নারকেল তেলের সাহায্যে বাড়ান ত্বকের সৌন্দর্য ! জেনে নিন পদ্ধতি !

একটা সময় ছিল যখন দিদা-ঠাকুমারা প্রতিদিন নারকেল তেল দিয়ে মাসাজ করতেন চুল। মুখেও লাগাতেই একই জিনিস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের পরিচর্যাতে এসেছে পরিবর্তন। উপকারি নারকেল তেলের জায়গা নিয়েছে নানা ক্রিম এবং লোশন। ফলে স্কিনের সৈন্দর্য কতটা বাড়ছে জানা নেই, কিন্তু একাধিক গবেষণা বলছে এত মাত্রায় প্রসাধনি ব্যবহারের কারণে ত্বকের বারোটা বেজে যাচ্ছে। তাই অপরূপ সুন্দরি হয়ে ওঠার পাশাপাশি যদি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে চান, তাহলে আজ থেকেই নারকেল তেলের ব্যবহার শুরু করুন। দেখবেন চোখে পরার মতো উপকার মিলবে। নাকতেল তেলে উপস্থিত উপকারি স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ল্যারিক অ্যাসিড নানাভাবে শরীরের যেমন উপকারে লাগে, তেমনি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই উপাদানগুলি ছাড়াও এই প্রকৃতিক উপাদানে আরও অনেক ধরনের উপকারি উপাদান থাকে। যেমন ক্য়ালরি, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভৃতি। এখন প্রশ্ন হল এই তেলটিকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়ায়: সারাদিন এসিতে বসে থাকার কারণে ঠোঁটের হাল বেহাল হতে সময় লাগে না। এমন অবস্থায় নারকেল তেলের ব্যবহার শুধু ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াবে না। সেই সঙ্গে আদ্রতার ঘাটতি দূর করে বারে বারে ঠোঁট ফেঁটে যাওয়ার মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। প্রসঙ্গত, একটি ছোট পাত্রে নারকেল নিয়ে সারাদিন সঙ্গে রাখুন। কিছু সময় অন্তর অন্তর ঠোঁটে লাগান। এমনটা করলে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে চুলের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার মধ্যে দিয়ে চুল পড়া কমাতে, চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং সার্বিক ভাবে চুলের গ্রোথের উন্নতিতে নারকেল তেলের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। তাই পরিবাশ দূষণ এবং নানা ধরনের কেমিকালের হাত থেকে চুলকে যদি বাঁচাতে চান, তাহলে আজ থেকেই নারকেল তেল লাগানো শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বাঁচায়: হাতের কাছে সানস্ক্রিন নেই? ডোন্ট ওয়ারি! বাথরুমে নারকেল তেল আছে তো। অল্প পরিমাণে নিয়ে ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করুন। এমনটা করলে সূর্যের অতি বেগুণি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচানো সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে স্কিনের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাও ফিরে আসবে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক সুন্দর এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে সময় লাগে না। এবার বুঝেছন তো বয়স্করা কেন আজও চুল এবং ত্বকের পরিচর্যায় নারকেল তেলের কোনও বিকল্প খুঁজে পাননি।

ডার্ক সার্কেল কমায়: মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম, রাত জেগে কাজ করা এবং আরও নানা কারণে আজকের ডেটে সিংহভাগ মহিলারই চোখের তলায় কালি পরার মতে ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। তাই ডার্ক সার্কেলের কারণে যদি আপনারও সৌন্দর্য কমতে থাকে, তাহলে আজ থেকেই চোখের তলায় নারকেল তেল লাগাতে শুরু করুন। দেখবেন কালো ভাব কমে যেতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে অল্প করে নারকেল তেল নিয়ে চোখের তলায় লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এমনটা নিয়মিত করলে ডার্ক সার্কেল তো কমবেই। সেই সঙ্গে সার্বিক সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

মেকআপ রিমুভার হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন: সৌন্দর্য বাড়াতে কম-বেশি সকলেই মেকআপ করে থাকেন। চাইলে আপনিও করতে পারেন। কিন্তু সিংহভাগ মহিলা যে ভুল কাজটা এক্ষেত্রে করে থাকেন, সেটা যদি আপনিও করেণ, তাহলে কিন্তু বিপদ! কী ভুল? রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে মেকআপ তুলতে অনেকেই ভুলে যান। ফলে কেমিকালের প্রভাবে ত্বক খারাপ হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে মেকআপ তোলার কাজে যদি নারকেল তেলকে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তো কমেই। সেই সঙ্গে স্কিন টোনেরও উন্নতি ঘটে। এক্ষেত্রে মেকআপ তুলতে এক চামচ মতো নারকেল তেল নিয়ে ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করুন। কয়েক মিনিট করার পর হালকা গরম জল দিয়ে ভাল করে মুখটা ধুয়ে নিন।

ত্বকের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে: নারকেল তেলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপাটিজ, যা নানাভাবে ত্বকের অন্দরে প্রবেশ করে জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় কমে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করতে হবে। কয়েক মিনিট এমনটা করার পর ক্লিন্সার দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৭. মৃত কোষের স্থর সরিয়ে ফেলে: অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে গরম করে নিন। তারপর তাতে পরিমাণ মতো নুন ফেলে ভাল করে মিশিয়ে নেওয়ার পর মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করুন। এমনটা করলে দেখবেন ত্বকের উপরিঅংশে জমতে থাকা মৃত কোষের স্তর সরে যাবে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং সুন্দর হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>