নিখুঁত ত্বকের জন্য ঘরেই তৈরি করুন নিম সাবান !

বাজারে যে হরেক রকমের নিম সাবান পাওয়া যায়, সেগুলোতে কতটা সত্যিকারের নিম বা নিমের গুনাগুণ থাকে বলুন তো? সত্যি বলতে কি, থাকে না মোটেও। বেশীরভাগ নিম সাবান হচ্ছে খানিকটা সবুজ রঙ ও মনকাড়া ফ্লেভার দিয়ে তৈরি। না তাতে থাকে প্রাকৃতিক গুণ, আর না তাতে কোন উপকার হয় আপনার ত্বকের। তাই এই আসল-নকলের ভিড়ে নিজের জন্য উপকারী খাঁটি পণ্যটি তৈরি করে নিন ঘরেই।
ভাবছেন কীভাবে?
ঘরে সাবান তৈরি কিন্তু খুবই সহজ। এমনকি এতে লাগে না আহামরি কোন উপাদান। আপনার ঘরে থাকা সাধারণ সামগ্রী আর খানিকটা নিম পাতা হলেই তৈরি করে ফেলা সম্ভব দারুণ একখানা নিম সাবান। এই সাবান মুখ সহ সম্পূর্ণ দেহেই ব্যবহার করতে পারবেন। জানেন তো, নিম সাবান ব্রণের সমস্যা ও ফুসকুড়ি দূর করে ত্বককে করে তোলে নিখুঁত ও দাগহীন। শরীরের যে কোন খোস-পাঁচড়ার সমস্যাও দূর করে দেবে এই সাবান। চলুন, জেনে নিই সম্পূর্ণ পদ্ধতি।
যা লাগবে: নিম পাতা এক কাপ/ ২-৩ টেবিল চামচ নিমের রস, নিম এসেনশিয়াল অয়েল কয়েক ফোঁটা (না দিলেও সমস্যা নেই), লেবুর রস কয়েক ফোঁটা (না দিলেও সমস্যা নেই), অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ, সোপ বেজ- আধা কাপ
সোপ বেজ হচ্ছে সাবান তৈরির মৌলিক উপাদান। এটা সব স্থানে পাওয়া না গেলেও বিদেশী পণ্য পাওয়া যায় এমন স্থানে পাওয়া যাবে। এছাড়াও আমাজন.কম সহ অনলাইন স্টোরগুলিতে পাওয়া যাবে। যদি সোপ বেজ খুঁজে না পান, তাহলে গ্লিসারিন বেজড যে কোন সাবান নিলেই হবে। ঘরোয়া সাবান তৈরির জন্য বিদেশী “পিয়ারস” সাবানটি ভালো। একটি সাধারণ পিয়ারস সাবান ব্যবহার করলেই চলবে নিম সাবান তৈরির ক্ষেত্রে।
প্রণালি
-নিম পাতা ভালো করে বেটে নিন কোন পানি ছাড়াই। এরপর নিমের রসটুকুন খুব ভালো করে ছেঁকে নিন। আমাদের কয়েক টেবিল চামচ ঘন নিমের রস হলেই চলবে।
-একটি হাঁড়িতে পানি নিয়ে নিন। এর ওপরে একটি পরিষ্কার কাঁচের বাটি দিয়ে দিন। এটাকে বলে ডাবল ব্রয়লার। যেভাবে আমরা চকলেট গলিয়ে নিন, ঠিক সেভাবেই সাবান গলিয়ে নেব। সোপ বেজ বা সোপ সরাসরি আগুনের তাপে না দিয়ে এভাবে গলিয়ে নিলেই বেশি সুবিধা। কাঁচের বা সিরামিকের বাটি ব্যবহার করুন। স্টিল ও প্লাস্টিকের বাটি এড়িয়ে চলুন।
-সোপ বেজ বা সাবান একটি পরিষ্কার গ্রেটার দিয়ে ভালো করে গ্রেট করে নিন এবং হাঁড়ির ওপরে বসানো বাটিতে দিয়ে দিন। একটি কাঠের চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে নেড়ে গলিয়ে নিন।
-সোপ বেজ সম্পূর্ণ গলে গেলে তাপ থেকে সরিয়ে নিন এবং দ্রুত অন্যান্য উপাদানগুলো মিশিয়ে দিন। ওপরে একটু ফেনার মত উঠলে সেটা চামচ দিয়ে ফেলে দিন।
-আপনার পছন্দমত যে কোন ছাঁচে আগে থেকেই অলিভ অয়েল মেখে রাখুন। সমস্ত উপাদান মেশানো সোপ বেজ সেই ছাঁচে ঢেলে দিন।
-ঠাণ্ডা হতে দিন। ২৪ ঘণ্টা শেষ হবার আগেই দেখবেন তৈরি আপনার নিম সাবান! ছাঁচ থেকে বের করে সাধারণ সাবানের মতন ব্যবহার করুন।
এই নিম সাবান ১০০ ভাগ নিরাপদ কারণ এতে আছে ঘরে তৈরি করা নিমের রস। এই সাবান নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক পাবে প্রাকৃতিক নিমের সকল গুণ এবং ক্রমস মিটে যাবে ত্বকের সকল সমস্যা।
তথ্যসূত্র:
লেখক রসায়নবিদ্যায় স্নাতকোত্তর।

রোদ পোহালেই দুর হবে যৌনসমস্যা ! পড়ুন তাহলে

পৃথিবীতে যে রোগের ওষুধ হিসেবে মাটির বড়ি বানিয়ে বিক্রি করলেও ক্রেতার অভাব হয় না, সেটা হলো যৌনঅক্ষমতা। এর জন্য টাকা খরচ করতে পিছুপা হয় না কেউ। কিন্তু রোদ পোহালেই বাড়তে পারে পুরুষের কামশক্তি। গবেষকরা তো তাই বলছেন। অস্ট্রিয়ার গ্রাজ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, পুরুষের রক্তে যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন ভিটামিন ডি-র মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়৷ আর ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎস হল সূর্যালোক৷ ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে রক্তে ভিটামিন ডি এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়৷ এছাড়াও ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস হল মাছ এবং মাংস৷ গবেষকেরা জানিয়েছেন, রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ যত বেশি হবে পুরুষের যৌন ক্ষমতা তত বাড়বে৷

গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যালোকের সাহায্যে পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়৷ পুরুষের যৌনতার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন৷ এই হরমোনটিই যৌনতার চরিত্র, শুক্রাণু উৎপাদন ও পুরুষের যৌন চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ তবে গায়ে রোদ লাগানোর ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সকালের মিষ্টি রোদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য্যের আলোতে বাড়তে থাকে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব। এটা ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টিসহ নানা শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>