লিভার ও হার্ট সুরক্ষায় খান কদবেল

মৌসুমী দেশি ফল কদবেলে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। টক স্বাদের এ ফল রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। গুড় বা মিছরির সঙ্গে কদবেল মিশিয়ে খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে এবং রক্তস্বল্পতা দূর হয়।

এছাড়াও কদবেলে রয়েছে ট্যানিন নামক উপাদান, যা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। হজম সমস্যায় তাই হরহামেশায় ওষুধ না খেয়ে কদবেল খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসাও হবে, সেই সঙ্গে বাঁচবে খরচ। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়।

যেভাবে খাবেন কদবেল: কদবেল ভেঙে বা কদবেলের বোটার পাশে ছিদ্র করে পরিমিত বিট লবন ও শুকনা মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। এরপর চামচ বা বাঁশের চিকন কাঠি দিয়ে এসব মিশিয়ে নিন। এতে টক-ঝাল একাকার হয়ে জিভে জল আনা ভিন্নরকম ফ্লেভার আসবে। তারপর আরাম করে খাওয়া শুরু করেন।

পুষ্টিগুণ: পুষ্টি বিচার করলে কদবেলের জুড়িমেলা ভার। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, ১০০ গ্রাম কদবেলে রয়েছে ২.২ গ্রাম মিনারেল, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ০.৮০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্রাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আমলকি, আনারসের চেয়েও বেশি উপকারী কদবেল।

যেসব রোগ নিরাময়ে কাজ করে কদবেল: বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে, কদবেল কিডনি সুরক্ষিত রাখে। লিভার ও হার্টের সুরক্ষায় যথেষ্ট উপকারী। কদবেলের ট্যানিন দীর্ঘদিনের ডায়েরিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কলেরা ও পাইলসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে এটি। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশায় উপকার পাওয়া যায়। পেপটিক আলসারে এই ফল ভালো কাজ করে। রয়েছে ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকার। এছাড়া রক্ত পরিষ্কার, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর ও শরীরের শক্তি বাড়ায় কদবেল। কদবেল খেলে সর্দি-কাশিতে স্বস্তি পাওয়া যায়। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, স্নায়ুর শক্তি বাড়ায়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্তন ও জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধ এবং নারীদের হরমোনের অভাব সংক্রান্ত সমস্যা কমায় কদবেল। কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে ব্রণ ও মেছেতার সমস্যা কমে যায়।

রাত জেগে কাজ করলেই মৃত্যু নিশ্চিত! জেনে নিন বিস্তারিত

কেন এমন কথা বলছি তাই ভাবছেন তো? আসলে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে দিনের পর দিন যদি মেয়েরা রাত জেগে কাজ করেন, তাহলে তাদের ব্রেস্ট, স্কিন এবং স্টামাক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ফলে মৃত্যু বিষ জীবনকে গ্রাস করতে একেবারেই সময় নেয় না! কিন্তু রাত জেগে কাজ করার সঙ্গে ক্যান্সারে সম্পর্কে কোথায়?

চীনের সিচুয়ান ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এই মেটা-অ্যানালিসিস অনুসারে দিনের পর দিন রাত জেগে কাজ করলে দেহের অন্দরে কোষের বিভাজন ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে এখানেই শেষ নয়, গবেষকরা দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১১৪,৬২৮ টি ক্যান্সার স্টাডি বিশ্লেষণ করেন জানতে পারেন নাইট শিফট করতে থাকলে স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। আসলে আমাদের শরীরের ভিতরে একটি বায়োলজিকাল ক্লক রয়েছে। এই ঘড়িটি ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত সব কাজের সময় নথিভুক্ত করে থাকে। অর্থাৎ শরীরকে কখন কোন কাজটা করতে হবে, তা মূলত এই বায়োলজিকাল ক্লকই নির্দেশ দিয়ে থাকে। এখন যদি কেউ রাতে ঘুমনোর জায়গায় জেগে থেকে কাজ করা শুরু করেন, তাহলে বায়োলিজকাল ক্লক বুঝে উঠতে পারে না যে এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। ফলে শরীর নিজ নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করা শুরু করে, যে কারণে বিরূপ প্রভাব পরতে শুরু করে শরীরের উপর। আর এমনটা দিনের দিন হওয়ার কারণে প্রথমেই অনিদ্রা রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে আরও সব জটিল রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই হঠাৎ মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

সম্প্রতি বায়োলিজকাল ক্লকের উপর গবেষণা চালিয়ে তিন মার্কিন গবেষক নবেল প্রাইজে ভূষিত হয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে বায়োলজিকাল ক্লককে মন মতো চালালে মারাত্মক বিপদ হয়!

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>