কুসুমের রঙ দেখে চিনে নিন কোন ডিম স্বাস্থ্যকর !

ডিম তো আমরা কমবেশি সকলেই খাই। কিন্তু এই ডিম খেতে গিয়ে কি একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আপনার চোখে পড়েছে কখনো? অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে আজকাল কুসুমের রঙ খুব হালকা হয়। গাঢ় কমলা ডিমের কুসুম বলতে গেলে দেখাই যায় না, বরং কুসুম হয় হলুদ বা হালকা হলুদ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই হালকা হলদু ডিম কি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? বা যে মুরগিগুলো এই ডিম পেড়েছে তাদের স্বাস্থ্য কেমন?

উত্তরগুলো জানলে অবাক হবেন নিঃসন্দেহে। এটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে ডিমের কুসুমের রঙ দেখেই বলে দেওয়া যায় মুরগির স্বাস্থ্য কেমন আর কী ধরনের পরিবেশে সেই মুরগিকে পালন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভালো খাবার খেয়ে বড় হওয়া মুরগি নিঃসন্দেহে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ডিম পাড়ে। অন্যদিকে ফ্যাকাশে কুসুমের ডিম হয় ঠিক তার বিপরীত। আজ জানিয়ে দিচ্ছি ডিমের কোন রঙের কুসুম মুরগির ব্যাপারে কী তথ্য প্রকাশ করে।

কুসুমের রঙ গাঢ় কমলা
এটার অর্থ মুরগিগুলোকে স্বাধীন পরিবেশে প্রাকৃতিক খাদ্যের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। তারা প্রচুর সূর্যের আলো উপভোগ করেছে, ভালো খাবার খেয়েছে এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ উন্নতমানের ডিম পেরেছে। আমাদের গ্রামাঞ্চলে ঘরে পালন করা মুরগির ডিমের কুসুম এমনটা রঙ হয়ে থাকে, কুসুম হয় একদম ঘন ও সুস্বাদু। ১০০ ভাগ অরগানিক ডিম এগুলো।

কুসুমের রঙ গাঢ় হলুদ
এটার অর্থ মুরগিটি নিঃসন্দেহে খামারে লালিত পালিত। অরগানিক মুরগির মতন স্বাধীন জীবন বা প্রচুর সূর্যের আলো তারা উপভোগ করতে না পারলেও অমানবিক পরিবেশে লালিত পালিত হয়নি। প্রাকৃতিক খাদ্য না হলেও খামারের ফিড খেয়ে বড় হয়েছে। গাঢ় হলুদ রঙের ডিমও একদম খারাপ নয়। অরগানিক ডিমের মতো না হলেও যথেষ্ট ভালো এই ফার্মের ডিম। কুসুমও বেশ ঘন ও সুস্বাদু।

কুসুমের রঙ হালকা হলুদ বা ফ্যাকাসে
এটার অর্থ এইসব মুরগিদের জীবন কেটেছে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায়, গাদাগাদি করে খাঁচার মাঝে বন্দী হয়ে। উন্মুক্ত সূর্যের আলো দূরে থাক, কখনো খাঁচার মাঝেও হেঁটে দেখার সুযোগ হয়নি। হ্যাঁ, অনেক ফার্মে এভাবেই মুরগি লালন-পালন করা হয়। একটি খাঁচার মাঝে সার বাঁধা মুরগি, যাদের হাঁটাচলা করার কোনো সুযোগ নেই। এদের বড় করা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, অস্বাস্থ্যকর ট্যানারির বর্জ্য খাইয়ে। এমন অবস্থায় বড় করা মুরগির কুসুমের রঙ হয় হালকা হলুদ বা ফ্যাকাসে, কুসুমের ঘনত্ব হয় পাতল। এসব মুরগির ডিমে বা মাংসে পুষ্টির চাইতে ক্ষতিকর পদার্থই বেশি থাকে। এদেরকে প্রচুর অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়। নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এইসব ডিম থেকে দূরে থাকাই ভালো।

এখন আপনার বিবেচনা, খাওয়ার জন্য কোন ডিমটি বেছে নেবেন।

তথ্য সূত্র : মিট মনস্টার অরগানিক ফুড হাউস

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>