Published On: Sun, Mar 11th, 2018

দিনে এক কাপ চা দূরে রাখবে কিছু ভয়ঙ্কর রোগ থেকে !

চা নিয়ে কত রকম কথা রয়েছে লোকমুখে, শরীর চাঙ্গা করতেও জুড়ি নেই এ পানীয়টির। তবে দিনে মাত্র এক কাপ চা খেলেই দূরে থাকবে ভয়ঙ্কর রোগ এমন তথ্য জানালেন গবেষকরা। সিঙ্গাপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের গবেষকদের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, প্রতিদিন এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাসই ডিমেনশিয়া নামক একটি ভয়ঙ্কর রোগের বিরুদ্ধে  প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মস্তিষ্ককে অনেকখানি সবল করে তুলবে।

প্রশ্ন হলো ডিমনেশিয়া আবার কি? ডিমনেশিয়া হচ্ছে রোগটির ডাক্তারি পরিভাষা। যেটাকে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা ও কাজকর্মে মানসিক দক্ষতার অভাব বুঝাতেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন-বয়স হলে অনেকেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভোগেন। অনেক সময়ে ভুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গেই যুক্ত হয় দৈনন্দিন কাজকর্ম করার উপযোগী মানসিক দক্ষতার অভাবও। ডাক্তারি পরিভাষায় এই রোগকেই মূলত বলা হয় ডিমেনশিয়া। উপযুক্ত বয়সের আগেও অনেকে এই সমস্যার কবলে পড়েন। কিন্তু জানেন কি, এই বিশ্রী রোগকে প্রতিরোধ করার ওষুধ রয়েছে আমাদের বাড়িতেই? ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের গবেষকদের একটি সমীক্ষা তথা গবেষণা জানাচ্ছে, রোজ এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাসই ডিমেনশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপনার মস্তিস্ককে অনেকখানি সবল করে তুলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৯৫৭ জন চিনা নাগরিককে নিয়ে এই সমীক্ষা চালান, যাঁদের প্রত্যেকেরই বয়স ছিল ৫৫-এর বেশি। ওই সমীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে, নিয়মিত চা খাওয়ার অভ্যাস বয়স্কদের মধ্যে জ্ঞানমূলক (কগনিটিভ) কাজকর্ম করার মস্তিস্কজনিত অক্ষমতার সম্ভাবনাকে ৫০ শতাংশ হ্রাস করে। এমনকি পুরুষানুক্রামিক ভাবে অ্যালজাইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যাঁদের বেশি, নিয়মিত চা পানের অভ্যাস তাঁদের মধ্যেও এই রোগের সম্ভাবনাকে ৮৬ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

কিন্তু ভারতীয় ও চীনাদের তো প্রায় প্রত্যেকেই প্রতি দিন চা পান করেন। তা হলে তাঁদের মধ্যে বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশের সমস্যা দেখা দেয় কেন? গবেষকরা বলছেন, আসলে তাঁরা যে চান পান করেন, তার অধিকাংশই পাতা চা নয়। চা-এর গুঁড়ো থেকে চা তৈরি করলে চা-এর এই উপকারিতা পাওয়া যাবে না। কেবলমাত্র পাতা চা-ই স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ডিমেনশিয়ার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে কোনও বিশেষ ধরনের চা পান করতে হবে কি? গবেষকরা জানাচ্ছেন, না, তা নয়। গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি কিংবা উলং টি— যে কোনও ধরনের পাতা চা খেলেই ডিমেনশিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ গড়ে তোলা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফেং লেই তাঁদের গবেষণা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিমেনশিয়াকে রোধ করার এক প্রাকৃতিক উপায় হল চা পান। বেশি নয়, দিনে মাত্র এক কাপ চা পান করলেই ডিমেনশিয়ার কবল থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার সম্ভাবনা অনেকখানি বাড়বে বলে দাবি করছেন লেই।’

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>