সেই ঔষধের দোকানদার ঘনিষ্ঠ হবার জন্য আমাকে জোর করছে !

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের নিয়মিত আয়োজন “প্রিয় সম্পর্ক”। আর সম্পর্ক ভিত্তিক সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে পরামর্শ দিচ্ছেন গল্পকার রুমানা বৈশাখী, এডিটর ইন চার্জ (লাইফ ও সায়েন্স)। আপনি চাইলে নিজের এমনই কোন একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যার কথা লিখে জানাতে পারেন আমাদের। আমরা প্রতিদিন চেষ্টা করবো বাছাইকৃত কিছু সমস্যার সমাধানে কাঙ্ক্ষিত পরামর্শটি দেবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। আমার বাবা বিয়ে করে বাসায় নতুন বউ আনে, এতে আমার মা না খেয়ে খেয়ে অনেক বড় অসুখ বাঁধিয়ে ফেলে। বাবা আলাদা বাসায় সৎমা কে নিয়ে থাকে আর ভাইয়ের কাছে আমাদের ফেলে রাখে। ভাইও আমাদের দেখতে পারতোনা। লেখাপড়ায় অনেক বাধা দেয়। পড়তে বসলে অস্বাভাবিক মারতো আর ঘরের কাজ করতে বলতো। ২০১০-এ তখন আমি কলেজে পড়তাম আর তখন আমি ব্যাকুল হয়ে চাকুরী খুঁজতাম। ভাবতাম মা, বোনের জন্য কিছু করতে হবে কিন্তু ছোট বয়সে কিছু করতে পারতাম না। সে সময় আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বাসার পাশের এক ঔষধ দোকানদার। তিনি বিনা টাকায় মায়ের ঔষধ দিতেন। একসময় তার আর্থিক সহায়তায় আমি আবার লেখাপড়া শুরু করি। সে বলে সে আমাকে ভালোবাসে। সে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে যাবে বলেছিলো তাই আমি রাজী হয়ে গিয়েছিলাম। উল্লেখ্য, সে বিবাহিত কিন্তু এই বিয়েতে তার মত ছিলোনা। তার মা বাবা জোর করে তাকে বিয়ে করায়। সে এখন আমাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু, আমি বলেছি মুসলিম হয়ে আমাকে বিয়ে করতে সে তা করছেনা। বলে এতে তার সমস্যা হবে। সে কেবলমাত্র দোকানের উপর নির্ভরশীল তাই এখনও বিয়ে করতে পারছেনা কিন্তু আমার সাথে থাকতে চায়। উল্লেখ্য, সে আমার থেকে ৯ বছরের বড়। এখন, সে কি আসলেই ধর্ম ত্যাগ করে আমাকে বিয়ে করবে? আর স্ত্রী থাকার পরও আমাকে বিয়ে করলে কোন সমস্যা হবে কি হবেনা? এখন আমার কি করা উচিত? আমার সম্পুর্ন ব্যায়ভার সে বহন করে তাই তাকে উপেক্ষাও করতে পারছিনা। কিন্তু ধর্ম বিরোধী কোন কাজও করতে চাচ্ছিনা। আমি সমাজে আর দশটা মেয়ের মত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। দয়া করে একটা সমাধান দিবেন।”

পরামর্শ:

আপু, খুব খারাপ লাগলো তোমার চিঠি পেয়ে। জীবনের চড়াই উৎরাই মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়! তোমার মায়ের জন্য ঔষধ দিয়ে বা তোমাকে লেখাপড়া করিয়ে সেই ভদ্রলোক অবশ্যই ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই কাজের পেছনে তার উদ্দেশ্যটা আসলে ভিন্ন কিছু ছিল। তিনি আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে তোমাকে এক প্রকার কিনে নিতে চাইছেন বলেই মনে হচ্ছে আমার। বিয়ে মতে হোক বা অমতে, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকটি মেয়ের সাথে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। প্রথমত, আমার মনে হচ্ছে না লোকটি ধর্ম ত্যাগ করে তোমাকে বিয়ে করবে। দ্বিতীয়ত, আমি যতদূর জানি হিন্দু ধর্মে একজন স্ত্রী রেখে আরেকটি বিয়েও করা যায় না। তাই তিনি তোমাকে বিয়ে করবেন এই আশা তুমি বাদ দাও আর ভুলেও শারীরিক সম্পর্কে জড়াবে না। কোন পরিস্থিতিতেই না। তুমি বিয়ে ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক করবে না, এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে লোকটি এক পর্যায়ে সরে যেতে বাধ্য হবে। কারণ বিয়ে করা সম্ভব না তার পক্ষে। প্লাস তুমি বলবে তুমি লুকিয়ে বিয়ে চাও না। পরিবার ও সমাজের স্বীকৃতি পেয়ে বিয়ে করতে চাও, কারো স্ত্রী ইসাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাও। আর সবচাইতে জরুরী কথা, লোকটির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নেয়া যেভাবেই হোক বন্ধ করো। অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়, একদম ছোট নও তুমি। চাইলে ছোট খাট পার্ট টাইম জব পেয়েই যাবে। আর কিছু না হোক, টিউশনি করো। নিজের সম্মান বিকিয়ে দিকে আর্থিক সহায়তা নেয়ার তো কোন মানে নেই। আর লোকটিকে জানিয়ে রাখ যে তার সমস্ত আর্থিক সহায়তা তুমি একটু একটু করে শোধ করে দিবে। যতদিন লোকটার কাছে ঋণী থাকবে, ততদিন এই সম্পর্কের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবে না আপু।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>