গোসলের আগে ত্বকে তেল মেখে নিন ! কেন জানেন?

Share This
Tags

ত্বকের যত্ন নিতে হয় সারা বছরই। তবে শীতের সময়ে খুব সহজেই ত্বকের ক্ষতি হয় বলে যত্নটাও নিতে হয় বেশী। মুখ ছাড়াও সারা শরীরের ত্বক এ সময়ে হয় পড়ে রুক্ষ। ত্বকের যত্নে কী করতে হবে, তা নিঃসন্দেহে সবচাইতে ভালো জানেন ডার্মাটোলজিস্টরা।

মাউন্ট সিনাই হসপিটালে কর্মরত ডঃ অ্যাঞ্জেলা ল্যাম্ব অ্যাকনি, একজিমা এবং স্কিন ক্যান্সার শনাক্তের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। ‘চিকিৎসা হলো এমন একটি শিল্প যা সততার সাথে অনুশীলন করা উচিৎ,’ জানান তিনি। চলুন জেনে নিই শীতে ত্বকের যত্নে ডঃ ল্যাম্বের কিছু পরামর্শ।

ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখুন

ডঃ ল্যাম্ব জানান, ত্বক হলো সেই সুরক্ষা প্রাচীর যা আমাদের শরীরের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে শুষ্ক এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ত্বক থেকে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই শুষ্কতা এড়িয়ে চলা জন্য তিনি ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। আপনি চাইলে একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তা বন্ধ ঘরে রাখতে পারেন, এতে ঘরের বাতাস আর্দ্র হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি তিনি পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবার পরামর্শ দেন। সাধারণত আপনি যতটা পানি পান করেন, শীতকালে তার চাইতে দুই গ্লাস পানি বেশী পান করার কথা বলেন তিনি।

কোমল প্রসাধনী ব্যবহার করুন

ত্বকের জন্য কোমল কোন সাবান, ফেস ওয়াশ বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করার কথা বলেন ডঃ ল্যাম্ব। এতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাবার ভয় থাকে না। মুখ ও শরীরের ত্বকের জন্য আলাদা আলাদা ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। শুহু তাই নয়, এ সময়ে যদি আপনার ত্বকে ব্রণের উপদ্রব বেড়ে যায় তবে শুধুই পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে দেখতে পারেন।

গরম পানিতে গোসল না করাই ভাল

শীতের সময়ে গরম পানি ছাড়া গোসলের কথা ভাবাই যায় না! কিন্তু তা আপনার ত্বকের জন্য ভালো নয় মোটেই। গরম পানিতে গোসল করার পর খুব দ্রুত ত্বক থেকে এই পানি বাষ্প হয়ে চলে যায়। গোসলের পর খুব দ্রুত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার মাখতে না পারলে রুক্ষ হয়ে ফেটে যায় ত্বক। এই কারণে অনেকেরই ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা যায়। আপনার যদি গরম পানি ছাড়া গোসল করতে ইচ্ছে না করে, তাহলে গোসলের পর দরজা বন্ধ রেখেই শরীর মুছে নিন এবং ময়েশ্চারাইজার মাখার পর বাথরুম থেকে বের হব। এছাড়াও সেরামাইড এবং হায়ালুরনিক এসিড আছে এমন পণ্য ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের যত্নে।

ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

শীতকালে ত্বক সুস্থ রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই। গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতেই হবে, এর পাশাপাশি দিনে আরো একবার করে ময়েশ্চারাইজার মাখার পরামর্শ দেন ডঃ ল্যাম্ব। ক্রিম ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ত্বকে তেল মেখে নিলে তা আর্দ্রতা বেশী সময় ধরে রাখতে সাহায্য করে। গোসলের আগে বডি অয়েল মেখে নেবার পক্ষপাতি তিনি। এক্ষেত্রে তার পছন্দ বিশুদ্ধ নারিকেল তেল। যাদের ত্বকে অ্যাকনির সমস্যা আছে তাদের আরগান অয়েল, টি ট্রি অয়েল, রোজ অয়েল, রোজ হিপ অয়েল- এ ধরণের এসেনশিয়াল অয়েলগুলো তাদের উপকারে আসতে পারে।

তবে শীতে ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে ভুল করেন অনেকেই। বেশিরভাগ মানুষ এ সময়ে লোশন ব্যবহার করেন। কিন্তু লোশন খুব একটা ভারী না হবার কারণে শীতে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে না। এ সময়ে আপনার ব্যবহার করা দরকার ভারী কোন ক্রিম বা বডি বাটার। ভ্যাসেলিনের মত ভারী পণ্য অবশ্য মুখে ব্যবহার করা যাবে না, এগুলো রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়াও সুগন্ধীযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলাই ভাল এ সময়ে।

ভেজা ত্বকে বাইরে যাবেন না

গোসলের পর পরই অনেকে বাইরে বের হয়ে পড়েন। অথবা হাত ধুয়ে, ঘরের কাজ সেরেই বের হয়ে পড়েন। কিন্তু ভেজা ত্বক নিয়ে বাইরে গেলে ত্বক খুব দ্রুত শুষ্ক হয়ে যাবে। ঠোঁট চাটার কারণে যেভাবে ফাটে বেশী, সেই ব্যাপারটা এখানেও প্রযোজ্য। ত্বক ভালোভাবে শুকিয়ে এবং ময়েশ্চারাইজার মেখে তারপরেই বাইরে বের হন।

রোদ পোহালেই দুর হবে যৌনসমস্যা ! পড়ুন তাহলে

পৃথিবীতে যে রোগের ওষুধ হিসেবে মাটির বড়ি বানিয়ে বিক্রি করলেও ক্রেতার অভাব হয় না, সেটা হলো যৌনঅক্ষমতা। এর জন্য টাকা খরচ করতে পিছুপা হয় না কেউ। কিন্তু রোদ পোহালেই বাড়তে পারে পুরুষের কামশক্তি। গবেষকরা তো তাই বলছেন। অস্ট্রিয়ার গ্রাজ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, পুরুষের রক্তে যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন ভিটামিন ডি-র মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়৷ আর ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎস হল সূর্যালোক৷ ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে রক্তে ভিটামিন ডি এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়৷ এছাড়াও ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস হল মাছ এবং মাংস৷ গবেষকেরা জানিয়েছেন, রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ যত বেশি হবে পুরুষের যৌন ক্ষমতা তত বাড়বে৷

গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যালোকের সাহায্যে পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়৷ পুরুষের যৌনতার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন৷ এই হরমোনটিই যৌনতার চরিত্র, শুক্রাণু উৎপাদন ও পুরুষের যৌন চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ তবে গায়ে রোদ লাগানোর ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সকালের মিষ্টি রোদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য্যের আলোতে বাড়তে থাকে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব। এটা ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টিসহ নানা শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>