হঠাৎ করেই ঘাড় ব্যাথা? কিভাবে মুক্তি পাবেন জেনে নিন !

কাজের অত্যাধিক চাপ ও টেনশনে বিপর্যস্ত আপনি। ডাক্তার, ওষুধ কিংবা ঝাড়ফুঁক কোনও কিছুতেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। চাহিদা বাড়ছে যোগের। কারণ এই যোগই আপনাকে শরীর, স্বাস্থ্য কিংবা শারীরিক ক্লান্তি থেকে রেহাই দেবে এবং আপনাকে সুস্থ রাখবে। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে নিশ্চয়ই ঘাড় ব্যাথার সমস্যায় ভোগেন আপনি। কিন্তু কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন? ছয়টি খুব সহজ যোগ ব্যয়াম করলেই এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রায় পাঁচ হাজার বছরের এই পুরোনো যোগা পদ্ধতিকতে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। পদ্ধতিগুলো-

বালাসানা অথবা চাইল্ড পোজ- আপনার গোঁড়ালির উপর ভর দিয়ে বসুন। এরপর সামনের দিকে একটু ঝুঁকে বসুন। তারপর আসতে আসতে আপনার কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে আপনার বুক উরুতে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। সেই পজিশনেই কিছুক্ষণ থাকুন। এরপর আসতে আসতে সোজা হয়ে উঠে বসুন।

এতে আপনার নার্ভের সিস্টেম কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হবে। ঘাড়েরও বিশ্রাম হবে। তবে আপনার পিঠে কিংবা হাঁটুতে যদি কোনও সমস্যা থাকে তাহলে ভুলেও এই যোগ করবেন না।

নটরাজসনা বা রিসাইকেলিং ট্যুইস্ট- মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে দুদিকে আপনার হাত প্রসারিত করুন। হাঁটু ভাঁজ করে আপনার গোঁড়ালি পশ্চাৎদেশের সঙ্গে স্পর্শ করুন। এরপর আপনার বাঁদিকের হাঁটুটা বাঁ দিকে সরান যতক্ষণ অবধি মাটিতে স্পর্শ করাতে পারবেন। অপরদিকে আপনার মাথা ডানদিকে সরাতে থাকুন। সেই সময় ডান হাতের তালুর দিকে তাকিয়ে থাকুন। সেই সময় কাঁধ অবশ্যই মাটিতে ছুঁয়ে থাকবে। চিন্তামুক্ত হতে এই যোগা অবশ্যই করুন। গর্ভবতী মহিলারা অবশ্যই এই যোগ এড়িয়ে চলুন।

মারজারিয়াসনা বা ক্যাট স্ট্রেচ- টেবিলের মতন করে মাটিতে আপনার হাত এবং পা ছড়িয়ে বসুন চারদিকে। খেয়াল রাখুন, আপনার দুটি পা এবং হাতের মধ্যে যাতে দূরত্ব থাকে। এরপর আসতে প্রশ্বাস নিতে নিতে পিছনের দিকে মাথা হেলাতে থাকুন এবং আপনার পেট মাটিতে স্পর্শ করান। এই অবস্থায় একটা লম্বা শ্বাস নিন। এরপর মাথাটা সামনের দিকে নিয়ে মাটি থেকে পেটটা তুলুন। আবার সেই আগের পজিশনে ফিরে আসুন।

পরপর পাঁচ ছয়বার এই যোগ করলে আপনি সহজেই স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাবেন। কবজি এবং কাঁধ থেকে চাপ মুক্ত হবে। রক্ত সঞ্চালনও আরও উন্নত হবে। তবে পিঠে কিংবা ঘাড়ে যদি কোনও সমস্যা থাকে তবে এই যোগ করবেন না। এই সমস্ত যোগগুলো অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই করবেন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

ভাত খাওয়ার আগে দয়া করে এটি একবার পড়ে নিন !!

পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবারের যদি লিস্ট বানানো হয়‚ তাহলে ভাত কিন্তু লিস্টের বেশ ওপরের দিকে থাকবে। অনেকেই হয়তো বলবেন ভাত খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ ডায়েটিশিয়ানরাই মনে করেন রোজ সঠিক পরিমাণে ভাত শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ব্রাউন রাইস হোক বা হোয়াইট রাইস‚ ভাতের রয়েছে অনেক গুণ। আসুন, জেনে নিই ভাতের চারটি সেরা গুণের কথা।

সেরা নন অ্যালার্জিক খাবার : ভাত হচ্ছে একেবারেই গ্লুটেন ফ্রি খাবার‚ ফলে ভাতকে সব থেকে ভালো নন অ্যালার্জিক খাবার মানা হয়। অনেকেই গ্লুটেন যুক্ত খাবার সহ্য করতে পারেন না। ফলে বেশ কিছু দরকারী নিউট্রিয়েন্টস শরীরে যায় না। কিন্তু ভাত তা পুষিয়ে দেয়। ভাতে ভিটামিন বি‚ ভিটামিন ডি‚ ফাইবার‚ আয়রন এবং বিভিন্ন মিনারেল আছে যা শরীরের জন্য খুব দরকারি।

হার্টের জন্য ভালো : ব্রান অয়েল যা চালের থেকে তৈরি হয় তা আমাদের হার্টের জন্য খুব ভালো। এই তেলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা হৃদয় সংক্রান্ত ডিজিজ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও নিয়মিত এই তেলের রান্না খেলে ব্যাড কোলেস্টেরলল কমে যায়।

উচ্চ কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার : ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আছে যা শরীরে যা এনার্জি দরকার হয় তার যোগান দেয়। ভাতে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এটা কিন্তু লো ফ্যাট‚ লো সল্ট‚ লো সুগার খাবার।

আইডিয়াল বডি ওয়েট গেইন করতে সাহায্য করে : ভাত খেলে মোটা হয়ে যাবেন এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ব্যালেন্সড ডায়েটে খেতে চাইলে রোজ অল্প পরিমাণে ভাত খেতে হবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>