে । ইঁদুর-বাহিত এই রোগে ইতোমধ্যে নাইজেরিয়ায় ৭৮ জন মানুষ মারা গেছেন, সংক্রমিত হয়েছেন আরও ৩৫৩ জন।

৬ মার্চ, নাইজেরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (এনসিডিসি) বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ধারানা করা হচ্ছে আরও ৭৬৬ জনের মাঝে এই রোগের সংক্রমণ হয়েছে। এ ছাড়া এই রোগে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আরও ৩ হাজার ১২৬ জন এসেছেন বলে জানা গেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লাসা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন রোগী।

আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি মেডিসিন (এনএলএম) এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাসের মতো লাসা ভাইরাস হেমারেজিক ভাইরাল জ্বর তৈরি করে। দুই ধরনের ভাইরাসের কারণে এই ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। ভাইরাস দুইটির নাম- মারবার্গ ভাইরাস এবং ইয়েলো ফিভার ভাইরাস।

ডব্লিউএইচও জানায়, লাসা জ্বরের লক্ষণ খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে থাকে। প্রথমে জ্বর, দুর্বলতা এবং অস্বস্তির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়। এই সব উপসর্গের কয়েকদিন পর থেকে গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, পেশী ব্যথা, বুকে ব্যথা, বিবমিষা এবং বমির মতো উপসর্গগুলো দেখা দেয়। অবস্থা অনেক গুরুতর আকার ধারণ করলে মুখ ফুলে যাওয়াসহ মুখ, নাক, যোনি বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট থেকে রক্তপাত ও নিম্ন রক্তচাপের মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, রোগের প্রকোপ গুরুতর হলে ১৪ দিনের মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটে। লাসা জ্বরটি ২৮-৪০ সপ্তাহের গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় লাসা জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মাতৃ মৃত্যু অথবা গর্ভপাত ঘটে। পশ্চিম আফ্রিকা, বিশেষ করে নাইজেরিয়ায় এই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি। নাইজেরিয়ার লাসা শহরে এই ভাইরাসটি আবিষ্কার হয় ১৯৬৯ সালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, মাল্টিম্যামেট ইঁদুরের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। ইঁদুরটির ছোঁয়া খাবার বা বস্তুর সংস্পর্শে এলে, বা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে নিঃসৃত তরলের মাধ্যমে এই রোগ মানুষে ছড়াতে পারে।

লাসা জ্বরে আক্রান্ত মানুষের মাঝে এক শতাংশের জন্য তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই লাসা জ্বরের প্রকোপে ২৩.৮% শতাংশ আক্রান্ত মানুষ মারা গেছে ইতোমধ্যেই। স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে ষোলজন সংক্রমিত হয় এবং আট সপ্তাহের মাঝে তাদের চারজন মারা যায়।

এনসিডিসি জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশটির ১৮টি রাজ্যে ছড়িয়ে গেছে লাসা জ্বর। তারা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এবং অ্যালায়েন্স ফর ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল অ্যাকশন এর সাথে এই রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। শুরুর দিকে অনেকেই মনে করেছিলেন রোগটি ম্যালেরিয়া এবং সেই অনুযায়ীই চিকিৎসা করা হয়েছিল, জানান এনসিডিসির পরিচালক ড. চিকওয়ে ইহেকওয়েজু।

সূত্র: BBC

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

ভাত খাওয়ার আগে দয়া করে এটি একবার পড়ে নিন !!

পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবারের যদি লিস্ট বানানো হয়‚ তাহলে ভাত কিন্তু লিস্টের বেশ ওপরের দিকে থাকবে। অনেকেই হয়তো বলবেন ভাত খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ ডায়েটিশিয়ানরাই মনে করেন রোজ সঠিক পরিমাণে ভাত শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ব্রাউন রাইস হোক বা হোয়াইট রাইস‚ ভাতের রয়েছে অনেক গুণ। আসুন, জেনে নিই ভাতের চারটি সেরা গুণের কথা।

সেরা নন অ্যালার্জিক খাবার : ভাত হচ্ছে একেবারেই গ্লুটেন ফ্রি খাবার‚ ফলে ভাতকে সব থেকে ভালো নন অ্যালার্জিক খাবার মানা হয়। অনেকেই গ্লুটেন যুক্ত খাবার সহ্য করতে পারেন না। ফলে বেশ কিছু দরকারী নিউট্রিয়েন্টস শরীরে যায় না। কিন্তু ভাত তা পুষিয়ে দেয়। ভাতে ভিটামিন বি‚ ভিটামিন ডি‚ ফাইবার‚ আয়রন এবং বিভিন্ন মিনারেল আছে যা শরীরের জন্য খুব দরকারি।

হার্টের জন্য ভালো : ব্রান অয়েল যা চালের থেকে তৈরি হয় তা আমাদের হার্টের জন্য খুব ভালো। এই তেলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা হৃদয় সংক্রান্ত ডিজিজ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও নিয়মিত এই তেলের রান্না খেলে ব্যাড কোলেস্টেরলল কমে যায়।

উচ্চ কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার : ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আছে যা শরীরে যা এনার্জি দরকার হয় তার যোগান দেয়। ভাতে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এটা কিন্তু লো ফ্যাট‚ লো সল্ট‚ লো সুগার খাবার।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>